আজ ৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, বৃহস্পতিবার

নাটকীয় উপসংহার
- বায়েজীদ হোসেন বাদশা

ধরো একদিন হটাৎই সন্ধ্যেবেলা,
নয় নম্বর গলির মোড়ে তুমি দাঁড়িয়ে,
কারও অপেক্ষায়? আর কত!
মোড়ের এপারেই তো আছো দাঁড়িয়ে,
কিন্তু কি অদ্ভুত ব্যাপার দেখোতো!
এপারে কোনো সিগারেটের দোকান নেই।
কেন জানিনা এক্ষুনি সিগারেটটা দরকার,
সে যাবার পর সিগারেট এসছে নাকি?
খেয়ো না, বাদ দাও, মরে যাবে!
ধুর সে পরে দেখা যাবে, এখন তো দরকার।
মরেই তো আছি, আর কতটা মরবো!
ওপারে দেখছি সিগারেটের দোকান আছে।
তাড়াহুড়ো নেই, রাস্তাটা পার হই।
গিয়ে একাকীত্বের বন্ধুকে নিয়ে আসি।
পার হচ্ছো,ধরো বা পাশ থেকে হটাৎই,
হরেক রকম ফুল দিয়ে সাজানো সাদা গ্লাসের-
গাড়ি এসে এক ধাক্কায় ছিটকে দিল দূরে,
কয়েক সেকেন্ড হাত-পা ছড়াছড়ি,
তারপর তুমি সারাজীবনের মত নীরব।
একটু আগে যে তুমি বেঁছে ছিলে,
সে তুমি এখন মৃত,ভাবতে পারো!
কিভাবে ভাববে, মরেই তো গেলে।
চারিপাশে লোকের ছোটাছুটি, সরাগম।
গাড়ি থেকে অবশ্য নামলো কয়েকজন,
গাড়িতে কে ছিল জানো?
মৃত মানুষ কি আর জানতে পারে?
গাড়িতে ছিল বিয়ের সাজে সেজে থাকা-
তোমাকে অপেক্ষায় রেখে চলে যাওয়া সে!
তার আজকে বিয়ে হয়েছে,তোমার মৃত্যুর দিনে।
তুমি দেখতে পারলে না, কখনো পারবেও না আর।
ভালই হলো না দেখে, দেখলে তুমি মরেই যেতে।
সে আর আগের সাজে নেই, নেই কিছুই,
পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখতে গিয়ে,
মাথার ওই এক চিলতে সিঁদূরে আটকে যেতে।
তখন তো জীবীতাবস্থায় মরেই যেতে।
সে এই ভীড়ে নেমেছিল গাড়ি থেকে,
তোমাকে দেখেও নিয়েছে শেষবার।
কিছু বলেনি, নীরবে দাঁড়িয়ে দেখেছে,
শুধু কয়েক ফোঁটা চোখের জল ঝরিয়েছে।
জড়িয়ে ধরেনি রক্তে ভেসে যাওয়া তোমাকে,
সে তো এখন অন্যের সাত পাকে বাঁধা,
শুধু ক্ষনিকের জন্য এই চোখের জল।
তোমার কথা তার মনেই থকবে না,
হয়তো আজকের এই মৃত্যুর দিনটাও না!
তার সবকিছু আবার ঠিক হয়ে যাবে।
কিন্তু তোমার কি কিছুই ঠিক হবে?
মৃত মানুষের কি ঠিক হয় কিছু!
সেও বিদায় নিয়েছিল, তুমিও নিয়েছো।
সে বিদায় নিয়ে অন্যের বুকে মিশে,
আর তুমি গেছো মটির বুকে ভেসে।
আজকে তার বিয়ে হয়েছে, কি আনন্দ!
আজকে তার চিরসুখের দিন,
আর তোমার মৃত্যু শোকের দিন।
একজন হলো সুখী, আর অন্যজন ওপারের পরবাসী।
কি দরকার ছিল নাটকীয় উপসংহার?
যখন সূচনাই ছিল নাটকীয়!

মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ