অনাশ্রিত পদ্মকুমারী
- সুকন্যা তিশা
মৌনতা আমাকে গ্রাস করেছে
ভাবনাগুলো ডুবে গেছে অন্তবেলায়,
তোমাকে পাবার শেষ আশাটিও
ঝরা ফুলের মত ঝরে গেছে সাঝের বেলায়।
মায়াময়ী লাবণ্য রাতের জোছনাও এখন
রুক্ষতার চিটচিটে ভাবে হারিয়ে গেছে।
বদলে যাওয়া নিয়মে আমিও তাই অনেকটাই বদলে গেছি।
বেঁচে থাকার জন্য যতটা শক্তি প্রয়োজন,
তা এখন আমাকে কুড়িয়ে নিতে হয় এদিক ওদিক থেকে।
শুভ কামনার রশ্মি নিয়ে বাঁচার অবলম্বন হয়ে
সূর্য আর ঊর্ধ্বগগনে স্মিত হাস্যে ঘুম জড়ানো কন্ঠে বলে না-
“হৃদস্পর্শী, শুভ সকাল”,এক কাপ চা হবে ?
কল্পকাশে চা বানানোর প্রস্তূতি নিতে নিতেই
রাগ ,অভিমান ,খুনসুটি করে মন ভারাক্রান্ত হয়ে
মুখ ফুলিয়ে বসে থাকা সেই পাগলামীগুলোও
নিষ্ঠুরতার ডোজে হোমিওপ্যাথির শ্লথ গতির মত
কবে যে বিলীন হয়ে গেলো টেরই পাইনি ।
তাই এখন আর দুখী হওয়ার কারন না খুঁজে সুখের
অভিনয়ের জন্যে একটি কারনই হাতড়ে বেড়াই দিনভর।
ভালো থাকার অভিনয়ে বলতে গেলে অনেকটাই
দক্ষ অভিনেত্রী হয়ে উঠছি দিন দিন ।
গল্প,আড্ডার ফাঁকে লুকিয়ে রাখা দীর্ঘশ্বাসের বাতাসও
এখন আর কাউকে স্পর্শ করতে দিই না।
সব মিলিয়ে হিসেবের খাতায় বাকিই রয়ে যায় দিনের শেষে।
“তবুও পুরোটা দিনের মাঝে একটি বার
হলেও সে নিশ্চয়ই আমাকে মনে করে,
ভুল করে হলেও একবার অন্তত বলে –
“প্রিয় স্রুতি”হ্যা,ভালোবাসি তোমাকে ,
শুধু তোমাকেই ।শুনতে পাচ্ছো তুমি ?
বাতাসে কান পেতে দেখো ঠিক শুনতে পাবে।
তোমার গালে ছুঁয়ে যাওয়া ওই পরশখানি
যে আমারই, অনুভব করতে পারছো তো ?”
বাতাসী হয়ে ওই স্পর্শ গায়ে মেখে আর
মরিচীকার পিছু ছুটেই বাকির কোঠা পূর্ণ হয়
আমার সেই অনাশ্রিত পদ্মকুমারীর মতন,
তারপরেও খারাপ তো নেই আমি ,
ভালোই তো আছি ,হ্যা ভালোই আছি বোধহয়।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।