তবুও হোক ফেরা
- মিহির শুভ ২৫-০২-২০২৪

কাঁচাবেলায় কলাগাছকে বুক ফুঁড়ে খুন করেছিলাম বলে, আর কত করব অনুতাপ?
খুনের বদলে জেল হলে, কারাগার হোক বিলের জলে ভাসমান কদলীর বুক।
ভেলার খেলা শেষ হলে ভেজা দেহে ফিরে গিয়ে গা মুছব সবুজ মায়ের আঁচলে।
এখনও বৃষ্টি হলে ভীষণ করে ছোট্ট বেলায় ফিরে যেতে ইচ্ছে করে
ইচ্ছে করে নরম সবুজ মাঠের বুকে নগ্ন পায়ে নেমে পড়ি অপটু ফুটবলযুদ্ধে।
খালের জলে দাপাদাপি করা কিশোরের হৃদয় কি ক্ষয়ে গেছে পাথুরে নগরে?
জালানার কাচঘেরা কারাগার দিয়ে দূরে চেয়ে থাকা তরুণীর চোখে—
এখনো কি প্রবঞ্চক স্মৃতি হয়ে আছে কোল ভরা শাপলার পুঞ্জি?
চীনা জোঁকে ভরপুর শ্যাওলা মাখা সবুজ সবুজ জল?
হরান কাকার সাগর কলার কাঁধি চুরি করেছে বলে
কিংবা, জসিমদের গাছের সব ডাব অন্ধকারে সাবাড় করেছে বলে,
কিশোর দল ক্ষমা কি পাবে না আর?
যদি মার্জনা না পাই, তবে নির্বাসন দিও সবুজ ঘাসের প্রাসাদে, বসতে দিও খেজুর পাতার আসনে।
হাতপাখার সুশীতল বাতাসে শান্ত হতে হতে যদি কেটে যায় অবশিষ্ট জীবন;
আমি তবে বন্দী হব তাল তমালের ছায়া ঘেরা অলীক কারাগারে।
শৈশবের সব অবাধ্যতা আর ডাকাবুকার দায়ভার কাঁধে নিয়ে যদি নির্বাসনে যেতে হয়,
তবে হোক তবুও অন্তিম ফেরা কোন এক তালবাগানের ছায়াতলে।

মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।