তাহার যাবার বেলা
- সুকন্যা তিশা - নষ্ট বিবেকের ক্রন্দন
গাড়িতে কে যেন শুয়ে আছে টানটান হয়ে
একটুও নড়ছে না ,কথা বলছে না ।
সাদা কাপড়ের আড়ালে লুকিয়ে রেখেছে নিজেকে,
হঠাৎ কেমন যেনো চেনা পরিচিত গন্ধ আসছে
সেই নিথর দেহটি থেকে ।
জিজ্ঞেসু মন প্রশ্ন করছে -কে সে ? এমন করে টানছে কেন আমায় ?
মুখের কাছে কাপড়টি সরাতেই আঁতকে উঠলাম আমি,
একি ! এতো আমার বড় ফুপু !
সম্পর্কের বাঁধন ছিন্ন করে তবে কি সে এখনই পরবাসী হলো ?
নিষ্প্রান দেহটিকে ফেলে গেলো আপনজনের শেষ বিদায়ের অপেক্ষায় ?
পাষণ্ডের মত ছোট দুটি সন্তানের কাছ থেকে
স্নেহ মাখা মমতার হাতটিও সারা জীবনের মত তুলে নিলো ?
কি করে পারলো সে ?
অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম বেশ কিছু ক্ষন ।
মৃত্যুর কারন সন্ধানে শেষ পর্যন্ত প্রকৃত কারনটিও জানা গেল না ।
অজানার খাতায় পড়ে রইলো তার শেষ ইচ্ছেটিও ।
যাবার বেলা না জানি কত অভিমানে ক্লান্ত ছিলো তার তনু মন ,
জানতেও দিলো না কাউকে ।
কি সুন্দর হলুদ বরন সাজে সাজিয়ে রেখেছে নিজেকে আজ ,
ঠিক যেন ফেলে আসা সব অযত্নের যত্নে গড়া কারুকাজ ।
একটু পরেই শেষ যাত্রার ধ্বনিতে স্তব্ধ হবে তার শেষ নিশ্বাসের
বাতাসটিও ।সঙ্গে যাবার মত কাউকেই আর পাবে না সে।
পৃথিবীর শেষ নিষ্ঠুরতাকে বিদায় জানিয়ে
সৃষ্টিকর্তার আশ্রয়ে নিজের ভূবনে সে যেন শেষ পর্যন্ত ভালো থাকে
এই কামনা করেই শায়িত করলাম তাকে চিরনিদ্রায় ।
উৎসর্গঃ তোমাকে এখনও খুব মিস করি ফুপু, তোমাকেই… (০৯.০৫.১৪)
মৃত্যুবার্ষিকি-০৯.০৫.১৩
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।