আজ ২ আশ্বিন ১৪২৬, মঙ্গলবার

যেভাবে বার্ধক্যের ঔরসে জন্ম নেয় বার্ধক্য
- শৈবাল শিশির

বাঙালিদের জীবনে ঠিক যৌবনটা আসে না
কৈশোর আসতে নাহ আসতে বার্ধক্যে পা বাড়ায়
যৌবন আসার আগেই কণ্ঠরোধ করা হয়
পরিণামে গলা টিপে হত্যা
এ সমাজ যৌবন বলতে বোঝে
মিনিট চার-সাতেক গতর খাটুনি
তথাকথিত যৌবনে আসে নতুন মুখ
এই স্তন্যপায়ী শিশুটি এক-পা দু-পা করে
পৃথিবীর বুকে হাঁটতে শেখে
মাটি আঁকড়ে ধরে
রূপ-রস-গন্ধে মুগ্ধ নয়নে
নতুন পথে এক কদম বাড়ালেই
বার্ধক্যে জর্জরিত মা চিৎকার করে ওঠে
ওরে, খোকা যাসনে
বাঘ-ভালুকদের বাস ওখানে
কৌতূহলী খোকা উঠোন পেরিয়ে
দূর জঙ্গলে চেয়ে থাকে
বাঘ-ভালুক আবার কি বস্তু?
কেমন দেখতে? ভাত খায়?
ধরতে চেয়ে বাকি পা-খানা বাড়াতেই
ধুপ করে শব্দ হয়, খোকা ভ্যা করে কেঁদে ওঠে।
খুকী বলে, ভূত!
ও আবার কি?
ভূত আসলে আমার কি?
আমি ভয় পাই নাহ
চুপ! গর্জন আসে
আর একটু বাড়ন্ত হতেই
অ-তে অজগর, অজগরটি আসছে তেড়ে
আ-তে আম, আমটি আমি খাবো পেরে
বলে ওঠে, অজগর কি?
উত্তর আসে সাপের রাজা, মানুষ খায়
কই থাকে?
বইয়ের পাতায়
চোখ সরু করে আবার শুরু করে
ই-তে ইদুর, ইদুরছানা ভয়ে...।

কলকলিয়ে খলখলিয়ে দুরন্ত কৈশোর আসে
নাহ! দুরন্ত নয় শান্ত।
দশজন বলে আপনার বাচ্চা তো খুব ভদ্র
পাথর ভেঙ্গে বিজয়ী হাসি আসে
এ সমাজ উচ্ছলতা-কে বলে উশৃঙ্খল
দস্যিপনা-কে দুর্ধর্ষ
কল্পনা-কে বলে দিবাস্বপ্ন
সপ্তচুড়া ডিঙ্গাতে চাইলে বলে আকাশকুসুম
চাঁদ ছুঁতে চাইলে বলে পাগলামি
এ সমাজে যৌবন আসে
পোশাকে-শরীরে-বিলাসিতায়
যৌবন আসে অণ্ডকোষ বেয়ে জরায়ুতে
স্তনের বোঁটা বেয়ে ঠোঁটে-মুখে-লালায়
এই লালা যৌবনকে ভক্ষণ করে
অতঃপর, বার্ধক্যের ঔরসে জন্ম নেয় বার্ধক্য।

যৌবনের গান গেয়ে লেজকাটা শেয়ালরা
সমাজ গড়ে, দেশ চালায়
নতুন নতুন নিয়ম জন্মায়
উন্নতি ছিনবে বলে।

মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ
শৈবাল শিশির
২৬-০৮-২০১৯ ১৮:৫৬

যেভাবে বার্ধক্যের ঔরসে জন্ম নেয় বার্ধক্য- ইচ্ছা হলে পড়ে দেখতে পারেন। ধন্যবাদ।

শৈবাল শিশির
২৬-০৮-২০১৯ ১৮:৫৬

যেভাবে বার্ধক্যের ঔরসে জন্ম নেয় বার্ধক্য- ইচ্ছা হলে পড়ে দেখতে পারেন। ধন্যবাদ।