আজ ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৯, রবিবার

আমার জমানো দিনগুলো
- রশিদ হারুন

ঝুম বৃষ্টির দুপুরে ভাত ঘুমের আলসেমিতে শরীর যখন উশখুশ করছে
তখনই বুকের ভিতর‌ থেকে কে যেনো ডাক দিয়ে বললো,
“চল, ছাদে গিয়ে বৃষ্টিতে ভিজি”
যাবো কি না যাবো ভাবতে ভাবতে
যেই না ছাদে পা রাখি,
সাথে সাথে বৃষ্টি থেমে আগুনের গোলার মতো এক সূর্য মাথার উপড় ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে,
সেই তাপে মাথার খুলি ভেদ করে মগজে আগুন ধরিয়ে দেয়।


আবার মধ্য রাতে গভীর ঘুমের মাঝে সেই বুকের ভিতরেই তীব্র ভাবে ঝাঁকি দিয়ে কে যেনো ডেকে বলে,
“ছাদে চল, মায়া মাখা পূর্ণিমার চাঁদ আজ শরীরে মাখবো”
পূণিমার চাঁদের লোভে ছাদে পা রাখতেই কোথ্থেকে যেনো এক আকাশ পাতাল বৃষ্টি শুরু হয়,
এমনই জল ঝরে আকাশ থেকে!
শরীরের চামড়া ফুটো করে বুকের ভিতরেও জলে টুইটুম্বর হয়ে যায়।


এর পর থেকে বুকের ভিতরে ডাক শুনলেও হুটহাট করে আর কোথাও যাবোনা বলে ঠিক করেছি।
ভালোই ছিলাম বুকের ডাক না শুনে
তবুও মনের ভিতরে সারাদিন উশখুশ করে,
জীবনকে আর কতো ফাঁকি দিবো!
বরং তাকে একবার ডেকে জিজ্ঞেস করি-
যা ভাবি তার উল্টোটা কেনো হয় আমার বারবার?


এই কথা জানার জন্যও প্রিয় জীবনকে সামনা সামনি পাচ্ছি না অনেকদিন যাবত।
আজকাল বুকের ডাকে অস্থির হয়ে এক সময় জীবনের খোঁজে
রোদে পুড়ি, জলে ভিজি, পাহাড়ের চুড়ায় উঠে বসে থাকি,
পাকা ধান ক্ষেতের আইল ধরে ছুটে চলি,
অথবা ধু ধু চরে একলা বসে বসে অপেক্ষা করতে থাকি প্রিয় জীবনের।


এভাবে অপেক্ষা করতে করতে একদিন হঠাৎ করে টের পাই
সেই বুকের ভিতরেই
এক না জানা অবহেলায়
আমায় ঠিকমতো দেখা না দিয়ে
‘প্রিয় জীবন’ চলে গেছে অনেক ‌অনেকদুর,
সাথে নিয়ে গেছে আমার জমানো দিনগুলো।
————————
র শি দ হা রু ন
২৯/০৪/২০২২

মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ