অপ্রার্থিত কথোপকথন (১-১২)
- Nil Roy

১.

তুমিতো আজ আপন ঘরে আছো অন্যস্বরে
চেনা স্বরের কেউকি তোমার ভেতরটাকে নাড়ে?
নিজের ভেতর নিজেই কেন খুঁজে ফেরো ঘর,
ঘরহীন ঘরে কেউ খেলছে অন্যস্বর।

২.

অসংখ্য মৃত্যুর ভেতর আমার ছায়া যেন
অসংখ্য জীবনের ভেতর তুমি,
কতোবারের মৃত্যুতে বৃষ্টি শেষের রংধনু
আবাদের ঘ্রাণে ফিরে আসে ভূমি?

৩.

যেখানেই হাত রাখি
তৃষ্ণার্ত নগরীর বন্ধ্যা জীবন,
বস্তি অথবা ফুটপাত
চিলেকোঠা অথবা সুরম্য ঘর
সবখানেই অনিবার্য সঙ্গম।

৪.

তোমার ঘুমচোখে আমি বিরক্তির কাম
আমার আত্মার ভেতর তুমি আহত স্পর্শ,
স্বপ্ন খুঁড়তেই দ্যাখো অচেনা এক মোহ
আমি জেগে চোখে নিয়ে রাত্রির ঘাম।

৫.

আমরা হেঁটে চলছি যুগের ভেতরে নিশ্চুপ
আমাদের পেছনে শত বর্ষায়ু আগুন্তক,
হঠাৎ তাদের চোখে দেখি জন্মের আদিমতা
চিৎকারে আজ কাঁপছে স্বদেশ, আমরাই শুধু শ্রোতা।

৬.

আমিতো আর প্লাবন চিনি না
যতোই বৃষ্টি হোক,
জীবন চলেছে মৃত্যুও দিকে
হারিয়ে ফেলেছি শোক।

৭.

এবার পরাজিত মানুষের আত্মকথনের সময় এসে গেছে
এবার জয় হবে আমার,
এবার সাদাকালো ফ্রেম থেকে বের হয়ে আসবে জ্যন্ত অভিজ্ঞতা
এবার দৃশ্যপটে রঙের বাহার।

৮.
আমিতো আর অনুমিত সৌন্দর্যকে বিশ্বাস করতে পারিনা,
যতোই বলো সবকিছু আছে ঠিকঠাক- পরিপাটি সাজানো গোছানো।
তারপরও আমার বিশ্বস্থ মূহুর্তগুলো কৃত্রিম সৌন্দর্যকে ভয় পায়
বিরাণ হলেও ভেতরে শেষ মাড়াইয়ের চিহ্ন কিছুটাতো আছে
যা দিয়ে আগামী মৌসুমে স্বাভাবিক সৌন্দর্য ঘরে তুলতে পারি।

৯.
আমি আলোতে থাকি আঁধার হয়ে নিশ্চুপ,
তোমার ঘরে সান্ধ্য-ধূপে সারিয়ে দেই মনের অসুখ।
তুমি কি আজ শুদ্ধচোখে রাঙিয়ে দেবে দিন?
বুকের কাছে জমা আছে দুঃখ-রাতের ঋণ।

১০.
এই ভাঁজেতে তুমুল উত্তেজনা
ঐ ভাঁজে শব’র বাড়ি,
এক পাশে সময়ের উত্তাপ
অন্য পাশে থামা ঘড়ি।

১১.
ভুল মন্ত্রণার ভদ্রবেশ ছেড়ে
এবার তোরা মানুষ হ!
কমিউনিজমের ভেতর থেকে
পুঁজিবাদের অস্ত্র চালা!

১২.
হে বঙ্গমাতা,
তোমার স্তন থেকে আরও কিছু বিশুদ্ধ রক্ত ঝরাও!
আর না হলে,
রাজাকারদের কোলে তুলে দুধের ঋণে দেশ বাঁচাও!


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।