জ্যৈষ্ঠের তাপদাহ
- মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল ২৪-০৭-২০২৪

প্রায় দুপুর ।
রৌদ্রের দুর্দান্ত প্রতাপ ।
উষ্ণতার কাছে অনিবার্য বশ্যতা স্বীকার ।
জ্যৈষ্ঠের তাপদাহে তৃষ্ণার্ত হৃদয় ।
মাঝে মধ্যে বিরক্তিকর বিদ্যুৎ বিভ্রাট ।
সাময়িকভাবে বিপর্যস্ত জনজীবন ।
যেনো, মরার উপর খাঁড়ার ঘা ।
তবুও যে যার মতোই কর্মব্যস্ত ।
শরীরের সূক্ষ্ম রোম কূপ বেয়ে লবণাক্ত ঘাম ঝরে ।
কেউ তৃপ্ত হয় লেবু শরবত, ডাব, তরমুজ, লিচু, পেঁপে, আম, আনারস, কমলা ও তালের শ্বাঁসে ।
অথবা ঠান্ডা কোমল পানীয় বস্তু ও হিমায়িত আইসক্রিমে ।
আবার কেউ পরিতুষ্ট হয় নলকূপ, নদী, খাল, বিল, হাওর, জলাধার, স্নান কক্ষ ও সাঁতার-পুকুরে ।
কিংবা খোলা আকাশের নিচে, বৈদ্যুতিক পাখা ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ।
কারো সম্বল তালপাতার হাতপাখা ৷
কেউবা আমলকি, রোয়াইল, আমড়া, কামরাঙ্গা, জাম্বুরা, করমচা, চালতা, কৎ বেল, জামরুল, জলপাই, বিলাতী বেগুন, বরই ও রসাল কাঁচা আম ভর্তায় অমৃত আস্বাদনে তৃপ্তি মেটায় ।
যদিও কমতি নেই তাপদাহের চোখ রাঙানি ।
বৃষ্টি প্রত্যাশিত চাতক পাখির আকাশ পানে দৃষ্টিপাত ।
অবিরাম ডুব-সাঁতার করে বুনো রাজহাঁস ।
সূর্যের প্রখর তাপে গলায়মান পিচ ঢালা পথের কোনো অংশে পদচিহ্ন ।
চালক তার সময়কে মুষ্টিবদ্ধ করে ছুটে চলে তীব্র গতির যানে ।
দূরবর্তী তপ্ত পথে দৃশ্যমান ঝাপসা-ধোঁয়াশা ।
বেওয়ারিশ কুকুরের ঘন ঘন শ্বাস-প্রশ্বাসে অর্ধ জিহ্বা বের হয়ে লালা পড়ে ।
হঠাৎ সাইরেন বাজিয়ে ধেয়ে আসা অ্যাম্বুলেন্স দেখে আঁতকে উঠে প্লীহা ।
অস্বস্তিকর উষ্ণতায় অপেক্ষমাণ ক্লান্ত পথিকের বাড়ি ফেরার তাড়া ।
মনে হয়, নিষ্প্রাণ দেহে সটান দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি সবুজ গাছগুলো ।
আচমকা দক্ষিণা দমকা হাওয়া ।
পরিতৃপ্ত মন, সতেজতায় প্রাণ ফিরে পায় প্রকৃতি ।
এ এক পরম প্রশান্তি, স্বর্গীয় সূখানুভূতি ।

মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।