আজ ৭ শ্রাবণ ১৪২৬, মঙ্গলবার

কিংকর্তব্যবিমূঢ়
- রবিন - বেলা অবেলা

বাহুবলে মিশে থাকা শৌর্যের আরাধনায়
ঢেলেছিলো সকাতরে কারা যৌবনের সুধা!
বাতাসে ভাসে আজো রক্তের ঘ্রাণ।
কাঁটাতারে ঘেরা সীমান্ত চাইনি—
চেয়েছিলাম স্বাধীনতা।

কী চেয়েছি আর কী পেয়েছি আজ?
সীমান্তের তারে ঝুলে ফেলানির লাশ,
আমরা নীরব—
ষোলো কোটি মানুষের শান্তিপ্রিয় জাতি!
তনু হত্যার ন্যায্য বিচারের প্রতীক্ষায় থাকি
কাটে না আর ক্ষণ।

রাজপথে নেই আজ মুক্তির মিছিল
বিলীন হয়েছে সেই কবেই!
প্রতিটা সড়কে মঞ্চস্থ হয় আজ শুধু মৃত্যুর মিছিল।
ভার্সিটি চত্ত্বরে আগলে রাখি মিশুক-মাসুদের স্মৃতি,
তবুও খবরের পাতা উল্টালেই পাই প্রতিদিন
সহস্র তাজা প্রাণ অকালে ঝরে যাওয়ার সংবাদ,
জেব্রা ক্রসিংয়ে আবরারের জামা রক্তে ভেজে হয় সয়লাব
তাও ট্রাফিক সপ্তাহে!
ঘুর্ণি দানবের চক্রাবলে পিষে যায় জীবন।
অসহায় চেয়ে দেখি অবাধে চলে ঘাতক; জাবালে নূর,
মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে নিরাপদ সড়কের দাবি।
সঁপে দিতে প্রাণ বেপরোয়া চালকের হাতে,
এমনতো চাইনি—
চেয়েছিলাম নিশ্চয়তা।

আজো শুনি ধর্ষিতার রোনাজারি
রাস্তার পাশের পরিত্যক্ত গুদাম হতে
সতেরো বছরের মেয়ে আর একান্ন বছরের মা
চিৎকার করে সমস্বরে, "ছেড়ে দে শয়তান! .... ইয়াল্লা! রক্ষা করো।"
রক্ষা হয় না কারো।
ছুড়ি কিংবা বুড়ি— কেউ বাদ যায় না;
বাদ যায় না কোন তৃতীয় কিংবা শিশু শ্রেণির শিশুও।

চৈত্রের জলহীন শুকনো চৌচিড় নদীতে
এইসব জানোয়ারেরা তৃষ্ণা মেটায় কীভাবে?
ভাবতে অবাক লাগে!
আমাদেরই কেউ ধর্ষক, কেউ নীরব দর্শক; কিংকর্তব্যবিমূঢ়
সর্বগ্রাসী নির্বিকার ছায়াপথে পড়ে থাকে আমাদের
নির্জীব-আড়ষ্ট সত্ত্বা।
অথচ— আমারা পশুত্বকে ঘৃণা করেছিলাম,
চেয়েছিলাম স্বাধীনতা।

আজ এই পরাধীনতা শত্রুর কাছে নয়,
স্বাধীনতা আজ অজস্র লালসায় বন্দী শিকলে
মাথা ঠুকে যাওয়া কয়েদী।
রিপুর তাড়নে রুদ্ধ বিবেক মুক্ত হবার নয়
নিজেদের দীনতায় আমরা কেবলি হতবাক হই
লজ্জায়-ঘৃণায় অবচেতন মনে ধিক্কার দিই নিজেকেই,
মুখ উঁচিয়ে উপরের পানে থুথু ফেলি—
"মূর্খ, বাঙালি!"

স্বাধীনতা নাকি এসেছিল সেই একাত্তরে!
সুফল কি পেয়েছি দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরেও?
অবাক বিস্ময়ে আজ কেন মনে হয় বরং
যেই চেতনায় রক্ত ছিলো টগবগে
সেই রক্তবীজ আজ অক্ষমতায় ঘুমিয়ে—
চেতনাহীন পরাধীন।

দিনে দিনে শুধু বাড়লো প্রজন্মের দেনা
পুর্বপুরুষের তেজোদীপ্ত শোনিতের ঋণ
ক্রমাগত দায় বর্তায় ভারি,
এই দায়ভার মাথা তুলে নেওয়ার আছে কি কেউ?
কোনদিনও জ্বলবে কি ফের সেই চেতনার আলো!
আবার নতুন করে।
অনিয়মের চোখে চোখ রেখে বলার আছে কি কেউ?
কাঁটাতারে ঘেরা সীমান্ত চাইনি,
নির্বিঘ্ন স্বেচ্ছাচারিতার জন্যে ভূখণ্ড চাইনি—
চেয়েছিলাম স্বাধীনতা।

পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম
১৯ মার্চ, ২০১৯ ইং।

মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ
রবিন
২৫-০৩-২০১৯ ১১:৫৮

সবাইকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা আর কবিতা পড়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। অফিসের দেয়ালিকার জন্য লিখেছি।

রবিন
২৫-০৩-২০১৯ ২২:১২

সবাইকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা আর কবিতা পড়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। অফিসের দেয়ালিকার জন্য লিখেছি।

শাকিল আহমেদ জয়
২১-০৭-২০১৯ ০৮:০৫

Wow