মধুর সময়
- সুকন্যা তিশা - নষ্ট বিবেকের ক্রন্দন

হারিয়ে গেছে কোথায় আমার সোনা ঝরা দিন,
চোখের জলে ভাসিয়ে দিলাম সেসব সুখের ঋণ।
কোথায় গেলে পাবো সেই নিস্পাপ ছোটাছুটি,
জারুল তলে বসে আবার খেলবো রান্নাবাটি?

লিচু চুরি করতাম যখন আমরা তিন জনায়,
বলতো এসে কলেজ পিয়ন এটা যে অন্যায়।
তবু কভু হতো না ভুল; ঢুঁ মারতে ওই গাছে,
প্রতিদিনই ঘাম ঝরতো লিচু চুরির কাজে।
থানা থেকে পেয়ারা চুরি করতে গিয়ে যেদিন,
ধরা খেয়ে ভেবা চেকা পুরোই আমরা সেদিন।
পরে আছে সেসব স্মৃতি শুধুই চিত্রপটে,
ফিরে আর পাবো না কভু এই ঘটে।

ছুটি শেষে বাড়ি ফেরা হতো নাতো সহজ,
খেলা রেখে কারো মনেই থাকতো না সে গরজ।
বরফ-পানি, গোল্লাছুট আর ফুল-টোকা খেলা,
আরো আছে লুকোচুরি সাথে নানান চেলা ।
স্যারের ভয়ে রাস্তার পাশে লুকাতে গিয়ে ধপাস,
আছাড় খেয়ে সেদিন বন্ধু হয়েছিলো হতাশ।
স্কুলের ওই পাশের ঘরে আছে নাকি ভূত,
তা নিয়েই করতাম যত গবেষণা অদ্ভূত।
বাজ পরে মাথা আমার হবে নাকি ফুটো,
সেই ভয়ে কেঁদে কেটে হতাম লুটোপুটো।

দিঘীর জল ছিলো না বলে কত হই চই,
উঁচু উঁচু ঢিবিগুলো সব হতো সবার সই।
ঢিবির উপর উঠাবে আমায় এমন কেউ কই ?
তা নিয়ে মন খারাপে আমি বসে রই ,
তখনই এক হিরো এসে বললো আমায় হঠাৎ,
চলো মিলে উঠি দুজন, ধরো আমার হাত।
নিশ্চুপ হয়ে যখন বসতাম গাছের গুঁড়িতে,
সে এসে ডেকে আমায় নিয়ে যেতো খেলতে।
কি যেনো নামটি তার আজ আর মনে নেই,
ঝাপসা সেই মুখটি তাহার ভাসে মাঝেই মাঝেই ।

স্যারের বাড়ির সেই কুকুর দিবে কি আর তাড়া?
যার ভয় দেখাতো আমার পাজি বন্ধুরা ।
একদিন তো তাড়া খেয়ে ধরলাম জাপটিয়ে
কলেজের এক প্রফেসরের কোলে উঠলাম গিয়ে।
অনেক অনেক আদর আর কথা বলা শেষে,
কয়েকজনকে দিয়ে আমায় পাঠালো অবশেষে।
বাড়ির সামনে এসে আমি দিতে যাবো দৌড়,
এমন সময় বললো তারা-
আমরা কি দেখবো না তোমার ঘর-দোর?
ছোট হলেও বুদ্ধি ছিলো মাথায় অনেক বেশি,
ছেলে মানুষ বাসায় নিলে হতে পারি দোষী।
বললাম আমি মা বকবে আপনাদের সাথে নিলে
আজ তবে এ পর্যন্তই বিদায় তাহলে।

মিষ্টি মধুর দিনগুলো আজ শুধুই স্মৃতিকথা,
সারাজীবন থাকবে আমার হৃদয়পটে গাঁথা।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026