প্রকৃতির শাশ্বত সৌন্দর্য
- মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল ২৪-০৭-২০২৪

সুন্দর, শান্ত, স্নিগ্ধ, অনন্য, মোহনীয়, সবুজ প্রকৃতি ।
জাদুকরী টানে তার মাঝে কি যেনো খুঁজি?
এক অজানা তীব্র আকর্ষণে হারিয়ে যাই দূর-বহুদূর ।
তবে, কখনো প্রকৃতি হয় আশীর্বাদ ।
কিংবা অভিশাপ ।
কখনো নির্মম-বেদনাদায়ক!
তবুও, প্রকৃতির অনুপম সৌন্দর্য প্রশান্তি এনে দেয় ।
মানব আত্মাকে শান্ত রাখে ।
সেই প্রকৃতির গহীনে বৈচিত্র্যময় কতো কি...
বাবুই পাখি সুনিপুণ কারুকার্যে নির্মাণ করে শান্তির নীড় ।
আসমানের নীলিমায় মিশে যায় সাদা তুলো মেঘ ৷
প্রবাহিণীর তীরে বেড়ে উঠা কলমি ফুল আগন্তুককে সাদর সম্ভাষণ করে ।
কেটে আসা ঘুড়ি নিরূদ্দেশ হয় অজানা গন্তব্যে ।
কদম, হিজল, বনতুলসী ও মধুমাধবী লতার মাতাল ঘ্রাণে দিশেহারা ভ্রমর ।
ডুমুর গাছে আড়ালে থাকা ধুরন্ধর মাছরাঙার আচকা শিকার ।
পলাশ, শিমুল, সোনালু ও মহুয়ার অবারিত রঙের ঝলক ।
প্রজাপতি রঙিন ডানা মেলে প্রেয়সীকে নিয়ে উড়ে যায় ৷
তালগাছের ডগায় চিলের বাসার কাছে আটকে থাকা ঘুড়ির ঘূর্ণিপাক ৷
নীলমনি, রাধাচূড়া, নাগলিঙ্গম, অশোক ও কিংশুকের প্রাণচাঞ্চল্যতা ।
কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম আভা আর নরম স্পর্শে মন ছুঁয়ে যায় ।
কোকিলের সু-মধুর কুহুতানে ভালোবাসার উচ্ছ্বাস ৷
বিলের শান্ত জলে আপন মনে মাছ শিকারে ব্যস্ত চৌকষ পানকৌড়ি ৷
কুণ্ডলী পাঁকানো মৌমাছির ঝাঁকে শিকারী ঈগলের হিংস্র থাবা ।
গাব গাছের মগডালে ঘুঘু পাখির গোপণ অভিসার ৷
স্রোতস্বিনী নদীর জলে কাদামাখা শরীরে রাখাল ছেলের দুরন্তপনা ৷
ঢিবির তে-মাথায় বেত ঝোপে রসাল বেত্তুইন ফলের হাতছানি ।
দারুচিনি'র সুগন্ধ ভেসে আসে পূবালী বাতাসে ও ঢেউ খেলে সাদা কাশবন ৷
দেবদারু গাছে বেত ঝাড়ের বেতপাতায় মোড়ানো কানি বকের বাসায় বিষধর শঙ্খিনী সাপের হানা ৷
ডাহুক যুগল আত্মগোপন করে নলখাগড়া'র বনে ৷
উচ্চাকাশে ঘুরপাক খাওয়া ক্ষুধার্ত শকুন তীক্ষ্ণ চোখে মৃত জীবদেহ খোঁজে ।
ছাতিম গাছ তলার আঁকাবাঁকা মেঠো পথে শৈশবের পদাঙ্ক ।
কাকতাড়ুয়ার মাথায় বসা ফিঙের শাণিত দৃষ্টি ।
ফসলী ক্ষেতে কাঙ্খিত ফলন দেখে উচ্ছ্বসিত রূপসী বধূ ।
এক চিলতে সুখের হাসি ।
নৈসর্গিক সৌন্দর্যময় বাংলার অনাবিল সবুজ প্রান্তর ।
অপলক চেয়ে থাকি দিগন্ত জুড়ে ।
পড়ন্ত বিকেল ।
এক মায়াবী মুহূর্ত ।
বাড়ি ফেরার অপেক্ষা ।

মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।