।। স ন্ধ্যা তাঁ রা ।।
- আবু হেনা মোস্তফা কামাল ২০-০৪-২০২৪

সূর্য তখনো সন্ধ্যার আকাশে হেলে পড়ে নাই,
দুই জোড়া পা হেঁটে চলেছিল ধুলো উড়া পথে।
হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্তির আস্তরণ
ভর করে আসছিলো ধীরে ধীরে,
যেমন করে উঁইপোকা
মাটির ঢিবি তৈরি করে বাঁশের বেড়ায়।

আমাদের এই পথের শুরু
সকালের সূর্য দেখে দেখে,
ধুলোর উপরে ঘাস, তাকে ঘিরে শিশির
জমে জমে যে জলের ফোঁটা তৈরি হয়
তারাও যেন এক একটা সূর্য হয়ে
আমাদের চোখের ভিতর
আলোর রঙ ছড়িয়ে পথের দিশা দেখিয়ে দিত।

মহিপুরের তিস্তা পেড়িয়ে আমরা যখন
শুকনো তপ্ত বালুতে গা শুকাচ্ছিলাম
তখন শিক্ষিত শয়তান রাস্তা পেড়িয়ে
রমজান মাস চলে এসেছিল।
আমাদের গল্পের শুরুটা এমন করেই।
এরপর আমরা হেঁটেছি, শুধু হেঁটেছি
উঁইপোকায় ভরে যাওয়া পায়ের উপর ভর করে।

হাঁটতে হাঁটতে পথের পাশে সন্ধ্যার
আবীর মাখা সূর্যকে হারিয়ে যেতে
দেখেছি অন্ধকারের ভিতর।
তোমার চোখে তখন আকাশের নয়নতারার
জ্বলজ্বলে নক্ষত্রের বিশাল সভার ছবি।
আমার চোখ আটকে ছিল চাঁদের পাশে
মিটিমিটি জ্বলতে থাকা সন্ধ্যা তাঁরায়।

মানুষ মরে গেলে তাঁরা হয়ে
ভেসে বেড়ায় অন্ধকারের নদীর উপর।
আমি চুপটি মেরে বসে থাকি
চাঁদের পাশের ঐ তাঁরাটি হয়ে।
তাঁরারাও তো একদিন মরে যায়।
মানুষ মরে গেলে তাঁরা হয়,
তাঁরা মরে গেলে কি হয় ?
আমার জানা নেই।
কখনও যদি তুমি জানতে পারো
তাঁরার পূনর্জন্মের নাম ও অবস্থান
আমাকে জানিয়ে দিও ঘুড়ির লেজে চিঠি উড়িয়ে।

আকাশ থেকে এখনও মহিপুর দেখি,
দেখি শিক্ষিত শয়তান রাস্তা।
সেই রাস্তায় শুধু তোমাকে আমাকে
খুঁজে পাই না আর।
উঁইপোঁকায় এখন মাটির ঢিবি বানায়
রাস্তায় মরে যাওয়া গাছের গুঁড়িটায় ।
আমি স্থির হয়ে মিটমিট করে জ্বলছি শুধু
চাঁদের পাশের ঐ সন্ধ্যা তাঁরাটা হয়ে!

মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 1টি মন্তব্য এসেছে।

M2_mohi
০২-০৩-২০২৪ ২৩:৩৫ মিঃ

বাহ অসাধারণ অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।

আবু হেনা মোস্তফা কামাল
০৩-০৩-২০২৪ ১৯:১৯ মিঃ

ধন্যবাদ স্যার। আপনাদের মহানুভবতা, স্যার!