মুরগীর মত ভালোবাসা
- মারুফুল হাসান - জীবনের বাসন্তী-রঙ ভালোবাসা

বাসন্তী, ঝোপের পাশে বাচ্চাসহ মা মুরগীকে দেখে সেদিন বললে, জীবন দা, মানুষের নাম রাখা হয় কিন্তু মুরগীর নাম রাখা হয় না কেন? একটা মিচকে হাসি দিয়ে বললাম, মানুষের নাম রাখা হয় জন্মের পর আর মুরগীর নাম রাখা হয় মৃত্যুর পর। তুমি চোখ পাকিয়ে তাকালে যেন মহাভারত অশুদ্ধ করে ফেলেছি। আমি আবার বলতে শুরু করলাম, চিকেন তন্দুরি, চিকেন ফ্রাইড, চিকেন চাপ, চিকেন স্যুপ, চিকেন বার্গার, চিকেন রোল, চিকেন স্যান্ডউইচ... ‘আহ! থামো তো জীবন দা।’ তুমি চেঁচিয়ে উঠলে। আমি থেমে গেলাম। তুমিও। নৈঃশব্দের খাতায় জমা হলো কিছু সময়। তারপর আপনমনে বললে, গরু, খাসি, বকরি, ভেড়া একদম পছন্দ করি না। দেশি মুরগী খুব ভালোবাসি। আমি বললাম, কেমন ভালোবাসো? মেম সাহেবের কুকুরের মত স্যাম্পু দিয়ে গোসল করাও? মায়ের মত ভাত খাওয়ে দাও? নাকি প্রেমিকের মত ধরে চুমু খাও? তুমি কপট রাগ দেখিয়ে বললে, ‘জীবন দা তুমি কথা এত প্যাঁচাও কেন বলো তো? আমি মুরগীর মাংস খেতে পছন্দ করি।’ আমি বুঝলাম কাউকে ভালোবাসা মানে খেয়ে ফেলা। তোমার এসব কথা মনে হলে আমি হেসে উঠি না বা কেঁদে পড়ি না। শুধু বিষন্নতার নীল বিষ ছড়িয়ে পড়ে স্মৃতি-দেহে। চিন্তার কুঠুরিতে একটা বিড়াল-ছানা-প্রশ্ন চুপটি করে বসে থাকে, তুমি কি আমাকে মুরগীর মতই ভালোবাসতে?


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026