আজ ২২ আষাঢ় ১৪২৭, মঙ্গলবার

মুক্ত চিন্তা
- জিয়াউর রহমান |জিয়া|

মানুষ কিসের এত অহংকার-?
যার শুরু একফোঁটা নাপাক পানি দিয়ে আর শেষ মৃত্তিকায়।
যে নাপাক পানির কথা মানুষের মুখে আনতে ঘৃণা লাগে, সেই নাপাক পানি থেকে সৃষ্টি আপনি/আমি/আমরা।
দুনিয়ার জমিনে তো আপনার আমার কোনো নাম/নিশানা ছিলনা।
কে আপনি-?কি আপনার পরিচয়-?আপনারা পিতামাতা কে-?এমন প্রশ্ন করার মতো কোনো সুযোগ ছিলনা।
তারপর যখন আমাদের মাতাপিতার মিলন হয়,
তখন বাবার শরীর থেকে একফোঁটা নাপাক পানি (শুক্রাণু)আর মায়ের শরীর থেকে একফোঁটা নাপাক পানি(ডিম্বাণু)কে মায়ের গর্ভে বপন করা হয়
সন্তান নামক বীজ হিসেবে।
নাপাক পানি থেকে রক্ত, মাংস তারপর শরীরের
অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গজাতে থাকে।

নতুন করে মাতৃগর্ভে উদয় হয় আপনার/আমার।
মায়ের গর্ভনামক পৃথিবীতে শুরু করি অবাধ চলাফেরা।'মাতৃগর্ভ'এ যেন একটা বিশাল খেলার মাট।অবাক চলাফেরার বিন্দুমাত্র ত্রুুটি ঘটেনি।
মাতৃগর্ভে থেকে কখনও অনুধাবন করতে পারিনি যে পৃথিবীনামক অন্য একটি সুন্দর ভূখণ্ড আছে।
যে ক'টাদিন মাতৃগর্ভে অবস্থান করেছিলাম তখন খাবার হিসেবে খেয়েছি মায়ের পেটের যাবতীয় আবর্জনা।
তারপর দশমাস দশদিনের মাথায়, মা'কে রক্তে রাঙিয়ে, মায়ের মাসিকের রক্তে ভিজে আগমন ঘটে
আপনার/আমার/আমাদের।

যবেমাত্র আগমন হয়েছে তখন রক্তমাখা শরীর নিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিলাম আপনি/আমি।
হাউমাউ করে কান্নাকাটি শুরু করে দিলাম।
এতটা দূর্বল ছিলাম, নিজের ক্ষুধার কথা মায়ের কাছে প্রকাশ করতে পারতামনা কান্নার মাধ্যমে নিজের ভাব প্রকাশ করতাম।
সবদিক থেকে দূর্বল ছিলাম খাওয়া-পরা,হাঁটাচলা ইত্যাদি ইত্যাদি।
এরপরে প্রকৃতির আঁলো/বাতাস এবং পিতামাতার
অক্লান্ত খাটুনি,আদরযত্ন, মায়া-ভালোবাসায় ধীরে ধীরে বড় হতে থাকি আপনি/আমি।
তারপর মা-বাবা,বড়ভাই-বোন,বড় কোনো নিকটাত্মীয় হাতে ধরে হাঁটতে শিখি।

আর আজ-?
আজ আমরা পেটভর্তি অহংকার নিয়ে চলাফেরা করি সমাজে।
ক্ষমতার দাপট দেখাই প্রতিটি পরতে পরতে।

হে বিদ্বান ব্যক্তি-?
হে শিক্ষিত সুধী-?
হে জ্ঞানবান মানব সম্প্রদায়-?
আজ এত অহংকার কর কিসের জন্য-?
আধুনিক সভ্যতার ক্রমবিবর্তনের ধারাবাহিকতায়
তোমার মনুষ্যত্বটা কি হ্রাস পেয়ে গেছে-?
বুক ফুলিয়ে সমাজে হাঁটাচলা কর-?

মনে কি বিন্দু পরিমাণও প্রশ্ন জাগেনা তোমার-?
কোথা থেকে জন্ম আমার-?বর্তমানে আছি কোন অবস্থানে-?
ভবিষ্যতে কি হবে আমার..?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে খোঁজুন।
আর চিন্তা করুন,আল্লাহ না করুক
এখন যদি আপনারা বা আমার মৃত্যু হয়ে যায় কবরে রাখার দু-তিন দিন পর,আপনার/আমার সুন্দর লাবন্যময় চেহারা থেকে মাংস খসে খসে মাটিতে পড়বে আর খাদ্য হবে পোকামাকড়ের।

কিচ্ছু করার থাকবেনা আপনার/আমার।
এখন একটু নির্বিগ্নে চিন্তা করুন!!!
যার জীবনের প্রথম পথচলা অন্যের হাত ধরে এবং মৃত্যুর পর কবরে শায়িত করে অন্য মানুষ।
তাকে কি কখনও অহংকারে মানায়-?

সুতরাং যে কটা দিন সুন্দর এ ভুবনে বেঁচে আছি আপনি-আমি, ভুলে যাই পিছনের সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব।
জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এক কাতারে দাড়াই মানুষের পরিচয়ে।

তাই তো কবির ভাষায় বলতে ইচ্ছে হয়ঃ-
=============================
জন্ম হোক আমার যাহার ঘরে
মানুষ আমার পরিচয়,
বিভেদ বৈষম্য ভুলে গেলে
হবে না তো কাহারও ক্ষয়।

মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ
ফয়জুল মহী
৩০-০৬-২০২০ ১৩:৪৪

চমকপ্রদ কথামালা