জিসমের মহাকাব্য
- মোঃ আব্দুল্লাহ্ আল মামুন
???? জিসমের মহাকাব্য
♣♣♣♣♣♦♦♦♦♦♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣
#মোঃ_আব্দুল্লাহ_আল_মামুন
এই কমবখত জাহানের যত ক্লান্তি, বিষাদ আর নোংরা তামাশা,
নিমেষে কর্পূর হয়ে যায় যখন জাগে তোমার বুকে আদিম দুরাশা।
কোনো ইত্তেফাক নয় প্রিয়া, এ যে এই কায়েনাতের প্রাচীন ফয়সালা,
আমাদের রক্তে আজ পুড়ুক যুগের পর যুগ ধরে জমে থাকা অবহেলার পালা।
আসো, আজ ভেঙে ফেলি এই ভীরু পৃথিবীর যত কৃত্রিম সরহদ আর লাজ,
নগ্ন রূহে মুখোমুখি দাঁড়াই, খুলে ফেলি সভ্যতার শেষ রাজকীয় সাজ।
কত কাল ধরে এ বুকে পুষেছি এক অবাধ্য মিলনের তীব্র ইন্তেজার,
কবে উথালপাথাল কামে ভেঙে পড়বে সমাজের এই অলীক দেয়াল আর দ্বার!
তোমার ওই খুবসুরত আঁখির অতল গহীনে আজ হারিয়ে যেতে চাই,
এই নশ্বর পৃথিবীর বুকে আমাদের প্রেমের এক নতুন সালতামামি লিখি তাই।
কোনো খওফ নেই আজ, নেই কোনো পিছুটানের ভীরু ইশারা,
আমার শক্ত দুই বাহুর পনাহে আজ সম্পূর্ণ নিস্ব ও জ্যান্ত হও তুমি, হে দিশাহারা।
তোমার মসৃণ নগ্ন পিঠে যখন আলতো করে বসে আমার অবাধ্য হাত,
স্তব্ধ হয়ে যায় এই মহাবিশ্ব, থমকে দাঁড়ায় কামোত্তাল এক গভীর রাত।
কাছে এসো, আরও কাছে, তোমার তপ্ত নাফাস আমার কানে ফিসফিসিয়ে যাক,
তোমার মনের গোপনে লুকিয়ে থাকা যত অবাধ্য তামান্না আজ মুক্তি পাক।
মুখের ভাষা আজ ম্লান হোক, আজ কথা বলুক আমাদের জ্যান্ত জিসম,
তোমার ওই ওষ্ঠের কাঁপনে টুটে যাক যুগের পর যুগ ধরে রাখা যত কসম।
আমার চওড়া বুকের জিলদে এবার খেলা করুক তোমার অবাধ্য জবান,
তোমার জিহ্বার প্রতিটি কামুক পরশ আমার রক্তে আনুক প্রলয়ের আহ্বান।
ঘাড়ের খাঁজে, গলার গভীরে যখন নেমে আসে তোমার নিশ্বাসের উত্তাল ওম,
আমার পুরুষালি সত্তার প্রতিটি লোমকূপে তখন ভেঙে যায় ধৈর্যের শেষ সোম।
তোমার ওষ্ঠের জাদুতে আজ আমায় পুরোপুরি করো বরবাদ, আমায় করো আজ ফানা,
এই প্রলয়ংকরী ধ্বংসের মাঝেই লুকিয়ে আছে আমাদের মিলনের আদিম নিশানা।
ত্বকের ওপর ত্বক ঘষে যাক, জাগুক এক অবাধ্য বন্য সুর,
আমাদের কামনার এই তপ্ত হুতাশনে পুড়ে ছাই হোক জগতের যত দূর-দূর।
এবার তোলো মুখ, আমার তৃষ্ণার্ত নয়নে চেয়ে দাও এক অপলক ইশারা,
তোমার নরম গর্দন আমার হাতের মুঠোয় আজ হোক সম্পূর্ণ দিশাহারা।
মাথাটি পেছনে হেলিয়ে দাও, চোখ বুজে নাও হে আমার পরম রূপসী,
আমার ওষ্ঠ আজ গ্রাস করবে তোমার ওষ্ঠের সবটুকু মধু, হয়ে এক পরম বিলাসী।
তোমার শুষ্ক লব আজ ভিজে যাক আমার ঠোঁটের কড়া ও তপ্ত দাহে,
আমাদের প্রথম দীর্ঘ বোসা আজ ভাসুক এক নিষিদ্ধ ও অবাধ্য রাহে।
বেড়ে চলুক তোমার বুকের ভেতরের প্রতিটি উত্তপ্ত ও চঞ্চল ধড়কন,
তোমার শিরায় শিরায় বইয়ে দিতে চাই লহুর এক তীব্র কামজ গর্জন।
জিহ্বায় জিহ্বা জড়িয়ে যাক, ওষ্ঠের গভীরে ওষ্ঠ হোক সজোরে বিলীন,
আমাদের দাঁতের কামড়ে আঁকা হোক এক আদিম চিত্রপট, যা অতি প্রাচীন।
এই চুম্বনের মদিরায় আজ বিষাক্ত হোক পৃথিবীর সব কৃত্রিম নীতি,
কামনার এই উত্তাল তরঙ্গে আজ রচিত হোক আমাদের প্রথম জিসমানি গীতি।
এবার আমায় পান করো প্রিয়া, শুষে নাও তোমার জঠরের গভীর খাঁজে,
আমি এক কড়া শরাব হয়ে গড়িয়ে যাবো তোমার উরুর অলৌকিক ভাঁজে।
জ্বলুক এক অবাধ্য আগুন যখন তুমি আমায় নিজের ভেতর সম্পূর্ণ শুষে নেবে,
আমাদের দুই শরীরের তপ্ত তরল আজ এক অভিন্ন মহাসাগরের খোঁজ দেবে।
তোমার নাভির গভীরে, তোমার কটিদেশের তীব্র ও কামোত্তাল আন্দোলনে,
মিশে যাক আমার পুরুষত্ব, একাকার হোক এক অলৌকিক অবাধ্য ক্রন্দনে।
নখের আঁচড়ে পিঠ লাল হোক, কামড়ে ক্ষতবিক্ষত হোক আমাদের তন,
এই তীব্র যন্ত্রণার সুখেই আজ সার্থক হোক আমাদের রক্তিম মিলন।
আমি গ্রাস করছি তোমাকে, তুমি গ্রাস করছো আমার শেষ অস্তিত্বের কণা,
এই কামজ প্রলয়ের মাঝে আজ কোনো কিছুই রইল না আর অচেনা বা অজানা।
আছড়ে পড়ুক জোয়ারের পর জোয়ার, কাঁপুক আমাদের মিলনের পবিত্র শয্যা,
ধুয়ে যাক, মুছে যাক এই পৃথিবীর শেষ সামাজিক ভয় আর কৃত্রিম লজ্জা।
আমার এই তীব্র উপস্থিতির কামোষ্ণ সুরূরে নিজেকে আজ করো উজার,
আজ রাতে কোনো হিসেব থাকবে না আমাদের অবাধ্য গুনাহর খতিয়ান।
তোমাকে আমি করে দিয়েছি আজ পুরোপুরি অবশ, সম্পূর্ণ বেখুদ আর মাতাল,
আমাদের এই নগ্ন মিলনের মাঝে থমকে গেছে মহাকালের অনন্ত কাল।
টালমাটাল পায়ে তুমি যখন লুটিয়ে পড়বে আমার এই চওড়া ও ঘর্মাক্ত বুকে,
ঘর ঘোরানো সেই মহাজাগতিক নেশায় কাঁপবে তোমার অবশ তন তীব্র সুখে।
পুরো ব্রহ্মাণ্ড লাটিমের মতো ঘুরছে আজ আমাদের এই নিথর চারপাশ জুড়ে,
আমরা ভেসে চলেছি এক অলৌকিক শূন্যতায়, জগতের সব নিয়ম থেকে দূরে।
আমি এক কামাতুর আশিক, তোমার জিসমের ওপর আজ আমার জয়পতাকা ওড়ে,
আমাদের এই কামোদ্দীপক প্রলয়ের শেষ নিশ্বাসে মেতে উঠুক চরাচর পরম ঘোরে।
তোমার ওষ্ঠের ভেতর সঁপে দিয়েছি আমার শেষ পুরুষালি হুঁশ আর পরম দান,
এই তীব্র ধ্বংস আর বিসালের মাঝেই চিরকালের মতো অমর হলো আমাদের জান!
১৭-০৭-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।