আজ ২৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার

"বাঁওড়"
- Md. Osmangani shuvo

ছায়া ঘেরা সবুজ ভরা মোদের ছোট বাওড়
জেলে ধরে বড়ো বোয়াল, ছেলেরা মারে দৌড়।
আষাঢ় -শ্রাবণ ভরা পানি, চৈত্রে করে খাঁ-খাঁ
সোনালী তরঙ্গের ঢেউয়ে ভরা, নাহি কোনো শাখা।

অথৈ পানি চারি ধারে তার যে করে টলমল
হালকা রৌদ্রে ঝিকমিক করে,করে ওঠে ঝলমল।
বকের ঝাঁকেরা উড়ে বেড়ায়, করে সুন্দর কলরব
জলের জালে পড়লে কাতল,বেড়ে যায় যে জনরব।

গভীর জলে ভাসায় ভেলা নবীন-তরুণ ছেলেরা
বৃষ্টি হলে শামুক কোড়ায় সুন্দরী -তরুণী মেয়েরা।
বন্যার সৃষ্টি করে একটু বেশি বৃষ্টি ঝরায়
বাঁওড় ধারের লোকেরা বলে,"মরণ এসেছে ধরায়"।

কৃষক তাঁহার কাঁচা পাটের বোজাই ফেলেন বাওড়ে
কখনো তাঁহার সর্বস্ব যায় যে ভীষণ স্রোতের তোড়ে।
ছেলে-মেয়েরা গোসল করে অথৈ পানি পেয়ে
মায়েরা তাদের শাসন করে চিকন লাঠি দিয়ে।

কূলও আছে, কিনারও আছে, আছে অথৈ পানি
কেউবা ফেলে শিশুর বর্জ্য, মোরা সেটা জানি।
জলের উপরের নির্মল বাতাস ক্লান্ত করে মনের
জলের ধারে গেলে সবার মনে পড়ে স্ব-জনের।

জলের ধারের বাস্তু-ভিটা গিয়েছে সে তো জলে
আমণ-আঊশ হয়নি তাই তো দুর্ভিক্ষ হবে ফলে।
জলের স্বচ্ছ কাঁচে দেখা যেতো ধানের শিরা
কাজের খোঁজে নড়াইল গেলে হতো না বছরে ফিরা।

বাঁওড় পানি লুকায় শেষে সুন্দর সোনাই নদীতে
মৎস বিক্রি করে অনেকে বসে টাকার গদীতে।
বাঁওড়ের মাঝে গর্ত খুঁড়ে দেখায় গায়ের শক্তি
এসব দেখে নিরীহ গরীব মানুষের কমে ভক্তি।

পদ্ম ফোঁটে বাঁওড়ের জলে, আরো ফোঁটে কলমি
সবাই পরিশ্রম করে তবুও যায় না অলসের আলসেমি।
বাঁওড় পাড়ে বসত করে আগামীর দুরন্ত শিশু
সু্যোগ পেলে লোকে করে বাঁওড় পানিতে হিসু।

দুঃখ থাকে সুখও থাকে মোদের বাঁওড় পানিতে
গ্রাম্য বধূ কখনো যায় যে কলস নিয়ে আনিতে।
এ-কাল থেকে ও-কালে রয়ে যাবে মোদের বাঁওড়
ভোলা মাঝি পথও হারাবে, থাকবে নিয়ে সে-দাড়।

মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ