প্রকৃতি
- মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল ২৪-০৭-২০২৪

নিরব প্রভাত ।
ক্ষীণ আলোয় শান্ত প্রকৃতি ।
পাখির কলরবে এ যেন অশান্ত প্রায় ।
অরূণোদয়ের প্রতীক্ষা ।
বিশুদ্ধ নি:শ্বাস-প্রশ্বাসে পরিতৃপ্ত অনুভব ।
ব্যস্ততাময় জীবন-জীবিকার তাগিদে ধাবমান জনতা ।
কাঠপোড়া রৌদ্রের তীব্রতায় দিকভ্রান্ত ফিঙে ।
কখনওবা কালবৈশাখীর আবির্ভাব ।
শঙ্কিত আমি ।
ঝরে পড়া কৃষ্ণচূড়ার নিদারুণ মর্মব্যথা!
কানপেঁতে শুনি ।
বিস্ময়করভাবে দেখি অনাবিল সবুজ প্রান্তর ।
বাসন্তী, হলুদ আর অগ্নিবর্ণ রঙে ঐশ্বর্যময় প্রকৃতির অনুপম সৌন্দর্য ।
আবহমান বাংলার এক অপরূপ প্রতিচ্ছবি ।
মৃদু বাতাসে উড়ে গৃহবধূর আশমানি রঙা শাড়ির আঁচল ।
স্রোতস্বিনী নদীর তীরের কাশবনে সাদা বক যুগলের লুকোচুরি ।
কেটে আসা ঘুড়ি হারিয়ে যায় দূর আকাশে ।
দুরন্ত শৈশবের পদাঙ্ক আঁকাবাঁকা মেঠো পথে ।
শির উঁচু করা পাহাড়ে দাঁড়িয়ে স্পর্শ করি কুজ্ঝটিকা ।
মায়াবী দিগন্তের হাতছানি ।
আষাঢ়ে বৃষ্টিভেজা কিশোরীর প্রাণোচ্ছলতা ।
টিলা’র পাদদেশে নৃ-গোষ্ঠীর আনারস, চা, কলা ও ঝুমচাষে ক্ষণিকের বিমুগ্ধ দৃষ্টিপাত ।
ঝর্নার নির্মল স্রোতধারায় প্রাণ ফিরে পায় লতা-গুল্ম, শ্যাওলা ও নুড়িপাথর ।
পাহাড়ী বনফুলের মাতাল গন্ধে দিশেহারা ভ্রমর ।
পরিশুদ্ধ ভালোবাসা স্পর্শ করে প্রেয়সীর মন ।
দূর সমুদ্রে জলরাশিতে মুক্তা জ্বলে সূ্র্যের আলোয় ।
কদাচিৎ, গহীন বন থেকে বাতাসে ভেসে আসে ক্ষুধার্ত বাঘের আর্তনাদ ।
অভাবী জেলের আশা-আকাঙ্খা বন্ধকী থাকে অসীম সমুদ্রের কাছে ।
সৈকতে ধেয়ে আসা ঢেউ নৃত্যের তালে তালে মুছে দেয় পদচিহ্ন ।
নীলিমায় অদৃশ্য হয় সাদা তুলো মেঘ ।
দুর্বার গতিতে গাংচিল উড়ে যায় অজানা গন্তব্যে ।
ঢেউয়ের বাঁকে এক চিলতে সুখের হাসি ।
গোধূলির রক্তিম আভায় আচ্ছাদিত পশ্চিমাকাশ ।
অতিষ্ঠ করে তোলে ঝিঁঝি পোকার অবিরাম ঝাঁজালো কণ্ঠস্বর ।
সাজ প্রদীপ জ্বলে জোনাকির মিটমিটি আলোয় ।
লাল কাঁকড়াগুলো বুনো উল্লাস করে বেলাভূমিতে ।
অপলক চেয়ে থাকি ।
সূর্যাস্ত ।
একটি সুন্দর স্বপ্ন ।
আগামী সূর্যোদয়ের ।।

মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।