যমুনার ঢল
- শরিফুল ইসলাম
যমুনার পাড়ে রেন্টিয়ার চরে করিত বাস সে নূর ইসলাম
চোহালি বাজারে ধুগ্ধ বেচিতো,এই ছিল তার কাম।
বেলা যে যায় পড়ি,আসিয়া পড়িবে সহসা অথই জল
আকাশে মেঘের ঘনঘটা এখনি নামিবে ঢল।
দেরি না করিয়া সে দুগ্ধ বেচিতে যায় বাজারে
ধুগ্ধ বেচিয়া বাড়ি আসিবে দড়িয়ে যমুনার পাড়ে।
ভরা জোয়ারে যমুনার জল কুলেকুলে উছলায়
তরী যে আসে নাই ঘাটে সন্ধ্যা বয়ে যায়।
নদীর কিনার জলে একাকার,
যেদিকে তাকাই অথই পাথার।
নদীর কিনারে বসে ভোর হয়ে আসে
তরী যে নাই,নাই মাঝি নাই মাঝ দরীয়ায় ভাসে।
পাহাড়ের মত ঢেউ দরীয়ার কূলে উঠিয়াছে ভাসি
আজ বুঝি সবই নিবে ভাসি যমুনা সর্বনাশী।
সরারাত গেল ভাটা পড়ে এলো,এলো সে মাঝি
নতুন খেয়ার সাজে সজিয়ে সে তরী।
কোথা সে রেন্টিয়ার চর যমুনায় নিলো ভাসি
কোথায় আমার সোনার মানিকেরা,কোথায় বৌ
কোথায় গেলো তারা এখবর জানেনা কেউ,
বুক ফেটে যায় কাঁদতে পারিনা বয়স আঁশি
ভালবেসে মোরা গড়েছি বাসা রেন্টির চর বসি।
নদীর একূল ঘুরি ঐকূল ঘুরি মেলেনাকো দেখা
নদীর কূলঘেসে শাড়ির আচল ভাসে আমার সখা।
আকাশ কাঁদে বাতাস কাঁদে,কাঁদে তরু লতা
যমুনায় নিলো কেড়ে,এইকি লিখেছিলো কপালে বিধাতা।
এঘাট খুজি ওঘাট খুজি ,খুজে ফিরি নদীর কূলে
তিনদিন খুজি বড়খোকা কৈই,ভেসে ওঠে আরিচার কূলে।
সকাল দুপুর সন্ধ্যা সাজে একে একে সব লাস ভাসে
এবুকে পাষান বেধে তিন দিনে মোর চৌদ্দ লাস কাঁধে।
তিন তিনটা ছেলে আমার যমুনায় নিল কাড়ি
লাসের ভরে যমুনার বাতাস হয়েছে ভারী।
একে একে পায় লাস গুনি চৌদ্দ জন
নাতি পুতি সবই নিল কড়ি নিল প্রিয়জন।
গভির রাতে আসা বানে চর গেল ধসে
প্রিয় হারা বৃদ্ধ আমি কি করিব ভাবি বসে।
ব্যাত বাড়ি গোরস্থানে দিলাম সবার কবর
আর কে রাখিবে এই দুখি বৃদ্ধোর খবর।
আজ আমি ভিক্ষারী বাবা,ভিক্ষা করি তোমাদের দোরে
ভিক্ষারী সব বললো আমায় দুঃখ করুন সুরে।
-----------------------------
চৌগাছা০৯৷০৩৷২০১৬
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।