আজ ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৯, রবিবার

বৃষ্টির জলের ফেরিওয়ালা
- রশিদ হারুন

মাটি পোড়া রোদ আমার পছন্দ নয়,
সব শুকিয়ে যায়,বুক শুকিয়ে যায়,
মন শুকিয়ে যায়, আনন্দ শুকিয়ে যায়।


বালক বেলায় প্রচণ্ড রোদে যখন,
আমার তুলসী গাছটা পুড়ে মরে গেল
আমি অনেক দিন কেদেছি,
ফোটা ফোটা চোখের জলেও যখন
ছোট তুলসী গাছটা বেঁচে উঠলো না,
আমি অনেক দিন মন খারাপ করে
শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবতাম,
আকাশের অনেক আনন্দ,
আকাশের মনে আমার মতো
তুলসী গাছ মরে যাবার দুঃখ নেই,
তাই আকাশ এখন আর কাঁদেনা।


মা' আমাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলতো,
"বৃষ্টির জলের ফেরিওয়ালা যখন আসবে
তোকে জল কিনে দিবো"।
আমি সারাদিন বারান্দার গ্রিল ধরে
দাঁড়িয়ে থাকতাম আর অপেক্ষা করতাম,
কখন আসবে বৃষ্টির জলের ফেরিওয়ালা।


আইসক্রিম, হাওয়াই মিঠাই,সহ আরো
কত রকমের ফেরিওয়ালা আসতো
তবুও বৃষ্টির জলের ফেরিওয়ালা আসতো না।


তারপর একদিন মা' মরে গেল,
তবুও বৃষ্টির জলের ফেরিওয়ালা আসলো না,
শুধু আমার চোখের জলে মা’র চোখ ভিজলো।

সেদিন আমি বুঝতে পারলাম,
আমার বুকের মাঝে একটা ভিজে আকাশ আছে,
সেখানে বৃষ্টি হয় দিন রাত্রি,
অনেক জল জমা আছে সেখানে,
এই জীবনে আর বৃষ্টির জল ফুরাবে না,
আমি চাইলেই বৃষ্টির জল ফেরি করতে পারি,
কোন বালক যেন আর বৃষ্টির জলের ফেরিওয়ালার জন্য বারান্দার গ্রিল ধরে অপেক্ষায় না থাকে।


তারপর থেকে অনেক দিন ধরে
আমি বৃষ্টি জল ফেরি করছি,
কেউ বুঝে না এতো কিছু থাকতে
আমি কেন বৃষ্টির জলের ফেরি করি,
আমি আর কি করতে পারি,
বৃষ্টির জল ফেরি না করলে
এত দিনে আমি জলে ডুবে মরে যেতাম,
আমি কি জানতাম মা মরে গিয়ে আমার বুকের আকাশটা কে ভিজিয়ে দিবে অশেষ বৃষ্টি জলে।


আমি এখন মাটি পোড়া রোদ পছন্দ করি,
বৃষ্টি জলে আমার বুকের ভিতরের কষ্ট
কাদা মাটি হয়ে গেছে,
এখন আমি নিজেই বুকের ভিতর,
মাটি পোড়া রোদের ফেরিওয়ালা খুঁজি ।
---------------------------------------------

১৪/০৮/২০১৭

মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ