জীবনতরী
- আশরাফুন নাহার
কারও জীবন নদীর মতো জোয়ার ভাটায় তীর ভাঙে তীর গড়ে,
হাজার বাঁক তার চলায়,
কখনও দু'ভাগ হয়ে দুই দিকে সরে।
টলটল জল নিয়ে শৈশব যৌবন
শেষে জরা এসে ধরে।
কারও কারও জীবন আকাশের মতো,বিশালতায় মেঘবৃষ্টির খেলা।
রঙধনু যৌবন ক্ষনস্থায়ী,
কালবৈশাখী দম্ভোলিতে তার উন্মাতাল তারুন্য মেলা।
জীবনটা একফসলা ক্ষেত,চাষ করে যায় সারা আয়ুষ্কাল
তারপর ফসল জমে এ জনমে আবার ও জনমেও ।
কারও জীবন ফুলের মতো ফুটে,
কারও কলি অকালেই ঝরে।
কারও আবার মুক্ত বিহঙ্গ জীবন
মেঘের ঘ্রাণ নিতে উড়তেই থাকে।
কেউ আবার বিবাগী পথের মতো
জীবন কে যেতে দেয় কিছুটা উদ্দেশ্যহীনে।
কারও জীবন দ্বীপের মতো
নিজে জ্বলতে জ্বলতে অবশেষে নিভে যায়।
কারও আবার ঘরের কোণে
মন বেঁধে রেঁধে সেধে বেশ চলে যায়।
সিগারেটের মতো জীবন কারও
নিজেকে উৎসর্গ করে,অন্যকেও নিঃশেষ করে।
কলুর বলদের জীবন এখনও কারও কারও হয়।
স্বেচ্ছায় মরন বরনেও কেউ কেউ জীবনকে সার্থক মনে করে।
যন্ত্রের জীবন এখন খুব ছোঁয়াচে প্রায় সবাই
নিজেদের রক্তমাংস কে এমনকি অনুভূতিকেও যন্ত্রে রূপান্তরিত করে
কাঙ্খিত যান্ত্রিক জীবন সাধ নেয়।
এখনো আনমনা বাউল পাখির জীবন আছে গুটিকয়েক।
কোকিলের বসন্তসুখী জীবন কতজনাই বা পায়!
কত জীবন জীবনের মানে খুঁজতে খুঁজতেই জীবনাবসান হয়।
কারও আবার পেন্ডুলামের জীবন ঝুলেই থাকে।
তেলাপোকার দীর্ঘজীবনে কেউ তিক্ততা প্রকাশেও অক্ষম।
ফুটবলের জীবন পায় অনেকেই
অন্যের পায়ের আঘাতেই তার দুরন্ত গতিতে চলা।
স্বর্ণ জীবন খুব কম তারা আজীবন
অন্যকে শোভিত করে নিজরূপে।
জীবনের কি শেষ আছে?কত জীবনে কত যে গল্প,
কত যে কল্পকাহিনী,কত প্রেম,কত কান্না,
কত সাফল্য.কতযে গ্লানি চাপাবেদনা,সুখের অভিলাষ।
জীবন কে নিয়ে ভাবতে ভাবতে মৃত্যুপুরীতে নির্বাস।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।