আজ ২৪ আষাঢ় ১৪২৭, বুধবার

দোলনচাঁপা

কাজী নজরুল ইসলাম

দোলনচাঁপা বিংশ শতাব্দির প্রথমার্ধের অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি কবি কাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ। এটি ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে (আশ্বিন, ১৩৩০ বঙ্গাব্দ) আর্য পাবলিশি হাউস থেকে প্রকাশিত হয়।

১৯২২ খ্রিস্টাব্দের দুর্গাপূজোর আগে ধুমকেতু পত্রিকায় নজরুলের ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ নামে বিদ্রোহাত্মক কবিতাটি প্রকাশের জন্য তাঁকে রাজদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযুক্ত কবিকে ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দের ১৬ জানুয়ারি এক বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে প্রেসিডেন্সি জেলে রাখা হয়। এই সময় দোলনচাঁপা কাব্যের কবিতাগুলি রচিত হয়। জেল কর্তৃপক্ষের অগোচরে পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায় ওয়ার্ডারদের সাহায্যে তাঁর সব কবিতাই বাইরে নিয়ে আসেন।

কবির নির্দেশমত আর্য পাবলিশি হাউস এ কবিতাগুলো দিয়ে দৌলনচাঁপা প্রকাশ করে। প্রথম সংস্করণ এই কাব্যগ্রন্থে ১৯টি কবিতা ছিল। সূচিপত্রের আগে মুখবন্ধরূপে সংযোজিত কবিতা "আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে" ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ) জ্যৈষ্ঠ মাসের কল্লোল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। দোলনচাঁপা কাব্যগ্রন্থের পরবর্তী সংস্করণে ৫০ টি কবিতা সংকলিত হয়।

প্রথম সংস্করণের কবিতাঃ
দোলনচাঁপা কাব্যগ্রন্থের প্রথম সংস্করণে ১৯টি কবিতা পত্রস্থ হয়েছিল, সেগুলো হলো :
আজ সৃষ্টিসুখের উল্লাসে (সূচিপত্রে ছিল না, সূচিপত্রের আগে মুখবন্ধরূপে ছিল)
দোদুল্ দুল্
বেলাশেষে
পউষ
পথহারা
ব্যথা গরব
উপেক্ষিত
সমর্পণ
পুবের চাতক
অবেলার ডাক
চপল-সাথী
পূজারিণী
অভিশাপ
আশান্বিতা
পিছু-ডাক
মুখরা
সাধের ভিখারিণী
কবি-রাণী
আশা
শেষ প্রার্থনা
"দুটি কথা" শিরোনামে এ গ্রন্থের ভূমিকা লিখেছিলেন পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায়।

পরবর্তী সংস্করণঃ

দোলনচাঁপা কাব্যগ্রন্থের তৃতীয় সংস্করণে ( শ্রাবণ ১৩৬১ বঙ্গাব্দ ) কবিতার অদলবদল করা হয়েছে। প্রথম সংস্করণের পউষ, পথহারা, অবেলার ডাক, পূজারিণী, অভিশাপ, পিছু-ডাক, কবি-রাণী কবিতাগুলি বাদ দিয়ে হংসদূতী, সে যে চাতকই জানে তার মেঘ এত কি, লাল নটের ক্ষেতে, মদালস ময়ূর-বীণা কার বাজে গান, না মিটিতে সাধ মোর বেণুকা, তোমার ফুলের মত মন, বরষা, ঐ নীল গগনের নয়ন-পাতায়, মাত্লা-হাওয়া, সবুজ শোভার ঢেউ খেলে যায়, বনমালি, বেদনা-অভিমান, নিশীথ-প্রতিম, অ-বেলায়, হার-মানা-হার, বেদনা-মণি, পরণ-পূজা, অনাদৃতা, নীলপরী, ¯েœহ-ভীতু, অকরুণপিয়া, মরমী, মুক্তি-বার, বিরাগিনী, হারামণি, প্রিয়ার রূপ, পাপড়ি-খোলা, বিধুরা পথিক, প্রিয়া, প্রতিবেশিনী, বাদল-দিনে, মনের মানুষ, কার বাঁশি বাজিল, দহনমালা, দুপুর-অভিসার, শেষের গান, রৌদ্র-দগ্ধের গান, আলতা-স্মৃতি কবিতাগুলি সংযেজিত করা হয়েছে। এই কবিতাগুলি “ছায়ানটে”র অন্তর্গত ছিল।

কবিতা কাব্যগ্রন্থ পঠিত
পূজারিণী দোলনচাঁপা ৬৫৮৬ বার
পিছু-ডাক দোলনচাঁপা ৫৬২১ বার
পথহারা দোলনচাঁপা ৪৫০১ বার
পউষ দোলনচাঁপা ৩৬২০ বার
কবি-রাণী দোলনচাঁপা ৩২০৮ বার
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে দোলনচাঁপা ১৬৪৮৯ বার
অভিশাপ দোলনচাঁপা ৮৬৫৯ বার
অবেলার ডাক দোলনচাঁপা ৪৪৩১ বার