শ্রমিক দিবস
- আবু জাফর বিশ্বাস
যুগ-যুগ ধরে শ্রমিকদের উপরে; দাসত্ব,শোষণ,নিপীড়ন ও ঋণ,
শ্রমজীবিদের অধিকার আদায়ের;শ্রমিক দিবস,ঐতিহাসিক দিন।
১৮৮৬ সালে ১লা মে ততকালে; শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারে;
প্রতিবাদী শ্রমিকগণ প্রাণ দিয়েছিল আমেরীকার শিকাগো শহরে।
শ্রমের মজুরি ও ৮ঘন্টা কাজের দাবিতে করেছিল আন্দোলন,
বুকের রক্ত ঝরে, হে মার্কেটের চত্বরে, শহীদ হলো শ্রমিকগণ।
যাদের রক্ত-ঘামে বেঁচে থাকে অর্থ, সচল থাকে অর্থনীতির চাকা,
তারাই হচ্ছে শোষিত বঞ্চিত,পায়না শ্রমের মজুরির ন্যায্য টাকা।
রানা প্লাজার নিচে পৃষ্ঠ হয়েছিল অগণিত গার্মেন্টস শ্রমিক,
তাজরিন গার্মেন্টসে অগ্নিদগ্ধের ঘটনাও ছিল ভয়াবহ মর্মান্তিক।
বনানীর এফআর টাওয়ার, এমন যতবার; যেখানে আগুন ধরে;
সেই মৃত্যুপুরে আটকে পড়ে, অসহায় শ্রমিকগণই পুড়ে মরে।
মনে উঠতেই আঁতকে ওঠে, বন্দি মানুষের বাঁচার আকুতি,
বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার আর্তনাদ, হৃদয় বিদারক অনুভূতি।
রোগে শোকে শীর্ণ শরীর, জীবনটা নিদারুণ হাহাকার,
তবুও সর্বশক্তি দিয়ে চালায় কাজকর্ম, তাগিদে জীবিকার।
হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসায় গড়ে তোলে গগণচুম্বী বিল্ডিং,
শীততাপ-নিয়ন্ত্রিত কক্ষে শুয়ে মালিকগন স্বপ্ন দেখে রঙিন।
কারণে অকারণে দেখায় রক্তচক্ষু, অহমিকা আর অহঙ্কার,
পায়না তাদের ঘামের প্রতিদান, পায়না ন্যায্য অধিকার।
সভ্যতার প্রতিটি ইট পাথরে জড়িয়ে শ্রমিকদের রক্তঝরা ঘাম,
আমরা কি এখনো পেরেছি দিতে শ্রমের ন্যায্য মজুরি ও দাম?
শ্রমিকদের সেই চেতনায় উদ্ধুদ্ধ হয়ে করি জাগ্রত শপথ গ্রহণ।
ঐতিহাসিক আন্দোলন ও আত্মাহুতিকে শ্রদ্ধাভরে করি স্মরণ।
---------------------------------------
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।