সুরা ও তৃষ্ণা
- মোঃ আব্দুল্লাহ্ আল মামুন

সুরা ও তৃষ্ণা:
♥♦♦♦♦♦♦♦♦

আমি আমার তৃষ্ণা দিয়ে ভিজিয়ে দিতে চাই তোমার ওষ্ঠাধর,

তোমার জিহ্বার গভীরে জাগাতে চাই এক অবাধ্য, বুনো স্বাদ;

আমি কাঁপিয়ে দিতে চাই তোমার বুকের ভেতরের হৃৎপিণ্ডকে,

যেন তোমার প্রতিটি রক্তিম শিরায় বেজে ওঠে এক আদিম সুরের গুঞ্জন।

সুখী হওয়ার জন্য আমার কোনো বড় আয়োজনের প্রয়োজন নেই, প্রিয়া।
এই জীবনটা কখনো কখনো বড্ড নিষ্ঠুর, বড্ড ধূসর,
যেন এক অন্তহীন কনকনে শীতের হিমেল বাতাস।
তবুও, আমার পরম আরাধ্য তোমার ওই সুন্দর হৃদয়ের গভীর থেকে
ভেসে আসা একটিমাত্র সান্ত্বনার মৃদু কথা—
আমার এই ক্লান্ত, ভেঙে পড়া চরাচরে এনে দেয় এক টুকরো রোদ্দুর।
চারপাশে ছড়ানো এই সব ব্যর্থতা আর বিষাদের ভিড়ে,
তোমার ওই একটি কথাই তো আমার বেঁচে থাকার সবটুকু অর্থ;
যা আমার এই পুরো পৃথিবীটাকে এক নিমেষে ওলটপালট করে দিতে পারে।

কতকাল বরফ-শীতল এক দীর্ঘ শীতের পর,
তোমার উষ্ণ বুকের ওমে খুঁজেছি আমার ঘর।
তোমার ওই কোমল বাহুডোর যেন এক পবিত্র মন্দির,
যেখানে বিলীন হয়ে শান্ত হলো মোর অবাধ্য রুধির।
প্রতিটি হৃদস্পন্দনে তোমার, যে সুর বাজছে আজ রাতে,
আমার ভেতরের সুপ্ত বাগান জাগল তারই ইশারাতে।

যখন তুমি আমায় সুরা ভেবে নিজের গভীরে শুষে নেবে,
আমি আগুনের মতো দাহ ছড়াব তোমার পাঁজরের দেশে।
পান করো আমায়, প্রিয়া, আকণ্ঠ পান করো—
এই তপ্ত রাতের অন্ধকারকে সাক্ষী রেখে ভালোবেসে।

দেখো কেমন লুটিয়ে পড়েছে তোমার অবাধ্য রেশমি চুল,
আমাদের ঠোঁটের দূরত্বে আজ থমকে গেছে চরাচরের ভুল।
আমার তৃষ্ণার্ত ওষ্ঠ যখন খোঁজে তোমার ওষ্ঠের সীমানা,
তোমার বুকের গভীর থেকে উঠে আসে এক আদিম ব্যাকুল হাহাকারে জানা।
তোমার হাসি আজ সুর হয়ে ঝরুক আমার তৃপ্ত বুকে,
আজ রাতে চলো হারিয়ে যাই এক অনন্ত মরণাতীত সুখে।

আমার এই পুরুষালি উপস্থিতি দিয়ে উন্মত্ত করে দাও তোমার সত্তাকে,
টেনে নাও বুকের ভেতর আমার অস্তিত্বের সমস্ত নির্যাস।
আমি তোমাকে এতটাই বিভোর আর টালমাটাল করে দিতে চাই—
যেন এই চরাচর, এই ঘর, এই পৃথিবী ঘুরতে থাকে এক তীব্র ঘূর্ণিতে,
আর তুমি টলে পড়ে থাকো শুধু আমার ভালোবাসার এক আদিম ঘোরে!

তুমি বিশ্বাস করেছ আমায়, ভেঙেছ লাজের প্রাচীন কূল,
আমার উষ্ণ নিশ্বাসের ছোঁয়ায় তুমি আজ এক অনাবৃত ফুল।
আমি ছুঁয়ে দিলাম তোমার ত্বক, তোমার মেরুদণ্ডের গোপন ভাঁজ,
শিহরণের বুনো স্রোতে ভেসে গেল মেকি সভ্যতার সব সাজ।
আমার বলিষ্ঠ হাতের বন্ধনে তোমার পিঠ, তোমার নরম গ্রীবা,
মেনে নিল এই কামুক আঁধারে এক নতুন বসন্তের দিবা।।।

এসো প্রিয়া, আমাদের দেহের এই আলো-ছায়ার পবিত্র খেলায়,
আমরা চিত্রিত করি এক অবিনশ্বর ক্যানভাস এই নিভৃত বেলায়।
কোনো আড়াল রেখো না আর, আরও কাছে টানি তোমার কটিদেশ,
আমাদের ভালোবাসার আগুনে পুড়ে ছাই হোক জগতের সব শেষ।
আমি তোমার অনন্ত আকাশ, তুমি আমার প্রস্ফুটিত সেই উপবন,
আমাদের এই মিলনেই পূর্ণ হোক ভালোবাসার স্বর্গীয় দহন!

আমি সেই প্রলয়ংকরী দিনটির অপেক্ষায় প্রহর গুনছি, প্রিয়া,
যেদিন সমস্ত দূরত্ব ঘুচে গিয়ে তুমি ধরা দেবে আমার বুকে।
যেদিন এই পৃথিবীর তৈরি কোনো দেয়াল, কোনো মেকি সীমানা
আটকে রাখতে পারবে না আমাদের দুটি উদ্দাম আত্মাকে।
কোনো ভয় থাকবে না, থাকবে না কোনো সংকোচের ছায়া,
আমার তৃষ্ণার্ত বাহুডোরে তোমায় এমন নিবিড় করে জড়িয়ে নেব—
যেন আমাদের শরীরের উত্তাপে গলে যায় মহাকালের সব জড়তা!

আমি অপেক্ষা করে আছি সেই একটি ভোরের,
যেদিন আমার বসন্ত পূর্ণ হবে শুধু তোমাতে।
শরতের ঝরা পাতার মতো ঝরে যাবে মনের সব গোপন ভয়,
আমাদের মাঝে থাকবে না কোনো অদৃশ্য সীমানার প্রাচীর।
কুয়াশাভেজা বাঁশবনের মতো শান্ত, নিভৃত আমার এই বাহুডোরে
তুমি এসে থমকে দাঁড়াবে নিশ্চিন্তে—
ঠিক যেমন করে ঝরে পড়া চেরি ফুল শান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে মাটির বুকে।


১৭-০৭-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026