আজ ২২ আষাঢ় ১৪২৭, মঙ্গলবার

বিদ্যুৎ কুমার রায়
- মো. আব্দুর রাজ্জাক - চোখ

বিদ্যুৎ কুমার আমাদের সাথে পড়তো,
ছোট বেলায় ময়লা হাফপ্যান্ট
পরনে খয়েরি হাফশার্ট
পায়ে পন্সের সেন্ডেল, আর;
হাতে কতগুলো মলাটবিহীন বই
কখনো বোগলে, কখনো হাতে
আবার কখনো মাথায় নিয়ে
আমাদের সাথে স্কুলে আসতো!

পড়া পারতো না ঠিকঠাক মতো
শিক্ষক মশাই পড়া ধরলে
জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকতো
আমাদের দেখতে খুব কষ্ট হতো।

আমাদের স্বপ্ন ছিল কেউ ডাক্তার হবো
কেউ শিক্ষক হবো আবার কেউ উকিল
কেউবা বাবা মায়ের ইচ্ছে মতো ম্যাজিস্ট্রেট!

বিদ্যুৎ কুমার এসবের কিছু হতে চায়নি
বিদ্যুৎ কুমার স্বচ্ছ সমাজ হতে চেয়েছিলো
আমরা সকলে সকলের স্বপ্নমত শিক্ষক
ডাক্তার, উকিল, কেউবা ম্যাজিস্ট্রেট হয়েছি;
কিন্তু বিদ্যুৎ কুমার ভাঙ্গুরার বাজারে
স্যাঁতসেতে এক ভাড়া নেওয়া আঙ্গিনায়
সাইকেল মেকারের হেলপারের কাজ করে।

মাঝে মাঝে দেখা হয় কথা হয়
আমরা তার কষ্ট বুঝি
তার স্বপ্ন পূরন না হওয়ার বেদনা বুঝি।

আমরা সকলে সকল কিছু হলাম
যিনি ডাক্তার হলো তিনি শিক্ষক হতে পারতো
যিনি উকিল হলো সেও ম্যাজিস্ট্রেট হতে পারতো
যে যা হয়েছে তা না হয়ে অন্যটা হলে
তেমন ক্ষতি হতো না, সমাজ এতে বদলাবে না।

বিদ্যুৎ কুমার স্বচ্ছ সমাজ হতে পারলো না
এতে আজ নিজেরা বুঝি বড় ক্ষতি হয়ে গলো বাপু
সকলে সকল কিছু চায়
বিদ্যুৎ কুমারের মত স্বচ্ছ সমাজ কেউ হবে না!

স্বচ্ছ সমাজ আজ কত দরকার
স্বচ্ছ সমাজ কেউ হতে চায় না,
বিদ্যুৎ কুমার স্বচ্ছ সমাজ হতে চেয়েছিল
আমরা কেউ চাই না, আমরা টাকা চাই; টাকা।

মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ