আজ ২৯ আষাঢ় ১৪২৭, মঙ্গলবার

স্মৃতিচারণা
- মুজতাহিদ বিল্লাহ্

অতীতের স্মৃতিগুলো
আমাকে প্রচণ্ড বিষণ্ণতায় ঠেলে দিচ্ছে,
অতীতের স্মৃতি এখন যন্ত্রণায় রূপান্তরিত।
সেই যে গোলাপ হাতে পথের ধারে অপেক্ষায় থাকা,
একটু তাকাবে বলে, ঠোঁটের কোণে হাসি জমিয়ে রাখা,
পোষ্ট না করা রঙ্গিন খামের চিঠিগুলো যত্নকরে পোষা।
তুমিও তো কম সায় দাওনি?
তুমি এসেছিলে স্বপ্ন নিয়ে, আমাকে বানিয়েছো
স্বপ্নের ফেরিওয়ালা।
ভোরের সবটুকু শুভকামনা পাঠাতে আমার জন্য,
তোমার সারাদিনের ব্যাস্ততাতেও আমি মিশেছিলাম।
হাজার শহর, অসংখ্যা মানুষের ভিরে
আমাদেরও অনেক স্মৃতি।
মনেপড়ে? রেললাইন ধরে হেঁটেচলা!
সবুজ অরণ্য, গোধূলিলগ্নে কবিতার আসর,
ল্যাম্পপোস্টের সোডিয়াম আলো, কফিশপ, সব মিলিয়ে
অলৌকিক এক শিহরণ জাগানো অনুভূতি।
এটা ভালোবাসার অনুভূতি বৈ কি?

রসিক ছন্দে যোদ্ধা বলে ডাকতে,
কবিতা লেখাও নাকি যুদ্ধকরা!
আমি যোদ্ধা নই, আমি ছিলাম তোমার
ভালোবাসার ফেরিওয়ালা।
কেন বলতে গিয়েও সাহস হয়নি!
আচ্ছা "ভালোবাসি" শব্দটা মুখে বলা কি খুবই জরুরী?
শব্দে কেন প্রকাশ করতে হয়? এটা তো অনুভূতির বিষয়।
তবুও অবশিষ্ট সব সাহস সংগ্রহ করে
মনের ভাব'টা প্রকাশ করতে চেয়েছিলাম,
ভালোবাসি বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু বলিনি।
তোমাকে কেন্দ্রকরে নিজের অস্তিত্ব খুঁজতাম আমি।
অথচ তুমি অন্য কোথাও আলো ছড়াতে।
বিলম্বে বুঝেছি,
গোলাপে প্রকাশের মত ভালোবাসা আমার জন্য নয়।
এখন রাতের গভীরতায় অন্ধকার যতই সমাগত হয়
হৃদয়ের অন্তগহীনে আত্মচিৎকার ততই ঢাউস রূপ নেয়।
প্রকাশের দায়ে হৃদস্পন্দনের গতি বাড়ে, হৃদয় কম্পিত হয়।
সাদা পাতায় আত্মচিৎকারের প্রকাশ ঘটাই।
অবশ্য তোমার মতে যুদ্ধ বটে! এটা সহজ নয়।
বরং কিবোর্ডের এই যুদ্ধে নোটপ্যাডে জন্ম নেয়
নতুন অক্ষর। অক্ষরাদি পরিপক্ক হয়ে
শব্দ থেকে বাক্যে রূপ নেয়, পঙক্তি গুলো
তোমার নামে স্লোগান দেয়, তোমাকে ঘিরেই সব স্মৃতিচারণ।

মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ
শাওন মল্লিক
২০-০৩-২০১৯ ১৫:২৯

খুব সুন্দর হয়েছে ভাই

মুজতাহিদ বিল্লাহ্
০৩-০৪-২০১৯ ১৬:৪৫

ধন্যবাদ শাওন মল্লিক