নতুন বসন্তের ডাকে
- অনুপ কুমার বিশ্বজিৎ

যখন নবীন বসন্ত কড়া নাড়ে বনপথের দ্বারে,
তখন ঝরা পাতার ইতিহাস নীরবে মিশে যায় ধূলার স্রোতে।
নতুন কুঁড়ির হাসিতে পুরোনো ঋতুর দীর্ঘশ্বাস
শুধু বাতাসের বুকে অশ্রুর মতো কেঁপে ওঠে।

নদী যখন সাগরের নীল আহ্বানে পথ হারায়,
ফেলে আসে আপন তীরের নীরব প্রতীক্ষা।
তীর কিছু বলে না—
শুধু চাঁদের আলোয় জোয়ারের শব্দ শুনে
অতীতের পদচিহ্ন খুঁজে ফেরে।

যে পাখি একদিন এই ডালেই গেয়েছিল ভোরের গান,
আজ সে অন্য আকাশে নতুন সূর্যের বন্দনা গায়।
বৃক্ষ অভিমান করে না;
শুধু শুকনো পাতার মর্মরে
লুকিয়ে রাখে বিদায়ের অশ্রু।

মানুষের মনও বুঝি ঋতুরই আপন সন্তান—
নতুন ফুলের সৌরভে কখনো ভুলে যায়
গতকালের নিবিড় ছায়া।
তবু যে প্রদীপ সারারাত জ্বলে পথ দেখিয়েছিল,
তার নিভে যাওয়া ধোঁয়াও আকাশে গল্প লিখে যায়।

আমি তাই কোনো অভিযোগ রাখিনি।
প্রেম তো শিকল নয়,
সে মুক্ত আকাশে উড়ে যাওয়া পাখির ডানা।
যে চলে যায়, সে যাক—
তার পথের ধুলোতেও রইল আমার নীরব আশীর্বাদ।

তবু যদি কোনোদিন নতুন ফুলের রঙ ফিকে হয়ে আসে,
আর সন্ধ্যার বাতাসে স্মৃতির বাঁশি বাজে,
তবে হয়তো মনে পড়িবে—
প্রথম শিশিরের স্পর্শ ভুলে না কোনো ভোর,
প্রথম আলোর ঋণ ভুলে না কোনো প্রদীপ,
আর প্রথম ভালোবাসার নীরবতা
সময়ের সাগর পেরিয়েও
হৃদয়ের অন্তরালে চিরকাল জেগে থাকে।


০৫-০৭-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026