আজ ২২ আষাঢ় ১৪২৭, মঙ্গলবার

স্বর্ণকুমারী
- মো. আব্দুর রাজ্জাক - অনুভূতির স্পর্শ

নি:সঙ্গ জীবনের দুর্বিসহ একাকীত্বের
অচলাবর্তে ঘুরপাক খেতে খেতে
মৃতপ্রায় জীবনটাকে আজ জীবিত মনে হচেছ।
এ আমার নবজন্ম, তোমার সচেতন সংবেদনশীল সত্তায়
আমি হিমশীতল সংকীর্ণ সীমার আবর্তে আবর্তি,
এক ত্রুটিপূর্ণ রসহীন বিবেকহীন পুরুষ।


নি:শ্ব জীবনের দুর্বিসহ একাকীত্বের বৃত্ত থেকে
বের করে আনার কী অদ্ভুত ক্ষমতা তোমার!
শক্ত , বলিষ্ঠ, শান্ত প্রকৃতির বেশ মার্জিত
রুচিসম্পূর্ণা তোমাকে সব সময় পাথরের মতো মনে হয়!
তোমার আচরণ বেশ ভদ্র, মার্জিত, কড়া মিস্টি
সিদ্ধান্তে অটল, পথ চলায় নির্ভীক,
কথাতে আত্ববিশ্বাসী
প্রত্যাশায় দৃঢ়তার এক অদ্ভুত মিশ্রন!


দিবালকের মত আলোময়, গোলগাল মুখ খানা
চাঁদের হাসি হার মানানো হাসি খুশি শোভন চেহারা
আভিজাত্য সুলভ স্বাতন্ত্য ভাব, সরলতার প্রাচুর্য্য ভরা
ভালোবাসাময় শুশোভিত গোলাপ তুমি!
যে গোলাপ বড় মলিন, বিবর্ণতার রুপ নিয়েছে
তবুও বলি, তুমি যেন মানবী নয়; দেবী অথবা অন্যকিছু!
তোমার বিদঘুটে হেয়ালীপনার ছোট চারা গাছটা ঘিরে
অজস্র সুতোর জট পাকিয়ে জটিল করে তুলেছে সময়!
ভয় হয়, যদি চেতনার সুতোগুলো অধৈর্য্যে ছিড়ে যায়!


এই ফাল্গুনে তোমার মনের বাগানে কোন ফুলকুঁড়ি নেই!
বসন্তের কোকিলের ভাকে কোন সাড়া নেই!
তবুও আপন মনে অবাধে ভেসে চলছে জীবন তরী!
বাইরের জগৎ থেকে নিজেকে ধীরে ধীরে গুটিয়ে
চারদেয়ালের মাঝে বন্দি তোমার উদাসিন্য,
ভাবে ভরা, মুখ খানা দেখতে মায়াবিনীর মত,
চোখের দৃষ্টি শূন্যতায় ভরা নির্জনতায় একাকার!
তোমার অকারণ অসন্তোষ প্রাণ প্রাচুর্যকে নষ্ট করে
আর জীবনের তরী অজান্তে প্রতিকুল ঘাটে ভিড়ে যায়।



পারিবারিক অদৃশ্য, অঘোষিত মানসিক দ্বন্দ্ব
অস্বস্তিকর প্রাচীর অন্ধকারের ছাঁয়ায় ঘিরে ধরেছে
আর; আত্ত্বকেন্দ্রীকতার বেড়াজালে বন্দী তুমি।
মায়ের প্রতি অপ্রকাশ্য ভালোবাসা,
পিতার প্রতি ক্রমবর্ধমান বিরাগ দেখে মনে হয়,
ভেতরে কুরে কুরে খাক হওয়া মমের প্রতিমা!
অব্যক্ত বেদনায় নিজেকে জড়িয়েছো বেশ
এ জন্য দায়ী তোমার খবরদারী মনোভাব আর জিদ,
অশান্ত আবেগ, উত্তেজিত নারী সত্ত্বা আর মানসিক উত্তেজনা।
অথচ তুমি হতে পারতে সফল চাকুরিজীবী অথবা আদর্শ গৃহিণী।


তুমি তো বেশ ভদ্র, অভিজাত বংশীয় সুন্দরী রমনী
তোমার গায়ের ত্বক সুন্দর আকর্ষণীয়, মসৃণ
চেহারাটা লম্বাটে ধরনের বেশ শান্ত এবং স্তব্ধ!
যার চোখ দু’টো বেশ উজ্জ্বল তীক্ষ্ণ ও স্বপ্রতিভ
যা নীরব আত্ত্বসমর্পণে ঢলে পরতে প্রস্তুত!
সব মেয়েই একদিক দিয়ে সংযত অবুঝ শিশু
যার বিপরীতে তুমি বা তোমার সত্তা নেই।


বয়স অনুপাতে তোমাকে খুব কম বয়সী মনে হয়
তোমার আত্তলেখনীর জন্য অদ্ভুত তৃপ্তি অনুভব
আমার লেখাকে আরো শাণিত করে যায়।
তোমার ভিতরটা সংবেদনীয় সহানুভূতিশীল
চেতনার প্রবাহকে বিপথে চালিত করে
আর, আমিও তাতে ক্ষত বিক্ষত বিহবল!

মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ