আজ ৩ আষাঢ় ১৪২৬, রবিবার

পাট-শিল্প
- অধ্যাপক আব্দুস সালাম

পাট ছিলো এই বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল,
অন্য কিছু ছিলো নাকো ইহার সমতুল।
বাংলাদেশের বউ-ঝিয়েরা বটতো পাটের সিকে,
নকশী সিকে সুনাম যেতো ছড়িয়ে চতুর্দিকে।
রইত তোলা বালিশ-দোলায় নকশী উপাধান,
নজর-কাড়া নকশী দোলাই কার সে অবদান?
এই দেশেরই মা-বোনেদের আকুল অবেগময়,
কাঁন্না-হাসি উঠলো ফুটে গোটা শিল্পময়।

রাঙ্গা হাতে তুলতো তাতে হরেক রকম ফুল,
সেই ফুলেতে উঠতো মেতে মুগ্ধ অলিকুল।
শাউড়ী-শ্বশুর, দেবর-ভাসুর এবং পাড়ার লোক,
সবাই এসে দাওয়ায় বসে দেখতো মেলে চোখ।
পাটের দড়ি, পাটের খাড়ি, ঘুঙুর পরে গলে,
উচ্চস্বরে, শব্দ করে বলদ ছুটে চলে।
পাট শিল্পের ওয়ালমেট ও পাপোশ নানা রঙে,
রাঙিয়ে মাটির দিয়াল-মেঝে উঠতো জ্বলে রঙে।

বঙ্গনারী করতো জারি শিল্পে মনের ভাব,
পাঠশিল্পের পদোন্নতি সেই থেকে উদ্ভব।
পাটের দড়ি পাকিয়ে গাছি কাটতো খেজুর গাছ,
পাটের কানাচ বেঁন্ধে ভাঁড়ে আনতো মিঠে রস।
পাটশিল্পে ধন্য এ দেশ বিশ্ব-সেরা নাম,
বঙ্গনারীর বদান্যতায় অর্জিত সুনাম।
পার্টেক্সতো পাটশিল্পের নব্য অবদান,
পাটশিল্প বাংলাদেশের বাড়াইলো সম্মান।

মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ