নিরাপদ জীবন"ও পরনির্ভরশীলতা
- মোঃ আব্দুল্লাহ্ আল মামুন

নিরাপদ জীবন"ও পরনির্ভরশীলতা

সম্মুখে যা পায়, লুফে নেয় তাই, ভাবে একেই 'ভাগ্য' বলে,
দূর দিগন্তের আকাশ দেখে না, হাঁটে তারা চেনা গণ্ডি-তলে।

অল্প পরিশ্রমে, নিরাপদ কোণে, খোঁজে শুধু চিরস্থায়ী সুখ,
পরাধীনতার এই মায়াজালকেই ভাবে—উন্নতির পরম মুখ!

তারা ভাবে বুঝি খাঁচার ভেতরেই মিলবে জীবনের শ্রেষ্ঠ জয়,
স্বাধীন ডানার আকাশকে তাই বড্ড তাদের ভয়।

এরা হলো সেই উপকথার পাতা থেকে উঠে আসা লেজকাটা শিয়াল,
নিজেরা পঙ্গু, তাই প্রগতির পথে তুলতে চায় চিরকাল দেয়াল!
শ্রম দিতে ভয়, সাহস যে শূন্য, জড়তায় কাটে দিবারাতি,

কেউ যদি খোঁজে মুক্তির পথ, এরা নিভিয়ে দিতে চায় বাতি।
কেউ যদি বলে, "উদ্যোগ নাও, নিজের শক্তিতে বাঁচো!"
এরা ফিসফিসিয়ে বলে, "মরিবে রে মূর্খ, এ কোন আগুনে নাচো?"

স্তুতি গায় এরা: "মালিক মহান, কোম্পানি তার মস্ত বড়,
এই চাকরিটি ছেড়ো না কখনো, গোলামির পুঁজি করো জড়ো!"
বোঝে না তো মূর্খ, পাঁচ বছর পর, নিংড়ে যখন নেবে সব রস,
ছয় বা দশের শতাংশ বৃদ্ধিতে, কার হবে তবে যশ?
কোম্পানি যাবে মহাকাশ পানে, মালিকের হবে জয়জয়কার,
আর এই ভীরু ভৃত্যের ভাগে অবশিষ্ট রবে সামান্য অন্ধকার!

কাপুরুষ এরা, অলস ও অন্ধ, মজ্জায় লালন করে দাসত্ব,
প্রভুর প্রাসাদ গড়িতে গড়িতে ভুলে যায় নিজের অস্তিত্ব।
নিজেরাও কভু বাড়েনি ওপরে, অন্যকেও টানে নিচে,
যৌবন বেচে পরাধীনতার অন্তহীন এই মিছে।
শেষ জীবনে হিসাবের খাতা খুলে যখন বসিবে একা,
দেখিবে—জীবন জুড়িয়া শুধুই এক বিশাল শূন্য আঁকা!
সব শ্রম গেছে অন্যের ঘরে, নিজের থালাটি খালি,
লেজকাটা এই গোলামের জাত, নিজের ভাগ্যেই দিচ্ছে তালি!

সাবধান থেকো এই দল হতে, এরা সংক্রামক ব্যাধি,
সোনার শিকল পায়ে দিয়ে এরা, মুক্ত সিংহের পরম বৈরী যদি!

নিজের পায়ে কুড়াল মেরে, এরাই নিজের চরম শত্রু,
পরিবার আর সমাজের বুকে, বোনে এরা বিষের সূত্র!
সবচেয়ে বড় ঘাতক এরা—সেই প্রদীপ্ত লড়াকু যুবকের,
যে নিজের শ্রমে গড়তে চাইছে, স্বাধীন সকাল নতুন যুগের।

যে যুবক আজ ঘাম ঝরিয়ে, ভাগ্যকে চায় নিজের করতে,
জীবন, ভবিষ্যৎ আর আশার, নতুন কোনো আকাশ গড়তে—
এরা এসে তার ডানা কেটে দেয়, মগজে ঢালায় ভয়ের সীসা,
গোলামির ওই খাঁচায় পুরে, কেড়ে নিতে চায় মুক্তির দিশা!

সমাজকে এরা পঙ্গু বানায়, পরিবারে আনে জড়তার মায়া,
তরুণের ওই তেজোদ্দীপ্ত বুকে, ফেলে দেয় এক ভীরু ছায়া।
নিজেরা তো গেছে অতল তলে, অন্যকেও চায় টানতে নিচে,
প্রগতির পথে এরাই আসল বাধা, বেঁচে থাকে শুধু মিথ্যের পিছে!

চিনে রাখো এই অন্ধ সমাজকে, চিনে রাখো এই ঘরের শত্রু,
তারুণ্যের স্বপ্ন যে খুন করে, সেই তো অধম, সেই অপবিত্রু!

মালিক যে আজ মহাধনী, সে তো আরও চড়ে সম্পদের রথে,
গোলামের পরম শ্রম বিক্রি করে, হেঁটে যায় বৈভবের পথে।
আর যে ভৃত্য, মূর্খ ও ভিতু, তিমিরেই কাটে তার রাতি,
আজও সে গোলাম, কালও সে গোলাম, দাসত্বই তার চিরসাথী!
এভাবেই আসে মরণ তাহার, কাপুরুষতার গ্লানি নিয়ে,
প্রগতির আলো কোনোদিনও তার, ছোঁয়নি তো ভীরু প্রাণটিকে ছুঁয়ে।

ওরে তরুণ যুবক, সাবধান! এদের বিষাক্ত ছায়া থেকে দূরে থাকো,
এরা তোমাকেও দাস বানাবেই, ভাঙো এদের ওই ভয়ের সাঁকো!
সাফল্যের ওই উত্তুঙ্গ শিখরে, উঠতে দেবে না তোমায় এরা,
টেনে নামাবে খাঁচার ভেতর, যেখানে বদ্ধ চেতনা আর ঘেরা।
এরা চায় না কোনো ঈগল উড়ুক, মুক্ত ডানায় ওই নীল আকাশে,
এরা চায় শুধু সবাই মরুক, এদের মতোই এই দাস-বাতাসে!

তাই সাবধান! ভেঙে ফেলো আজ 'নিরাপদ' জীবনের রঙিন মরীচিকা,
বরণ করো আজ কঠিন পথকে, বুকে জ্বালো সংগ্রামের জয়টিকা!
আরামের ওই শয্যা ছাড়ো, আঘাত হানুক রূঢ় বাস্তব,
যুদ্ধ করো, রণক্ষেত্রে নামো, ছিনিয়ে আনো নিজের গৌরব।
সংগ্রামেই হোক শক্তির জন্ম, ঝড়ের বিরুদ্ধে মেলো ডানা,
তুমিও পারবে স্পর্শ করতে—সেই শিখর, যা আজও অজানা!


১৬-০৭-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026