জীবন এক টুকরা ফসলি জমিন
- ফয়জুল মহী

আজ,এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে শুধু এটুকুই মনে হয়
ভবিষ্যৎ গড়তে এসে, নিজের বর্তমানটাকেই যেনো হারিয়ে ফেলছি। কর্ম পর ক্লান্ত শরীরটা নিয়ে মাঝে মধ্যে কোথাও হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে । এমন কোনো জায়গায়, যেখানে কেউ চিনবে না, কেউ ডাকবে না, কেউ কোনো প্রত্যাশা রাখবে না। কেউ কখনো কোনো অভিযোগ করবে না পাওয়া না পাওয়ার। পেয়েও না পাওয়ার যে অভিযোগ করে একজন প্রবাসীর বিরুদ্ধে সেই মানসিক যন্ত্রণাও থাকবে না।

প্রতিদিনের এই একই যুদ্ধ, একই দায়িত্ব, একই মুখোশ পরে থাকা সবকিছু মিলিয়ে প্রবাস যেনো মানুষটাকে ভিতরে ভিতরে একটু একটু করে ফাঁকা করে দেয়। শেষ পর্যন্ত মুখে হাসিটা থাকে, কিন্তু সেটাও আর নিজের মনে হয় না। ভেতরে আর আগের মতো অনুভূতি থাকে না।
কখনো কখনো মনে হয়, যদি সত্যিই কোথাও হারিয়ে যাওয়া যেতো।
একটা নির্জন বিকেলে, অচেনা কোনো পথে, যেখানে কেবল বাতাস থাকবে, আর আমি থাকবো, একান্ত নিজের হয়ে। নিজের সাথে
কোনো হিসাব নেই, কোনো ব্যাখ্যা নেই, কোনো প্রমাণ দেওয়ার দায় নেই।

আর এই হারিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাটা আসলে জীবন হতে পালিয়ে যাওয়া না । এটা একটু শান্তি খোঁজার চেষ্টা এইটা একটু একান্ত সুখ খোজার চেষ্টা। নিজেকে আবার নতুন করে খুঁজে পাওয়ার একটা নীরব আর্তি ও নীরব আকুতি । কারণ ক্লান্তি শুধু শরীরে মেদ করে না কখনো কখনো ক্লান্তি জমে মেদ করে মনেও। আর তখন মানুষ চায জীবন চাষে একটু হলেও থামতে, একটা নিঃশ্বাস নিতে, কিছু সময়ের জন্য হলেও শুধু নিজেকেই ভালোবাসতে।
তাই মজিদ মিয়া কখনো কখনো কাজকর্ম বাদ দিয়ে লম্বা ঘুম দেয়। কখনো কখনো নামিদামি হোটেলে ভোজনের ভিডিও করে বউকে পাঠিয়ে আনন্দ পায়।

গল্পঃ প্রবাস(১৪)


০৯-০৫-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026