নিস্বন - ৪
- Nil Roy

জলের ভেতর এতো শব্দ। এতো দাগ
আকাশের বুকে পোড়া-মাটির দাগ
অপূর্ণতায় বেড়ে উঠা পোড়ামাটি
দীনতায় হীনতায়; ভাগ্যের নির্মম নিষ্ঠুরতায়
ছেয়ে যায় দিন- লক্ষহীন অলক্ষ্যে
সারস পাখি উড়ে যায় নীরব নিঃশ্চুপ।

জলের ভেতর এতো শব্দ-এতো গান- এতো প্রাণ
শিশিরের আনমনা সুর বেজে উঠে তেপান্তরে পুণ্য জলে ।
কর্মে-ধর্মে পৃথিবীর সকল শালবনে
দ্বীপান্তর, শিকড়-বাকড় সুসম সমতলে
স্বপ্নময় চোখের দ্যুতিতে তৃষ্ণার্ত ভালবাসার অবগাহনে
সুখ-সারি মাঝি, জোয়ার ভাটায় বৈঠা বায়
মোঘল- রোম- গ্রীস সভ্যতায়, বাকিমহাম,
ক্রেমলিন, জলজ নায়াগ্রা, বেথেল হেম
পৃথিবীর উৎস মুখ হতে তন্ন তন্ন করা
প্রতিটি জনপদ, রোদ- বৃষ্টি -ঝড়, তরুলতা;
বেবিলন, চিত্রানদীর এতো প্রেম এতো ছন্দপতন
এতো গভীরতা, প্রলুব্ধ প্ররোচিত করে নগ্ন- প্রেতাত্মা।

জলের ভেতর এতো শব্দ ? এতো গন্ধ ?
চন্দন নগরে তীক্ষ্ণ তীর ধনুক- গোলাবারুদ
দগ্ধ উদ্যান; অপ্সরা যুবতী থোকা থোকা রক্ত
ক্রন্দন; নিংড়ানো ভালবাসা।
ঝাপসা আলো- শ্মশানের চন্দন গন্ধ
তন্দ্রায়; মাটি চাপা; কাটাকাটি,
বজ্রের সঙ্গে মেঘের সঙ্গম
বাতাসে যুদ্ধের ফিস-ফিসানি, দামামা,
লক্ষ্মী পেঁচার কপোল বিদীর্ণ-লুণ্ঠিত,
স্রোতস্বিনীর আঁচলে রক্তের দাগ-কান্না;
সলজ্জ-রৌদ্রকণা; দুপুর।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।