অবাধ্য মলাটের শরীরী কাব্য
- মোঃ আব্দুল্লাহ্ আল মামুন

অবাধ্য মলাটের শরীরী কাব্য
♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥

আমার এই বাহুলগ্নে থেকো জড়িয়ে,
আমায় ভালোবাসতে দাও মনের সাধ মিটিয়ে;
ঠিক যেভাবে আকুল হয়ে খোঁজে আমার মন,
আর তুমি যা ভাবোনি সম্ভব হবে কোনোদিন।

আমায় আজ দেখাতে দাও—ভালোবাসা কতটা সত্য, কতটা চিরন্তন।
নির্জনতার তাগিদে কিংবা পথভোলা পথিকের মতো আমি তোমার প্রেমে পড়িনি।
ভালোবেসেছি তোমায় কারণ, তোমাকে জানার পর বুঝলাম—
আমার সমস্ত অস্তিত্ব জুড়ে আমি তোমাকেই চিরস্থায়ী করতে চাই।

তোমার ঠোঁটের স্পর্শেই হোক আমার চিরকালের বিশ্রাম,
জীবনের বাকি পথটুকু ওখানেই কাটুক অবিরাম।
আত্মার গহীনের যে নিবিড়তা, সে তো মানুষেরই ভালোবাসার এক পরম অনুভব।

লোকে যা ভাবে, তার চেয়েও গভীর কোনো উদ্দেশ্য লুকিয়ে থাকে এর মাঝে;
এ যেন এক পথ—হৃদয়ের পাঠশালায় দীক্ষা নেওয়ার,
আর নিঃশর্ত ভালোবাসাকে বুকে টেনে নেওয়ার।

তোমার শরীরকে করেছি আজ আমার ক্যানভাস,
আমার আঙুলের তুলিতে জাগছে আদিম তৃষ্ণা;
সেখানে আমি এঁকে দেবো গোপন সব বাসনা,
শারীরিক প্রেমের এক তীব্র, গভীর কবিতা।
আমার স্পর্শের ভাষায় ফুটে উঠুক নিবিড় কাম,
তোমার ত্বকের ভাঁজে ভাঁজে লিখে দেবো আমার নাম।

বুকের চাদরে, চিবুকে আর নাভি-হ্রদের তীরে—
কামনার মেঘ জমে আসুক মিলন-উৎসবে ফিরে।
এমন অবাধ্য মলাটে আজ তোমায় জড়াবো বুকে,
ভাষার অতীত সেই সুখে, অবশ করা এক সুখে;
যেন তোমার দেহের প্রতিটা ইঞ্চি গলে মিশে যায় আমাতে,
তুমি শুধু আমার, কেবলই আমার—এই শরীরী কাব্যেতে।

তোমার কল্পনার ওপাড়ে ডানা মেলে;
আমায় একটিবার দেখাতে দাও—ভালোবাসা সত্যিই কতটা খাঁটি।

এমন তীব্র আবেগে আজ তোমায় আপন করে নেবো,
তোমার রূপের ক্যানভাসে আমার সবটুকু ঢেলে দেবো;
যেন তোমার দেহের প্রতিটা ইঞ্চি সাক্ষী দেয় এই ক্ষণের—
তুমি অন্য কারও নও, তুমি শুধুই আমার এ মনের।

বর্ষা আর সোহাগের রসে মাখামাখি,
ঠিক যেমনটি ছিল তোমার চাওয়া।
জানুক পৃথিবী, এ বর্ষা আসলে কামনার এক নিপুণ বর্শা,
যা নিখুঁত নিশানায় ফুঁড়ে গেছে আমাদের যত দ্বিধা, যত নীরবতা;

এ এক সুতীক্ষ্ণ মধুর আঘাত, যা জাগিয়ে তোলে অবশ শিরা-উপশিরা,
আমাদের আদিম সত্ত্বাকে করে তোলে অবাধ্য, দিশেহারা।

এই বর্শার টানেই আজ ভেঙে গেছে সব লোকলজ্জার বাঁধ,
তীব্র আলিঙ্গনে মেতেছে আমাদের প্রতিটি পলক, প্রতিটি রাত।

আর এই যে প্লাবন, অঙ্গ বেয়ে চুইয়ে পড়া এই যে জল—
এ তো কোনো আকাশের মেঘের সাধারণ কান্না নয়,
এ হলো দুটি তপ্ত দেহের মিলনে ঝরে পড়া তৃষ্ণার পরম ঘাম।

তোমার ত্বকের মসৃণ উপত্যকা বেয়ে,
বুকের চাদর আর নাভি-হ্রদের গভীরে যে রস জমেছে আজ,
তা তো সোহাগের চরম ক্ষণে নিঙড়ে নেওয়া এক পবিত্র অমৃত।

এ জল যেমন তৃপ্তির, তেমনই এ জল এক আদিম পিপাসার,
যা আমাদের শরীরকে ভিজিয়ে একাকার করে দেয় বারবার।
এই কামনার বর্শায় বিদ্ধ হয়ে, এই মিলনের জলে ভিজে,
এসো আজ নিঃশেষে হারিয়ে যাই একে অপরের মাঝে।


১৫-০৭-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026