মায়াকোভস্কির মনোল্যগ
- পারভেজ আনোয়ার - নিখোঁজ পাঁজর ২৪-০৭-২০২৪



​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ⌠ মায়াকোভস্কির মনোল্যগ ⌡
প্রস্তরিত সেগুন জঙ্গলে
​ ​ ​ ​ কখনও কখনও সন্ধ্যে আলোয়
একটা সুরেলা আতরের ঘ্রাণ
চতুর্মাত্রিক যাদুঘর তৈরি করে…

পৃথিবী গ্রহের জটীল মানচিত্রে
​ ​ ​ ​ ​ সত্যিই যখন সামান্য
​ ​ ​ ​ কোনো স্বপ্নের সুচিকন রেখা
হৃদয়তন্ত্রীকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়,
শত সহস্র বর্ণিল বিন্যাসে
​ ​ ​ ​ ​ নিযুত অনুভূতি শিরায় শিরায়
​ ​ ​ ​ যেন চোখে ভাসতে থাকে…
যদিও তার অধিকাংশই
​ ​ ​ ​ অধরা অস্পৃশ্য থেকে যায়…
যৎসামান্য নিউরন-রেশের
একটা প্রচ্ছায়া’ই যেন
​ ​ ​ ​ শব্দিতা হয়ে কবির চোখ দিয়ে
​ ​ ​ ​ জলরঙে লেখা হতে থাকে…

এ যেন সেইসব শব্দের ঘ্রাণ
​ ​ ​ ​ ​ যাদের বর্ণমালায় আকরিত হয়েছে
ইথার নির্বাণ লাভের স্বতঃসিদ্ধ মন্ত্র…
​ ​ ​ ​ ​ ​ আমি কাছে যাই
​ ​ ​ ​ ​ ​ আমি দূরে আসি
আমি হাস্যোজ্জ্বল মুখে
আনন্দিত অশ্রুজলে ভাসি…
​ ​ ​ ​ ​ ​ আমি কাছে যাই
আমি তোমার সন্ধানে
​ ​ ​ ​ ​ ​ আবার দূরে আসি…!
জানি এর প্রতি ছত্রের ভেতরে
​ ​ ​ ​ ​ ​ আরও অনেক রয়েছে কথা,
যেমন অদৃশা কথা থাকে
​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ কবিতার শব্দাঞ্জলির আশেপাশের
সাদা ফাঁকা জমিন জুড়ে…

যে ক্ষেদশিলা বিসর্জিত
​ ​ ​ ​ ​ নির্বাক পাথর যুগের গুহা-বুকে
তার স্বল্প কিছুই কেউ কেউ
​ ​ ​ ​ শুধু অনুভব করে থাকে
আর বাকি সবাই ‘অতি উত্তম’
‘দারুন’ ‘অসাধারণ’ ব’লে দায় এড়িয়ে
​ ​ ​ ​ এদিক ওদিক অন্তর্হিত হতে থাকে…
যে দিনক্ষণে বসন্ত বাতাসে
​ ​ ​ ​ ​ জৈষ্ঠের আম্রপালিতে
​ ​ ​ ​ ​ বারুদগন্ধরহিত ফুলফলে
বেমিশেল বিশ্বপ্রেম মুদ্রিত হবে !

​ ​ ​ ​ সে’ই স্বপ্ন কোথায়,
আর কবি কোথায়…!
​ ​ ​ ​ যোজন যোজন সুদূর… … …
“কি আর আমার হবে !
জলফোটা থেকে শুরু খেলা
​ ​ ​ ​ কেউ মানুষ তো কিছু গোলাপ
​ ​ ​ ​ এমনই বয়ে চলছে তরঙ্গিত ভেলা
কি আর আমার হবে !
​ ​ ​ ​ আমি গান করি, লোকে বলে প্রলাপ
আমি কাব্য করি, মিথ্যে সেসব প্রস্তাবনা
জীবন হারিয়ে গেলে কি ক্ষতি হবে !
​ ​ ​ ​ যখন আজকের ঢেউ কালকে মিহিন হবে…”
___________________________________________
সামান্য কৈফিয়তঃ
‘মায়াকোভস্কির মনোল্যগ’ নামেই (মনোলগ শব্দে একটি য’ফলার যোজন হয়েছে) এই কথাচিত্রটি এর আগে তুলটে প্রকাশিত হয়েছিল মাস দুয়েক পূর্বে। আমার অন্যতম একটি ব্যক্তিমুদ্রা হ’লো যখন আমার হাতে মাথায় অপ্রতুল ভাবনা এসে জড় হয় তখন একে আমি খুব সামান্যই প্রশ্রয় দিই তৎপরিবর্তে আমার অতীতের লেখাগুলো বরং পুনঃস্পর্শ করে এর উজ্জ্বলতা বাড়াতে স্বচেষ্ট হই, যদিও এই তালিকায় সব লেখা উত্তীর্ণ হয় না, কেবল মূর্ত অতিবাস্তব লেখচিত্রই এই সেবাযত্ন পেয়ে থাকে। রাশ্যান কবি ভ্লাদিমির মায়াকোভস্কির কাব্যালোচনা সমালোচনা এপার ওপার দুই বাংলাতেই যথেষ্ঠ হয়েছে হচ্ছেও। আমি চেষ্টা করেছি এই ইস্পাত কুসুমকবি’কে কাব্যচিত্রে সরাসরি কিভাবে তুলে আনা যায় এবং সে কারণে এই কবিতাটি বার বার রিটাচ্‌ করে এর ভাবনা-বৈদূর্য আরও বৃদ্ধি করা হবে, যাতে করে একটি কবিতাতেই যেন তাকে সম্পূর্ণ বুঝতে পারা চলে…
__________________________________________________________
দ্রষ্টব্যঃ কপিরাইটের জন্য এখানে প্রকাশিত প্রতিটি সাহিত্যকর্মই আংশিক আকারে প্রদর্শিত
N.B.: Some stanzas here have been masked to avoid copyright infringement
[ Copyright © 2023 | Anwar Parvez Nur Shishir – All Rights Strictly Reserved ]

মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 1টি মন্তব্য এসেছে।

M2_mohi
০৭-০৬-২০২৩ ২৩:১২ মিঃ

অসামান্য লিখেছেন প্রিয় কবি।