ণিতের নক্ষত্র
- মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

ণিতের নক্ষত্র
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট.কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*******************************************

তরগাও গ্রামের মাটিতে জন্ম নিল জ্ঞানের প্রদীপ,
সিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ, গণিতের নক্ষত্র অমলিন দীপ্তি।
পিতা মোঃ সদর উদ্দিনের আশীর্বাদ ভাসল শৈশবে,
নদীর স্রোত, বাতাসের নৃত্য—সবকিছুতে খুঁজে পেল চিরন্তন ছন্দ।

অঙ্কের রেখা, ত্রিভুজের কোণ—তার প্রথম বন্ধু,
বীজগণিতের ছন্দে আঁকে জীবন, ভেক্টরের মতো দৃঢ় ও নূরাণি।
১৯৬২ সালে পাস করল ম্যাট্রিকুলেশন,
১৯৬৪ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এইচ এস সি অর্জন, অন্বেষণের স্রোত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৬ সালে বি এস সি পাস করে,
ফাংশনের গতি, ডেরিভেটিভের ছন্দে ভরে গেল অন্তর।
১৯৭৬–৭৭ সালে বিএড অর্জন করল,
শিক্ষার জগতে খুঁজে পেল নিরপেক্ষ রেখার মতো স্থিতি ও দীপ্তি।

প্রথমে পাবুর উচ্চবিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসাবে কর্মজীবন শুরু করে,
ছাত্রদের হাতে আঁকে সমীকরণের রেখা, বৃত্ত ও অক্ষর সমন্বয়।
১৯৬৯ সালে যোগ দিল কাপাসিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে,
অঙ্কের জগতে রচনা করল অমলিন প্রেরণা, গণিতের নক্ষত্রে শোভিত।

১৯৮৩ সালে পদারোহী হয়ে হল সহকারী প্রধান শিক্ষক,
নির্মল জ্ঞানের স্রোতে ভাসাল ছাত্রদের স্বপ্নময় নীড়।
১৯৯৭–২০০৫ এর ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক,
অত্যন্ত সফল ও দক্ষ, শিক্ষার দীপ্তি ছড়াল, অক্ষরে অক্ষরে।

শেষে অবসরে যান, কর্মজীবন শেষে শান্তির আশ্রয় নিল,
জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিক্ষার দীপ্তি রেখে গেল চিরন্তন ছন্দিল।

লগারিদমের সুরে মিশে যায় তার অন্তরের গান,
ত্রিকোণমিতির নক্ষত্রে খুঁজে পায় চিরন্তন প্রাণ।
ভেক্টরের ভিড়ে আঁকে স্বপ্নের মানচিত্র,
সমীকরণের ছোঁয়ায় খুঁজে নেয় চিরন্তন নীড়।

পাই এর ধারায় ভেসে যায় তার ভাবনার স্রোত,
অসীমের পথে পদক্ষেপ রাখে ধীর, ধীর আলোত।
নক্ষত্রগণনা তার হাতের আঙুলে,
সংখ্যার নৃত্যে জ্বলে চিরন্তন ফুলে।

ডেরিভেটিভের তীক্ষ্ণ ছোঁয়া, ইন্টিগ্রালের মৃদু স্পর্শ,
ফাংশনের রেখা মিলিয়ে চিত্রায়িত করে জীবনের ধ্রুব।
সূর্যের রশ্মি যেন সমীকরণের রেখা,
চাঁদের ছায়া যেন বিন্দুগণনার মতো শীতল।

আকাশের নীলমণি, আকাশগঙ্গার আলো,
প্রকৃতির সব রূপকেই মিশিয়ে আঁকে জীবনের ছন্দ।
বৃষ্টির ফোঁটা, পাতার নৃত্য, নদীর স্রোত, বাতাসের সুর,
ত্রিভুজ ও বৃত্তে খুঁজে পায় জীবন ও চিরন্তন জ্ঞানের মূল।

সংখ্যার প্রতিটি অণুতে খুঁজে পায় দার্শনিক ভাব,
প্রকৃতির প্রতিটি ছায়ায় খোঁজে তার অন্তরের তীব্র স্বপ্ন।
ডানার মতো প্রসারিত জ্ঞান, বীজগণিতের নীলছায়া,
ভেক্টরের মানচিত্রে খুঁজে নেয় অসীমের পথচলা।

অবসরে গেলেও তার দীপ্তি অমলিন,
ছাত্রদের হৃদয়ে গণিতের নক্ষত্র হয়ে জ্বলে চিরন্তন।
অঙ্কের ছন্দ, প্রকৃতির ছায়া, আকাশের নক্ষত্র—
সবকিছুকে মিলিয়ে লেখা তার চিরন্তন কাব্য।

সংখ্যা ও রেখার মাঝে খুঁজে পায় চিরন্তন দর্শন,
প্রকৃতি ও আকাশের আলোয় লিখে গেল অমলিন কাব্য।
তরগাও গ্রামের মাটি, নদীর স্রোত তার প্রেরণা,
পণ্ডিতের চোখে গণিতের জ্যোতি, সৃষ্টির ধ্রুব তারা।
------------------------------------------------


১৮-০৯-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026