আজ ৩১ ভাদ্র ১৪২৬, রবিবার

পরীক্ষার শেষে
- মোহাম্মদ তন্ময় সাত্ত্বিক - বেরসিক জীবন

কোন এক বিশেষ পরীক্ষার শেষে,
যে পরীক্ষায় তার ও আমার দেখা হওয়া সম্ভব -
সেই পরীক্ষা শেষ করে ফিরছি আমরা,
শৈলকূপা থেকে গাড়াগঞ্জ;
ট্যাক্সিতে মুখোমুখি বসে দুজনে।
ট্যাক্সি চলেছে ট্যাক্সির মতন
আমাদের কথাও চলেছে আমাদের মত,
বড়ই ছেলেমানুষি কথা-
কতক আত্মীয়তার, কতক বন্ধুত্বের,
কতক বা শুধুই কথা কাটাকাটির,
ভালোবাসার নয়ই,
ভালোবাসার কথা বলা হয়ে উঠে না-
না বলে সে, না বলি আমি
অনেক কথা হয়- তবুও নয়।

একসময় ট্যাক্সি গাড়াগঞ্জ এসে পৌঁছে
দুজনের পথ ভিন্ন হয়ে যায়,
সে নেমে যায়- উঠে আরেক ট্যাক্সিতে
তারপর সে যায় সোজা উত্তর দিকে
আর আমি দক্ষিনে,
আমি একদৃষ্টিতে চেয়ে রই সেদিকে।
সে চলে যায়- যাকে আমার অনেক কথা বলার ছিল,
কিন্তু বলা হলো না কিছুই!
কখনো কি বলা হবে, না হবে না?
কখনো কি সে বুঝবে নাকি বুঝবে না!

তার ট্যাক্সি চলতে শুরু করে
আমি তাকিয়ে রই সেদিকে,
মনের অজান্তেই দুফোঁটা চোখের জল গড়িয়ে পড়ে।
একসময় সে অদৃশ্য হয়ে যায়
চোখের জল তখনও শুকায় না,
ভালোবাসা ফুরায় না,
তাকে মনে পড়ে ঘুমে- জাগরণে,
বইয়ের পাতার মধ্যে,
ক্রিকেটের বলটাকে কখনো মনে হয় চিতৈ পিঠা-
কেউ যেন আমার দিকে ছুড়ে দিচ্ছে,
আমি দ্বিধায় পড়ি ;
চিতৈ পিঠা আমি খাই না,
কিন্তু সে যে দিতে চায় ;
তাই হাত বাড়াই আমি।
কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে যায়-
আর ভুল হয় খেলা,
মারার বলে করি ডিফেন্স
ডিফেন্সের বলে খেলি স্ট্রোক
উপরে যায় আমার স্টাম্প-
এলোমেলো হয় খেলা,
এলোমেলো হয় আমার সারা বিকাল।

ভয়ার্ত সন্ধ্যায়ও সে আসে
আসে আমার সমস্ত ভয়কে জয় করতে
আর যায় ভয় আরো বাড়িয়ে দিয়ে,
এ এক বিচিত্র ভাবনা, বিচিত্র অভিজ্ঞতা,
বিচিত্র বাসনার রেশ,
কিন্তু সে রেশ কাটে না-
আমাকে সে প্রেমিক বানায়,
বানায় পাগল!

০৩ মার্চ ২০০৮
কাঞ্চননগর, ঝিনাইদহ

মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ