আজ ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, শুক্রবার

পিন্ডদান
- ACHINTYA SARKAR/অচিন্ত্য সরকার[পাষাণভেদী]

পিন্ডদান
অচিন্ত্য সরকার

সকালের শিশির ভেজা দুব্বার কোলে ঢলে পড়ছে রাত জাগা ক্লান্ত শিউলি।সাদা মেঘ পানসিরা পাল তুলেছে নীল আকাশ গাঙে। মন্ডপে মন্ডপে ঢাকে কাঠি পড়েছে।আলোর রোশনাই এ ঝলমল করছে দশদিক।রতন বাবুও আজ অনেকটা নিশ্চিন্ত।বিকেলেই দেখেছেন চারটে টিকিটই কনফার্ম হয়ে গেছে।বিজয়া দশমীর পর দিনই বৌ ছেলে মেয়েকে নিয়ে বেরিয়ে পড়বেন উত্তর ভারত সফরে।পনের দিনের প্যাকেজ.......
তবে চিন্তা একটা আছেই।বুড়ি মাকে নিয়ে।কোথায় যে রেখে যাবে।গতবার দক্ষিণ ভারত বেড়ানোর সময় মা কে ঘর বন্দি করে রেখে,পাড়ায় বেশ বদনাম হয়েছিল।এবার অবশ্য কাজের বৌটাকে রতন বাবুর স্ত্রী রমা গোপনে বলা রেখেছে শ্বশুড়িকে যেন তার বাড়ি নিয়ে রাখে........
নবমীতে দেদার খাওয়া দাওয়া।রমা শ্বাশুড়ীর ঘরে ভাতের থালা টা সশব্দে রেখে বললে,"বয়েস হয়েছে,বুঝেসুঝে খাবেন......কোন ঝুক্কি পোহাতে পারবো না বলে রাখছি।"
বৌমা চলে যেতে কমলাদেবী দেখলেন ভাতের মধ্যে খানিকটা মাছের কাঁটা দেওয়া ডাল আর থালার ওপর বসানো একটা ছোট্ট বাটিতে এক টুকরো চিটেল মাংস,একটা আলু আর ঝোল।ভুতি দিয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে তা জব্দ করে কার সাধ্য......এর চেয়ে তাকে যদি এক চামচ দই দিয়ে ভাত দিতো....কতো দই মিষ্টি তো আছে ফ্রিজে.......
রাত দশটার দিকে হঠাৎ কমলাদেবী বুকের ব্যথার ছটফট করতে লাগলেন।
রমা ওঘর থেকে চিৎকার করে বলতে লাগলো,"বয়স হলে একটু লোভ সংবরণ করতে হয়.......যত সব ঝঞ্ঝাট..."
কিছুক্ষণ বাদে রতন গ্যাসের বড়ি আর ঘুমের বড়ি দিয়ে বলল," নাও,ওষুধ গুলো খেয়ে চুপচাপ ঘুমিয়ে পড়....রাতে আর বিরক্ত করো না......পরশু ভোরে ট্রেন.....ভাল্ লাগে না...."
সকালে কাজের বৌটা ঘরে ঢুকে দেখে তক্তাপোষ থেকে নীচে পড়ে মরে আছে কমলাদেবী।খবর পেয়ে রমা বলল,"বুড়ি মরার আর সময় পেল না!মরবিনে মরবিনে একেবারে বিসর্জনের দিন......সারা জীবন জ্বালালো,শেষে মরে আমাদের যাত্রা ভঙ্গ করলো.....দুগ্গা দুগ্গা বালাই সাট......."
তাড়াতাড়ি দু'চারজন লোক ডেকে মৃতদেহ দাহ হলো,ট্যুরটা যদি কোন ভাবে করা যায় .......রাতে রমা ও রতন পরামর্শ গভীর করলো........
সকালে প্রতিবেশীরা এসে দেখলো বাড়ি ফাঁকা.......কাজের বৌটা বলল,"বাবুরা তো গয়ায় পিন্ড দিতে ভোরে ব্যাগ প্যাটরা নিয়ে বেরিয়ে গেছে........"(শ.স.311)

মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ