শবে-মে’রাজ
- আবদুল্লাহ্ আল-নিটাব খাঁন

নবুয়াতের সাত বছর কালের শ্রেষ্ঠ নির্যাতন,
নিরবে নির্দ্বিধায় মুহাম্মাদ (স) করিছে সহন।
তাদের বিবেকে ছিল যত নিপীড়নের কৌশল,
অনায়াসে সাহাবাদের উপর করিছে কাফিরদল।
বুকেতে পাথর চাপা, মুখে তপ্ত বালি ঢেলে,
সেজদারত নবীর কাঁধে উটের নাড়ি ভুঁড়ি তুলে।
বর্শার ঘাঁত আঘাতে সুমাইয়া হইয়াছে শহীদ,
অবর্ণনীয় যত অত্যাচার, ছিলনা জ্ঞান হিতাহিত।
অতপর অষ্টম বছর কাফিরগণ হইয়া এক জোট,
নবী ও সাহাবাদেরকে করিল সমাজচ্যুত।
তিন বছর সর্ব লেন-দেন ছিন্ন আত্মীয় বন্দন,
এক ঘরে নবী-সাহাবা নিরবে অবিরত ক্রন্দন।
পর পর চাচা ও খাদিজার মৃত্যু বিয়োগ-ব্যথা,
যায়েদের সাথে তায়েফ বাসীর নির্মম নির্যাতিতা।
চারদিকে বলাবলি, কাফির মুশরিক শয়তান,
কোথায় তোমার খোদা, কোথায় তোমার সম্মান?
তুমি নির্যাতিত নিপীড়িত হচ্ছই দিন দিন
বল, আর কত নিচু যাবে, তুমি লজ্জাহীন।
কোথায় তোমার প্রভু, কোথায় দয়া-মায়া?
দেখাতে পারনি আদৌ তাঁর আলো- ছায়া।
শত সহস্র ঠাট্টা- বিদ্রুপ, উপেক্ষা উপহাস,
চারদিকে অরাজকতা নির্দয় ত্রাস- সন্ত্রাস।
ব্যথিত মনের ব্যথায় আকাশ বাতাস মুহ্যমান,
তখনি এলো প্রভুর, মে’রাজের মহা ফরমান।
একাদশবর্ষ রজব মাসে কোন এক রাতে,
বাইতুল্লা হতে আকসা জিব্রাইলের সাথে।
দৃষ্টি সীমার গতি বোরাকের পিঠে চড়ে,
মুহাম্মাদ দিলো পাড়ি খোদার দিদার সফরে।
ঊর্ধ্ব জগতে সপ্তকাশ ছাড়ি সিদরাতুলমুনতাহা,
মাকামে শরীফে আকলাম,আরশে মেহমান খানায়।
স্বয়ং প্রভু সালাম দিয়ে মহানন্দে করিল বন্ধু বরণ,
পাশাপাশি বসে কাছাকাছি ঘেঁষে কতনা কথোপকথন।
মুহাম্মদের পদচারণায় আরশ ধন্য পূর্ণতা আনে,
সৃষ্টির সর্ব উচ্চ স্থান ভূষিত করিল শ্রেষ্ঠ সম্মানে।
অতপর মহান প্রভু, মহা হাদিয়া দিলো বিদায় মাঝে,
বলিলেন বন্ধু,উম্মাত পাবে দিদার পাঁচওয়াক্ত নামাজে।।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026