এবং তোমাকে
- মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল ২৪-০৭-২০২৪

প্রায় পৌণে চৌদ্দ শত কোটি বছর পূর্বে ।
প্রাচীন এক মহাপরমাণুর অতি শক্তিশালী মহাবিস্ফোরণ ৷
মহাবিশ্বের উৎপত্তি ৷
মহাদীর্ঘকালের পরিবর্তন ও বিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রাণের আবির্ভাব এ ধরণীতে ৷
নির্জীব পদার্থ থেকে জীবন্ত প্রাণে রূপান্তর ৷
কয়েকটি পরমাণুর স্বতঃস্ফূর্ত মিলনের পরিণতিই মানবজাতির জন্ম ৷
সময়ের ব্যবধানে মানবসভ্যতার ক্রমবিকাশে ‘সাধারণ পূর্বপুরুষ’ থেকে উদ্ভূত ও বিবর্তিত হয়ে স্বতন্ত্র গতিতে এবং নিয়মে জন্ম নিয়েছি আমি ।
উপলব্ধি করি নিজের অস্তিত্ব ৷
কল্পনা করি কতো কি…
এবং তোমাকে ৷
তোমার মনের গহিনে জমে থাকা যে কথাগুলো কানপেঁতে শুনেছি কোনো এক অমাবস্যা রাতে ৷
অনুভব করি তোমার ভাবনাগুলো ৷
রঙিন-সুবর্ণ স্বপ্ন দেখি দু’চোখে ৷
তোমার হৃদ স্পন্দন আন্দোলিত করে আমাকে ৷
প্রাণখোলা হাসিমাখা মুখচ্ছবি দেখি নায়াগ্রা জলপ্রপাতে ৷
নাকফুলের মণিরত্ন তন্ন তন্ন খুঁজি প্রশান্ত মহাসাগর তলদেশে ৷
চোখের পাপড়িগুলি অপরূপ কারুকার্য করা রঙধনু’র রঙে ৷
এলোমেলো চুল উড়তে দেখি কক্স-বাজার সমুদ্র সৈকতের দমকা বাতাসে ৷
ঠোঁট যুগল আচ্ছন্ন করে আছে ম্যাগমা’র রক্তিম আভা ৷
আলকাতরা কালো দীঘল চুলের সিঁথি কাটা জমিনে বঙ্গোপসাগরের রুপালী ইলিশের চাকচিক্যময়তা ৷
চাহনিতে লুকিয়ে আছে আমাজন অরণ্যের আদিম নৃ-গোষ্ঠীর অভিব্যক্তি ৷
দু’পায়ের নূপুরে জিরকনের নীলকান্তমণি ।
সফেদ দাঁতে বর্ণিল আলোকচ্ছটা হিংস্র বজ্রপাতের বিদ্যুৎ চমকানিতে ৷
খোঁপায় পড়া অপূর্ব নীলাকুরিঞ্জি, Edelweiss Fluffy Alpine কিংবা Jade ফুল ৷
অস্পষ্ট পদচিহ্ন খুঁজি Grand Canyon গিরিখাতে, Pripet Marshes বনাঞ্চলে, Mojave বা Namib মরুভূমিতে, Lake Diamante বা Lake Baikal হ্রদের তীরে, Oymyakon পল্লী এলাকায়, Denisova গুহায় এবং বিস্তীর্ণ Savanna তৃণভূমিতে ৷
ললাটের টিপ আরক্তিম সূর্যাস্ত ৷
নাকের ডগায় অসামাল হয়ে পড়ে হিমালয় এবং আল্পস্ চূড়ার শিশিরকণা ৷
বাম হাতের অনামিকায় রঙধনু পাহাড়ের মাটি খুঁড়ে তুলে আনা পোখরাজ পাথর ।
দুই ভ্রুতে চিরস্থায়ী বসতি গেড়েছে সুন্দরবনের বাঘিনী’র শরীরের ডোরাকাটা কালো পশম ৷
লাজুক গালে টোল পড়ে চেলিয়াবিনস্কের উল্কাপাতে ৷
দুই কর্ণে দোদুল্যমান সাদা স্বর্ণের অনিন্দ্য সুন্দর Blue Topaz and Diamond Drop Earrings ৷
হিমাঙ্কের নিচ তাপমাত্রায় ইনুইটদের বরফের তৈরি পানশালায় বল্গা হরিণ ও সামুদ্রিক উদ্ভিদের স্যূপ এ এক অমৃত স্বাদ ৷
বরফাচ্ছন্ন Great Smoky পর্বতমালার সর্বোচ্চ শিখরে ভেসে থাকা মেঘ ও কুয়াশার ফাঁকে এক অপরূপ নীলাভ আলোর বিচ্ছুরণেই তোমার মাহাত্ম্য ৷
মসৃণ নখ থেকে প্রতিফলন ঘটে পৃথিবীর প্রাচীনতম উজ্জ্বল গোলাপি রঙ ৷
চেতনা ও মননে আদি-অন্ত কালের সভ্যতা গড়ে ৷
নিঃশ্বাসে সুমিষ্ট গন্ধ পাই জাফরান, চন্দন, দেবদারু, ঘৃতকুমারী, দারুচিনি, জলপাই, কস্তুরী, উপত্যকার কমল এবং শরৎ গোলাপের ৷
লজ্জাপরায়ণ হাসিতে প্রভাতের সূর্যোদয় ৷
চোখের কোণে কাজল গলে সুমেরু অঞ্চলের হিমশৈলের মতো ৷
বিষণ্নতায় নীলাকাশে কালবৈশাখীর ঘনঘটা ৷
স্বাধীনচেতা রহস্যময়ী মন বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের মতোই রহস্যে ঘেরা ৷
অদ্ভুত আচরণ যেন ভূগর্ভস্থ Subduction অঞ্চলের নাট্যশালা ৷
ক্ষোভে ফুঁসে উঠে আটলান্টিক মহাসাগরের ভয়ঙ্কর সুনামি ৷
পথচলায় প্রজাপতির চপলতা ৷
কঠোর মনোভাব মহামূল্যবান কোহিনূর হীরকের মতোই কঠিন ৷
বিদ্রোহ রূপ নেয় Mount Nyiragongo এবং Mauna Loa আগ্নেয়গিরির ভয়ানক জ্বালামুখ ৷
আদর্শে অনুপ্রাণিত হয় নীলিমায় মিশে যাওয়া সাদা তুলো মেঘ ৷
নীল শাড়িতে নও তুমি কোনো এক সম্রাজ্ঞী, কোনো রানী কিংবা ব্রিটিশ রাজবধূ Kate Middleton, তবুও তুমি এক গরবিনি বাঙালি নারী ৷
হাতের কঙ্কণ, কণ্ঠহার খুঁজে পাই পৃথিবীর লুকায়িত বা ডুবন্ত মহাদেশ Zeelandia তে ।
দাম্ভিকতায় তেজস্ক্রিয় ক্যালিফোর্নিয়াম এবং প্রতিকণা’র বিস্ফোরণ ঘটে ৷
কদাচিৎ তোমার ইচ্ছার কাছে বন্ধকী থাকে আমার স্বাধীনতা ৷
অনুশাসনে থাকতে হয় ব্যর্থতা এবং নির্বুদ্ধিতার কারণে ৷
অবজ্ঞা, সংকীর্ণতা, দুঃসাহসিকতা আর অনাকাঙ্খিত সন্দেহপ্রবণতা সৃষ্টি করে চীনের মহাপ্রাচীর ৷
বিরহ এক বীভৎস দাবানল ৷
চাঁদের আকর্ষণে জোয়ার-ভাটা হয়, সেখানেই তোমার ব্যক্তিত্বের প্রকৃত সৌন্দর্য ৷
শিরীন, লায়লা, জুলিয়েটের চেয়েও কি কম তোমার ভালোবাসা?
বিস্তীর্ণ সাহারা মরুপ্রান্তরে বালু ঝড়ে একদিন দিশাহারা দু’জন!
ক্ষণিকের স্বস্তি ৷
মার্জিত নম্র স্পর্শে অনুভব করি আদিম উন্মত্ততা ৷
প্রত্যাশা, ন্যায্যতা এবং অপূর্ণতায় আমার অসহায়ত্বের অপরাধবোধ ৷
উদভ্রান্ত মনে ভাবি, প্রাকৃতিক মহাবিপর্যয়ের করুণ পরিণতি!
আমাদের বৈধ এবং উর্বর উত্তরসূরী অনাগত দিনে অভিযোজনে সক্ষম হবে কি?
তোমার নির্ভরতা পাই, আশ্বস্ত কর যে; আমরাই গড়বো শান্তিময় সবুজ এ বসুন্ধরা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য ৷
স্নেহপূর্ণ হাতের সংস্পর্শে ভালোবাসা, শান্তি, ঐক্য, প্রগতি, সমতা, নিরাপত্তা এবং মানবতার আহ্বান ৷
বিশ্বস্ততা আত্মাকে পরিশুদ্ধ এবং পবিত্র করে ৷
ইচ্ছে করে-
তোমার হাত ধরে হেঁটে যাই তারা ভরা রাতের আকাশে কাস্পিয়ান হ্রদ এবং পানামা খালের তীর ধরে,
Na Pali তটভূমিতে,
প্রাকৃতিক দর্পণ Salar de Uyuni তে,
Veiðavötn আগ্নেয়গিরি বিস্ফোরণের ফলে অগ্নিমুখে উৎপন্ন অবিশ্বাস্য সুন্দর নীল রঙের গভীর Ljótipollur হ্রদের প্রান্তে,
সারি সারি সুউচ্চ-বর্ণময় রামধনু Eucalyptus গাছের নিচে শীতল ছায়ায়,
Pléneau Island এর তুষার ঝড়ে,
উঁচু পর্বতপৃষ্ঠে অবস্থিত হিমবাহ থেকে সৃষ্ট প্রকৃতির বৈচিত্র্যময় গোলাপি রঙা সুপেয় পানির হ্রদ Dusty Rose এর কিনারায়,
দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের দুর্গম ও জনবিচ্ছিন্ন দ্বীপ Tristan da Cunha তে ৷
নয়তো, নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরা আন্দিজ পর্বতমালা এবং Mount Roraima তে দাঁড়িয়ে মেঘ ছুঁই ৷
কুক প্রণালী ও কুইন্সল্যান্ডের স্বর্ণ উপকূলে বিরল প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী সাদা তিমি Son of Migaloo এর দুরন্ত পথচলা চেয়ে দেখি ৷
কখনো মহাসাগরের বিস্তৃত জলরাশির হিমশীতল তলদেশে সক্রিয় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভৌগোলিক অধোগমন প্রক্রিয়ায় গঠিত খাদ বা খাত Mariana Trench এর গভীরতম বিন্দু Challenger Deep, বিস্ময়কর ডুবন্ত জলপ্রপাত এবং মধ্য-মহাসাগরীয় পর্বতমালার অনুপম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবলোকন করি ৷
কিংবা মহাজাগতিক উপনিবেশ সৃষ্টির জন্য নয়- নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদেই Cloud Computing পরিসেবা, Nano প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি, Teleportation প্রযুক্তি, Quantum Mechanics, Exotic Matter, Wormhole Network, White Hole, Parallel Universe এবং Multiverse সম্পর্কিত ভাবনাগুলোর মধ্য দিয়ে প্রাণবন্ত বিশ্বায়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা জাগিয়ে তোলে ।
ইচ্ছে করে-
প্রাচীন ভারতীয়, কারাল, মেহেরগড়, মেসোপটেমিয় (আক্কাদীয়, সুমেরীয়, ব্যাবিলনীয়, অ্যাসেরীয়, ক্যালডীয়), সিন্ধু, গ্রীক, রোমান, হিব্রু, চৈনিক, পারস্য, ইজিয়ান, হেলেনিস্টিক, ওলমেক, অ্যাজটেক, মায়া, ধ্রুপদী এবং ইনকা সভ্যতাগুলোর সূচনা-বিকাশ-বিস্তৃতি-ধ্বংসাবশেষকে ফিরে দেখি । যদিও সেখানে প্রত্যক্ষ করি: সুখ, দুঃখ, হাসি, আর্তনাদ, কল্যাণ, সৃষ্টি, প্রতিদ্বন্দ্বিতা, প্রতিহিংসা, ষড়যন্ত্র, শক্তিমত্তা, আগ্রাসন, ব্যভিচার, রক্তপাত, ধ্বংস, রাজনৈতিক উত্থান-পতন, মিত্রতা, ভিন্নমত, ভালোবাসা, পরকীয়া, বিচ্ছেদ, ধর্মবিশ্বাস, মানবতা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগকে ।
ইচ্ছে করে-
প্রাগৈতিহাসিক যুগ, আদিম মানব, প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ বা ধ্রুপদী-উত্তর যুগ, আধুনিক যুগ এবং সমসাময়িক যুগগুলোর মধ্যে এক চিরস্থায়ী সেতুবন্ধন গড়ে তুলে মনুষ্যত্ববোধের প্রতিনিধিত্ব করি ।
এ তো এ পৃথিবী—
ইচ্ছে করে-
ছুটে যাই বুধ গ্রহের উত্তপ্ত স্থান অর্ধসৌর বিন্দু এবং Caloris Montes পর্বতে, শুক্রের Transit of Venus- আগ্নেয়গিরি Venusian- উচ্চভূমি Ishtar Terra বা Aphrodite Terra তে, লোহিত মঙ্গলের Olympus Mons আগ্নেয়গিরি- Valis Marineris গিরিখাত- Sinus Meridiani সাগরে, বৃহস্পতির তরল হাইড্রোজেনের মহাসাগর এবং Great Red Spot এ, শনির চারপাশে ঘূর্ণায়মান বৈচিত্র্যময় বিশাল বলয়রাশির ভিতর ফাঁকা জায়গা Cassini বিভাজনে, ইউরেনাসের হীরা বৃষ্টি এবং অন্ধকার মেরুর শীতলতম স্থান ও বিষুব অঞ্চলে প্রবাহিত তীব্র বাতাসে, নীলাভ নেপচুনের বায়ুমণ্ডল এবং মেঘমালায়, বামন গ্রহ প্লুটোর বরফ পাহাড়ে, প্রতিটি উপগ্রহে, সূর্য, Heliosphere, Heliopause, Kuiper Belt, সৌরজগতের বাইরে আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাশূন্য বা শূন্যতায় Interstellar Space এ, জলীয় বাষ্পের গোলাকৃতি মেঘ Oort Cloud এ, ছায়াপথ, নক্ষত্র, কোয়াসার, মহাকাশে ভাসমান জলাধার, ছায়াপথ স্তবক, মহা স্তবক, কৃষ্ণগহ্বর, বিশাল মহাজাগতিক জাল এবং অতিনবতারার বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে কিংবা অনন্ত মহাবিশ্বে ৷
মানবহীন, ঠাণ্ডা, উত্তপ্ত, গ্যাসীয় এবং অন্ধকার অপার মহাকাশের এক অজানা রহস্যেঘেরা নৈঃশব্দের জগতে ৷
দূরে, বহুদূরে…
এ দীর্ঘ যাত্রাপথে স্বাগত জানাতে পারে ভিনগ্রহের কোনো অপরিচিত আগন্তুক বা সভ্যতায় অগ্রগামী বুদ্ধিমান প্রাণী (Aliens) ৷
তুমি আর আমি—
শুধুই দু’জনে ৷
যদিও আমরা জিনগতভাবে আলাদা ৷
বিপরীত দুই প্রান্তের, ভিন্ন সত্তা ৷
তবুও, দু’জনের মধ্যেই ভালোবাসার শাশ্বত দৃঢ় বন্ধন ৷
এক অদৃশ্য শক্তি ৷
এক ঐশ্বরিক সম্পর্ক ৷
জানিনা, মহাবিশ্বের ভয়াবহ অন্তিম পরিণতি!
এ মৃত্যুন্মুখ মহাবিশ্ব এক সময় ধীর প্রক্রিয়ায় বিলীন হয়ে হারিয়ে যাবে শূন্যতার গহীন গহ্বরে ।
হতে পারে, Dark Energy (কৃষ্ণ, অদৃশ্য বা গুপ্ত শক্তি) এর কারণে তরাণ্বিত গতিতে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ অথবা মহাকর্ষীয় আকর্ষণে মহাবিশ্বের আকার ক্রমাগত মহাসংকোচনের ফলস্বরূপ: The Big Crunch (মহাশাব্দিক সঙ্কোচন বা মহাসঙ্কোচন), The Big Freeze / The Big Chill (মহাশৈত্য বা মহা হিমায়ন), The Big Rip (মহাচ্ছেদন) ।
যার পরিণাম:
মহাবিশ্বে নতুন ছায়াপথ ও নক্ষত্র তৈরি প্রক্রিয়া থেমে যাবে, কৃষ্ণগহ্বর স্বতঃবাষ্পীভূত হবে, ছায়াপথগুলো রক্তিম থেকে নীলাভে রূপান্তরিত হয়ে পরস্পর থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাবে, আলোর উৎস নক্ষত্র শক্তিক্ষয় করে অন্ধকারে ডুবে গিয়ে এক সময় মহাবিশ্বের সমস্ত নক্ষত্ররাজি পুড়ে নিঃশেষ হয়ে যাবে, বর্তমান দৃশ্যমান মহাবিশ্ব ঘটনা দিগন্তের (প্রত্যাবর্তনের শেষ বিন্দু) বাইরে চলে যাবে এবং দৃশ্যমান স্থানগুলোকেও আর দেখা যাবে না, অতি উত্তপ্ত ঘনীভূত পর্যায়ে নিউক্লীয় বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রচণ্ড তাপীয় বিকিরণের সৃষ্টি হবে, প্রোটন কণিকা অস্থিতিশীল হয়ে হাইড্রোজেনকে অদৃশ্য করে রয়ে যাবে বিকিরণ, মহাবিশ্বের তাপীয় মৃত্যু হয়ে মহাহিমায়নের এক অন্ধকার-শৈত্যময়-নির্জীব অবস্থায় পরিণত হবে, ছায়াপথ স্তবক-নক্ষত্র-গ্রহ-পরমাণু-উপজাতীয় কণা-সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ড ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যাবে এবং মহাজাগতিক বিদ্যমান অস্তিত্ব বিলীনের মধ্য দিয়ে অগ্নিময় মৃত্যু (Firy Death) ঘটবে ।
অর্থাৎ সমাপ্তি (The End) ।
হয়তো, সেখান থেকে নতুন করে জন্ম নিবে একটি মহাবিস্ফোরণ (Big Bang), যার থেকে পুনর্গঠন হবে নতুন মহাবিশ্ব ৷
যেখানে স্ফীতি সৃষ্টি করে সম্প্রসারিত বুদ্বুদ থেকে মহাবিশ্বের মতোই অসংখ্য মহাবিশ্ব তৈরি হয়ে একটি অপরটির কাছ থেকে দূরে সংস্পর্শহীন অবস্থায় থাকবে ।
যদি তা-ই হয়, তাহলে মহাবিশ্বের গঠন হবে পর্যায়ক্রমিক ।
প্রাকৃতিক বিবর্তন চক্রে যা নিরবচ্ছিন্নভাবে চলমান থাকবে ।
অবিরতভাবে তৈরি হবে নতুন চক্র, যার শুরুও নেই, শেষও নেই ৷
তবে কি, এ ধরণের অসংখ্য মহাবিশ্বের কোনো একটিতে আমাদের পুনর্জন্ম হবে?
যদি হয়, থেকো অংশীদার হয়ে- শক্ত করে দু’হাত ধরে ৷
জানি কোনো এক কালে মৃত্যু হবে অনিবার্য!
হয়, নরকের আগুনে দগ্ধ হবো আমরা একসাথে ৷
না হয়, স্রষ্টাকে বলে অনন্তকাল তোমার হাত ধরে হাঁটবো স্বর্গের আট দুয়ারে ৷৷

মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।