আজ ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, রবিবার

ভিন্নরূপী দুই প্রতিমা
- মশিউর ইসলাম (বিব্রত কবি)

ছিমছিমে নতুন বর্ষায় পুটিমাছ
কিংবা ডাহুক,পানকৌড়ি!
বরশিতে আটকে পড়া মাছের মত,বন্দুকের নলের আঘাতে মৃতপ্রায় অতিথি পাখির মত,পড়ে আছি আমি!
কত অজ্ঞাত,অচেনা,পাহাড়ি পথ পেরিয়ে কত সহস্র বাধা,সংহতি এড়িয়ে এক প্রতিমাকে রেখে সম্খুখপানে!
যাতনায় তৃষ্ণার্ত আমি মরছি ধুকে।
গুমোট সন্ধ্যায় যে প্রতিমা বিসর্জ্জন দিয়েছে তার ভালোবাসা দৃঢ় মনে,
সে প্রতিমা অনৃতবাদী তবু তার অন্তঃপুরে মোর ভালোবাসা যে আঘাত হানে।
বারংবার রিক্ত,শূন্য হাতে ফিরিয়ে দিয়েছি কোন না জানা ঝংকারে,
বুঝিনি,আমি একটুও বুঝিনি তখন আঘাতে চাঁদমুখ কতখানি ব্যথিত,কত যে হত পাগলপারা;
মোর বিহনে কি পরিমান অবিরাম ঝরায় অশ্রুধারা।

গায়ত্রী,গিরিসার পার্বতী গুণ
তব গুঞ্জ,পুঞ্জ স্নুহীবৃক্ষ স্বভাব!
এই প্রতিমাকে এড়িয়ে চলেছি কুষ্ঠি না গুনে,
কি করবো;আমিও যে এক গিরিনন্দিনীর অনুগামী!
অবুঝ,অন্যমনস্ক এ হৃদ আসনে অন্য প্রতিমারে বসাই কেমনে?
বুঝতে পারিনি,যে ললনা ছলনায় ভালোবেসে মোরে দূরে সরে রয়,
দিশেহারা,দিক্বিদিক হয়ে উন্মাদপ্রায়,সে প্রতিমার লাগি এ হৃদয়!
যে প্রতিমা ভালোবাসে মোরে মনে প্রাণে,আমি যে বাসিনি তারে,
যে প্রতিমা ভালোবাসে না মোরে,আমি বাসি কেন সে প্রতিমারে?

তুষ্ট শিষ্ট যাযাবর আমি তৃষ্ণীম্ভূত
তুষাগ্নিতে বুমেরাং ঋষি ভবিষ্যত!
কয়েক যুগের অবসাদ চেপে জ্যান্ত ভিটায় বেদনার রং নীল হয়ে যায় প্রত্যহ দিন-রাতের মাঝে,
নিথর,নিস্তব্ধ এ জীবনে ভালোবাসা কি আমার সাঝে?
যে ভালোবাসা দিয়েছে মোরে এক গোলা ভরি তার নিবেদন চিরহরিৎ নীলাভ হয়ে গেছে বিষাদ সিন্ধুময়,
নিজ মনুষ্যত্বে ধীরে হয়ে গেছে তীব্র বিখণ্ডায়নীয় অবক্ষয়!
আর আমি!অনুগামী ছিলাম যার,চলে গেল সে প্রতিমা!
ফিরে না এলো আর।
আসলে,আমি কি এতটাই কদাকর,কুৎসিত,জঘন্য?
তুমি প্রতিমার ভালোবাসার অযোগ্য,নগন্য?
অসম্পূর্ণ আর এত জঘন্য হতো না এ গল্পকাহিনী,
হতো নগন্য -
যদি বহু আগে হতাম আমি এ পরিস্থিতির শরণাপন্ন।









নিরিবিলি, নবীনগর
২৩-৫-২০২০

মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ