বিদায়পত্র
- সুকন্যা তিশা
পিদিমের আলো দূর থেকেই পাওয়া ভালো
কাছে গেলে পুড়ে গিয়ে ক্ষত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ।
তেমনি খুব বেশি কাছের মানুষদের জন্য
দূর থেকেই শুভকামনা রাখতে হয় ।
খুব কাছে যেতে নেই ,
তাহলে অধিকার নামক ঘুনপোকাটার কিট কিট ডাকে
অনধিকার চর্চাটা হয়েই যায় শেষ পর্যন্ত ।
মাঝে মাঝে সেই ডাক এতই তীব্র হয় যে
নিবোর্ধ মানুষের মত শেষ সীমানাও পাড় হয়ে যায় ।
সীমাহীন এসব ঘটে যাওয়া ঘটনার ব্যাখ্যা
খুঁজে পাওয়া তখন এতটাই মুশকিল হয় যে-
যা দেখা যাচ্ছে তা যে সবসময় ঠিক নাও হতে পারে ,
এটা বোঝার মত অনুভূতিও লোপ পায় ।
সম্ভবত সৃষ্টিকর্তা এই অনুভূতিটি কাছের মানুষদের দেনই না ।
নাহলে কাউকেই আর এরকম
‘অঘটনের ঘটন পটীয়সী’ হয়ে হিনমন্যতায় ভুগতে হয় না ।
অপরাধীকে অপরাদের শাস্তি পেতেই হয় এটাই স্বাভাবিক।
বন্ধুর সাথে সদাচরন করার মত জ্ঞানবোধও যার নেই
তার “মহা জ্ঞানী” নামক গালি শোনা ছাড়া
আর কি-ই বা প্রাপ্য থাকে ?
তবুও কাউকে আঘাত করে সুখী হয়ে
ঘুরে বেড়ানোর মত পাষণ্ড এখনও হতে পারি নি ।
তাই নত শির নিয়েই স্বেচ্ছা নির্বাসনে গেলাম ,
কারন তোর সামনে দাঁড়ানোর মত মুখ আমার আর নেই ।
শুধু যাবার বেলা এতটুকুই বলার –
এ প্রভাত রবি শুধু তোর জন্যই ,
সমগ্র পৃথিবী তোর ছায়ায় আশ্রয়ের অপেক্ষায় ,
কোন অবাঞ্চিত মানুষের কথায় নিজেকে ছোট করে দেখে ভুল করিস না যেন !
শুধু বিদায় পত্র টি পরে মনে মনে অন্তত একটি বার বলিস –
‘যেখানেই থাকিস ভালো থাকিস । ’
তোর দেয়া শেষ শুভকামনাকে সঙ্গি করে বাকিটা জীবন অনায়াসে চলে যাবে ।
ভালো থাকিস ।বড্ড বেশি ভালো থাকিস বন্ধু।বিদায়।।।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।