মাগো, তোর পদতলেই আমায় ঠাঁই দিবি,বল ?
- সুকন্যা তিশা - নষ্ট বিবেকের ক্রন্দন
একদিন মন উচাটনে উত্তরের জানালা দিয়ে দূরের আকাশ দেখছি,
হঠাৎ করেই হিমেল হাওয়া এসে বললো-
ওরে বোকা! দূরের ঐ নীলিমায় কি খুঁজছিস ?
চেয়ে দেখ-পাশেই আছি আমি সবুজপাতার আলোড়নে শিক্ত করবো বলে।
অবজ্ঞার ছলে ফের তাকালাম-
ইশশ ! না জানি কত জলের আধারে মেঘের ভেলা ভাসে,
না জানি কোন সীমানায় আকাশের শেষ আছে ?
আহা!যদি ওই আকাশ ছুঁতে পেতাম,পাখির মত থাকতো দুটি ডানা !
চকিতেই দেখি-দোদুল্যমান হয়ে ওই রক্তিম লাল-সবুজের
উড্ডীন পতাকা আমায় বলছে –“বিষণ্নতায় কোথায় হারাস তুই ?
ভালো করে তাকিয়ে দেখ শুধু তোর স্বপ্নগুলো ধরে রাখবো বলেই
মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছি আমি ,একবার শুধু সামনে এগিয়ে যা। ”
মনটা অচিরেই প্রজ্ঞাবান হয়ে গেলো।
স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘর ছেড়ে পা বাড়ালাম অসীমের পথে ।
হাঁটতে হাঁটতে একদিন সত্যিই পেয়ে গেলাম–বিশাল সমুদ্রের কিনারা,
দেখলাম এর ঠিক শেষ প্রান্তেই আকাশটা মিশে গেছে।
আনন্দে জলকনায় লিখে দিলাম-
দেখ না চেয়ে কেমন করে,আকাশ কাঁদে আমার পরে,
বাংলা হতেই শুরু যার, বাংলাতেই শেষ,
পবিত্র এ রূপের মাঝে আমি তো আছি বেশ।
পথযাত্রা চলছেই আমার,থামার ইচ্ছে হয়নি আর,
চলতে পথে এবার পেলাম-নীলগিরির মেঘমালায় আকাশের ঠিকানা ।
গর্বে বুক ফুলে উঠলো,সঙ্গে সঙ্গে মেঘরাশিকে জানিয়ে দিলাম-
বাংলার সবুজ বাংলার মাটি, বাংলার মধু কত না খাঁটি,
ভেবে দেখিনি অন্তর মেলিয়া, কি না খুঁজেছি পথ ভুলিয়া,
পেয়েছি তারে, অবশেষে যারে, খুঁজেছি এতদিন।
সৃষ্টিকর্তার করুণা অপার ,এমন দেশেতেই জন্ম আমার,
যে দেশ দিয়াছে বুক পাতিয়া,দিয়াছে ছুঁতে আকাশ ডাকিয়া।
কেমন করে তারে শ্রদ্ধা না করি ,কেমনে করি পর ?
মাগো,ভুল করে যদি ভুল করি কভু,তোর পদতলেই আমায় ঠাঁই দিবি,বল ?
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।