আজ ৩১ ভাদ্র ১৪২৬, রবিবার

কবি হব বলে
- মোহাম্মদ তন্ময় সাত্ত্বিক - বেরসিক জীবন

শুধুই কবি হব বলে
কত কিছুই না ছেড়েছি- কত কিছ্ইু না ধরেছি
এক জীবনে!
যে আমি ক্রিকেটার হব বলে
সকাল বিকাল ব্যাট বল নিয়ে
ছুটেছি খেলার মাঠে,
সেই আমিই কিনা সব গুটিয়ে
বইয়ের দেশে নিজেকে করেছি আপন-
কবিতা শিখব বলে।

ভালোবেসে যারে আপন করেছিলুম
তার সাথে আমি পারি নি বাঁধতে ঘর-
শুধুই কবি হবার আশে,
কেননা সংসার সেতো মায়ার ছলনায়
আমার সকল সময় করবে হরণ,
নিজ হাতে তাই দিয়েছি প্রেমের কবর!

তারপর থেকে-
ভোরের শিশিরস্নাত ঘাসে, গাছের পাতায়,
দুপুরের খাঁখাঁ রোদে পিচ ঢালা রাস্তায়,
পড়ন্ত বিকেলের মায়াবী বসুন্ধরায়
কিংবা শীত-বর্ষার রূপালী বৈচিত্রে
আমি খুঁজে চলেছি কবিতার উপমা,
কতক ছন্দময়- ভাবগাম্ভীর্যময় বাক্য-
যা মানুষকে বিমোহিত করতে জানে!

জীবনের প্রতি বাঁকে বাঁকে আমি কবিতাকে খুঁজেছি,
সুখের অপার উচ্ছলতায় কিংবা
দুঃখের নীলোচ্ছল ঢেউয়ে।
তারপর আমার ছোট্ট কামরার
ঘুনধরা কাঁঠাল কাঠের টেবিলে মুখগুঁজে
দক্ষিণের জানালা গলে আসা চাঁদের আলোয়
আমি লিখেছি মনোরম রাত্রির কবিতা।

প্রেমের, ভাবের, মনের সুপ্ত বাসনার
কত কবিতায় না লিখেছি!
ডাকযোগে পাঠিয়েছি সাহিত্য পত্রিকায়,
ঘুরেছি প্রকাশকের দ্বারে দ্বারে-
কিন্তু কেউ ছাপেনি সেই কবিতা।
অথচ অন্তঃপ্রাস-ছন্দ কোনকিছুরই ঘাটতি ছিল না,
বরং ছিল তাতে ভাবের গভীর পরিণতি।
তবে কি প্রকাশকের কাছে এর চেয়েও
ভালো কবিতা জমা পড়ে?

আবার তাই বসতে হয়েছে আমাকে,
প্রকাশকের পাকা চোখকেও ছানাবড়া করতে জানে
এমন কবিতা লেখার সংকল্প নিয়ে।
লিখেছি, ছিঁড়েছি আবার লিখেছি,
কত জনাকেই না পড়াতে চেয়েছি-
কালে-ভদ্রে কেউ কেউ পড়েছেও,
তবুও কবিতার হয় নি কোন গতি!

তাই বলে মনের কবিত্ব মরে নি,
সে ক্ষণে ক্ষণে জেগে উঠে-
কোন উদাস দুপুরে পাখির করুণ ডাকে,
চাঁদনী রাতের মাতাল হাওয়ায়
কিংবা গাড়াগঞ্জের মোড়ে দেখা
ললনাদের সুন্দর মুখের অবয়বে!

শুধুই কবি হব বলে-
বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন
সবাইকে করেছি পর।
নাবিক নামের রুদ্র কঠোর বেশে
কিঞ্চিৎ অর্থ লাভের আশে-
দুর পরবাসে একলা গড়েছি ঘর।
তবুও পারি নি কবিতার বই ছাপতে!
তেরোটা বছর ধরে কবি হবার বাসনায়
সব হারিয়ে আজ আমি নিঃস্ব,
কিন্তু কেউ আজও আমায় কবি বলে নি!

জানি না কি বলে শেষ করব আমার কবিতা,
আজ ধিক্কার জানাতে ইচ্ছে করে সেই কবিত্বকে-
যা বারো বছরের প্রাণোচ্ছল যুবককে
কবি হবার প্রলোভনে ফেলে
কেড়ে নেয় তার সব সুখ, তাকে করে ফেলে
পৃথিবীর সকলের থেকে আলাদা!

আজ তেরো বছর পরে-
যখন আমার না আছে লেখাপড়ার বড়াই
না আছে অন্য কোন যোগ্যতা,
না আছে প্রেম, না আছে প্রেমে পড়ার মানসিকতা!
তখন আফোঁটা কলির মতই ঝরে পড়ার আশঙ্কায়
হুহু করে কেঁদে উঠে মনটা!

০৯ নভেম্বর ২০১৩
ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট

মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ