জীবন এক টুকরা ফসলি জমিন
- ফয়জুল মহী
প্রবাসী মানেই কী শক্ত কাঠিন্যের প্রতীক? না কী ভিতরে লুকিয়ে থাকা আবেগ, দায়িত্ব আর আত্মত্যাগের এক গভীর সমুদ্র? ছোটবেলা থেকে শেখানো হয়, "ছেলেরা কাঁদে না।" অথচও কাঁদে শুধু লুকিয়ে, নিঃশব্দে। পকেটে টাকা না থাকলেও সন্তানের সামনে হাসিমুখে দাঁড়ানোর নামই হয়তো বাবা। ছেলের স্বপ্ন জলাঞ্জলি দিয়ে পরিবারের স্বপ্ন পূরণের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করার নামই হয়তো ভাই ।
পৃথিবীর ভার কাঁধে নিয়েও যাকে সবাই "বিবেকহীন" ভাবে, সেই হয়তো রাত জেগে প্রিয়জনের জন্য দোয়া করে। নিজের কষ্ট চেপে রেখে, সবার সামনে অটল থাকার নামই হয়তো প্রবাসী । কখনো প্রেমিক, কখনো স্বামী, কখনো বাবা, কখনো ভাই । প্রত্যেক পরিচয়ে তার একেকটি গল্প। ভালোবাসে, কিন্তু প্রকাশ করতে পারে না। কষ্ট পায়, কিন্তু বলার জায়গা নেই। ভেঙে পড়ে, কিন্তু তবুও সবার সামনে শক্ত থাকার অভিনয় করে। প্রবাসী
মানেই রহস্য, প্রবাসী মানেই নিঃশব্দ আত্মত্যাগ। পৃথিবী তাকে যতই কঠিন মনে করুক, তার ভেতরটা হয়তো ভালোবাসার গভীরতায় ভরা।
যেই পর্যায়ে গেলে দুনিয়ার সবকিছু অশান্তি লাগে, এখন ঠিক সেই জায়গাটায় দাঁড়িয়ে আছে মজিদ মিয়া। কোনো কিছুতেই আর আগের মতো শান্তি নাই।যে জিনিসগুলো একসময় ভালো লাগতো, এখন সেগুলোও বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষের কথা, চারপাশের শব্দ, এমনকি নিজের চিন্তাগুলোও এখন অসহ্য লাগে মজিদ মিয়ার। মনে হয় মাথার ভেতর একটা অদৃশ্য যুদ্ধ চলছে । একদিকে দায়িত্ব, বাস্তবতা, অন্যদিকে ক্লান্ত একটা মন, যে শুধু একটু শান্তি চায়।
সবাই ভাবে ঠিক আছে, কারণ মজিদ মিয়া চুপ করে থাকে। কিন্তু এই চুপ থাকা আসলে শান্তি না। এটা একটা জমে থাকা ঝড়, যা কাউকে দেখানো হয় না। কিছু কথা আছে বলার মতো মানুষ নাই। কিছু কষ্ট আছে বোঝার মতো কেউ নাই। তাই সবকিছু নিজের ভেতরেই জমে থাকে ,ধীরে ধীরে ভারী হয়ে আসে ।
এই পর্যায়ে এসে বুঝে মজিদ মিয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্লান্ত হয় তখনই যখন সে বাইরে না, নিজের ভেতরের সাথে লড়াই করে।
কিন্তু আজকের এই মুহূর্তটা একটা নিঃশব্দ লড়াই, যেটা শুধু মজিদ মিয়ার ভেতরের মানুষটাই জানে। মা বাবা ভাই বোন হতে বিচ্ছেদ হওয়ার করুণ ও এক শক্ত লড়াই।
গল্পঃ প্রবাস(১৬)
১০-০৫-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।