আজ ৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, বৃহস্পতিবার

ভিন্ন ঈশ্বর
- বায়েজীদ হোসেন বাদশা

বিংশ শতাব্দীতে মানুষের বোধের জগতে
বিভেদ এঁকে জাত-ভেদের আসনে বসিয়ে,
অসহায় করে ছেড়ে দেয় যে সভ্যতা--
আমি সে অসভ্য সভ্যতার গর্ভাশয়ে,
জন্ম নেয়া এক জীবন্ত পুত্তলিকা!
আয়ূ রেখায় আজীবন জন্মান্ধ আমি,
আর ও ছিলো বাকহীন সরল প্রতিমা।
আমি দেয়াল ভেঙে ওর দুটি হাত-
আপন আশ্বাসের মুঠোয় ছুঁয়েছিলাম,
রোদ্দুর জ্বলা এক ভাদ্রের দুপুরে!
সে ছোঁয়াতে ছিলনা কোনো পাপ।
আকাশের মিঠে রোদ, সাদা মেঘ,
চারিদিকের এক মুখরিত শুভ্রতা--
আমাদের ডেকে বলেছিলো, এসো!
সে ডাকে সত্য ছিলো, ছিলো প্রেম।
আমার চোখে রোদ্দুর দেখেছিলো ও,
আর চুলে নিয়েছিলো মেঘের ঘ্রাণ,
ওকে আপনারা চিনলেন নাতো?
ও কোনো পিশাচ কিংবা জাদুকর নয়,
প্রজাপতি কিংবা বিষাক্ত কীট নয়,
ও রক্তে মাংসে গড়া মানুষ ছিলো।
ও আর কেউই নয়, আর কিছুই নয়,
ও ছিলো আমার রক্তকেশী ভগিনী!
ও মন্দিরে যেতো, আর আমি গির্জায়।
এতটুকু পার্থক্যেও বুঝনিতো আমি-
ওর ঈশ্বর, আমার ঈশ্বর এক নয়, দুই!
সে তফাত ভুলতে গিয়ে ভুলেছি সে মাপ,
যে মাপে সৃষ্ট বিবেকের ভিন্ন ঈশ্বর!
আর অবাক বিস্ময়ে নিয়েছি মেনে-
নিয়ম ভাঙার নিয়মই মেকি অসভ্যতা!
সেই থেকে আমি ঘর ছেড়েছি,
পর করেছি অবাক বোধের জগত।
রাত্রির অন্ধকারে ছিড়ে নিয়েছি,
বুকের উর্বরতা ছেড়ে শীতল হৃদয়!
বিশ্বাস করো প্রিয়তমা আমার,
সেদিন থেকে যাযাবর আমি--
যেদিন দেখি অনভ্যস্ত ব্রেসিয়ারের নিচে,
বুকের পর্দাঢাকা হৃদয়টাকে খুলে দিলে।
আর বেয়াড়া তোমার ঐ অধর দিয়ে
রাত্রির অন্ধকারে শুধালে কতো কথা!
সেদিন থেকে যাযাবর আমি--
যেদিন রাতে দেখি তোমাদের উঠোনে,
রাজকীয় জলসার বড় ঘোর কলরব।
ক্যামেরার কালো ভীড়, রঙিন লাইটিং,
ফুর্তিফার্তা আর রক্তিম সিঁদুরের হলি!

মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ