করুণ সুরের রাগিণী
- সুকন্যা তিশা
সে আসবে বলে আজ অন্যভাবে সেজেছি,
চোখে কাজল আর ঠোঁটে হালকা কারুকাজ ।
আলমারীতে তুলে রাখা নতুন শাড়িটা বের করেছি,
মা বার বার এসে দেখে যাচ্ছেন কেমন লাগছে আমায়!
‘একবার বলছে এটা পর; আরেকবার বলছে না ওটা পর,
ওই শাড়িটাতেই বেশ মানায় তোকে,’
কিছুক্ষন পর পর এসে বুকে জড়িয়ে ধরছে ;
আর কেঁদে কেঁদে বলছে-“বিদায় দেয়ার প্রথম আয়োজন করছি,
কিন্তু আমার ঘরের লক্ষি চলে গেলে থাকবো কি করে ?”
আমার মনটা ভারী করে দিয়ে আবার নিজেই সান্ত্বনা দিচ্ছে-
‘তাতে কি ! এখনই তো আর চলে যাচ্ছিস না ,
হাসিটাকে মলিন হতে দিস না কিন্তু ! ভালো লাগবে না তাহলে।’
কষ্ট জড়ানো ওই চোখে মুখে কি যে শান্তি
আর মায়াময়ী হাসি দেখছি আমি, তোমায় বলে বুঝাতে পারবো না,
এ হাসিটাকে কি করে হারিয়ে যেতে দেই বলো ?
তাই ক্ষমা করো আমায় তোমাকে বুঝি
আর এ জনমে আমার জীবনের নায়ক করতে পারলাম না,
তবে কথা দিচ্ছি –
‘কালজয়ী উপন্যাসের নায়ক হয়ে তুমি বেঁচে থাকবে সারা জীবন,
আমার হৃদয়ের গোপন কুঠিরে-ঠিক আগের মতই যেমনটি ছিলে ।’
শুধু করুণ সুরের এই মূর্ছনায় বলতে চাই তোমায় -
‘ভালো থেকো তুমি আমায় ভুলে, যতটা ভালো থাকে ওই চাঁদ জোৎস্নার কোলে ।’
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।