আজ ২১ আষাঢ় ১৪২৭, সোমবার

বিদায়টা ছিলো এলোমেলো
- মুরছালীন উচ্ছ্বাস

সালটা ছিলো তের,মার্চের ষোল;
চৈত্রের শুরুতে, ওরিয়েন্টেশন হলো।
সাড়ে ছয়শো পুষ্প, ঐদিন ফুটেছিলো;
দেবদারুর ক্যানভাসকে, আলোকিত করেছিলো।

তারপর অনেকপথ,জমানো হয়েছে পাড়ি;
পুষ্পগুলো নিজেদের ,করে নিয়েছে ভারী।
আমাদের বন্ধুত্ব, শুরুতে ছিলো এলোমেলো;
খাপছাড়া সম্পর্ক, আর রাজনৈতিক দ্বিধাদ্বন্দ্ব।
ভাবতেও অবাক লাগে,সাথে একটু হাসি;
সময় আমাদের করেছিলো, রাজনৈতিক কল্পনাবিলাসী।
সেটা ছিলো শীতল যুদ্ধ, বন্ধুত্বে ফাটল;
কিন্তু,আমি বলি পরীক্ষা,করেছে আসলে অটল।

মনে পড়ে,হলের ছাদে,গভীর রাতে;
মেতে উঠতাম উল্লাসে, কাটিয়ে সময় আড্ডাতে।
শাহাজাদার গিটারে,জনিবাডির কণ্ঠে;
ভাসিয়ে দিতাম চিৎকার, নির্মল বাতাসে।
রাশেদব্রো ওইসময়, ভালোবেসে বলতো-
দাদু তোমরা ফাটিয়ে দাও, মরু উর্ধ্বে ছড়িয়ে দাও।

রিফাত বন্ধু মাঝে-মাঝে, হল পানে আসত;
কখনোবা আমাদের সাথে, অবকাশে যাইতো।
সঙ্গ দিতে নবোদা,ক্যামেরা হাতে সর্বদা;
মুহূর্ত গুলো ফুটিয়ে তুলতো আসলে, চোখযন্ত্রের পর্দা।

আহা! এভাবেই যদি কেটে যেত-
সময়গুলো অবিরত;
অবশেষে হয়তোবা,
হতাম আমরা ক্লান্ত।
কিন্তু হায়!
একি মিথ্যা মনোবাসন।

এক্ষেত্রে প্রেক্ষাপট, কিছুটা ভিন্ন,
পরাজয় আর গ্লানিতে, ছিলো পরিপূর্ণ।
বিদায়টা ছিলো এলোমেলো, বিক্ষিপ্ততায় ভরা;
বিদায় জানাতে কেউ কারো ডাকে, দেয় নি তখন সাড়া।

মনে হতে পারে,কী রুক্ষ,
বন্ধনহীন এ সর্ম্পক ;
কিন্তু,ওটাই ছিলো বুদ্ধিদীপ্ত,
অশ্রু লুকানোর অজুহাতে উপযুক্ত।

মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ
ফয়জুল মহী
০৬-০৬-২০২০ ১৪:২৭

Excellent

মুরছালীন উচ্ছ্বাস
০৮-০৬-২০২০ ০৬:৪৩

@ফয়জুল মহী, অনেক ধন্যবাদ।

মুরছালীন উচ্ছ্বাস
০৯-০৬-২০২০ ০৫:২৩

@আশরাফুল আলম আশরাফ,
অনেক ধন্যবা।

আশরাফুল আলম আশরাফ
০৮-০৬-২০২০ ০৮:৫১

বন্ধুত্বের অসাধারণ বর্ণনা।