এখানেই আমার শেষ ঠিকানা
- রুহুল আমীন রৌদ্র

বরযাত্রীও এসে গেল।
সমসাময়িক আমার গন্তব্যও একই মোহনায়।
মেয়েটির কপালে তখন কাঁচা হলুদ মাখা,
সখিগণ মত্ত মেহেদী আল্পনায়।
ছোটবড় তিনটি মেঠোঘর,
দক্ষিণ পাশটা উন্মুক্ত,
উঠোনের ঠিক মাঝখানে পাথরের মত নির্বাক আমি।
পাশের গোলাপ গাছটায় দুটি গোলাপ নেতানো,
হয়ত পানি মেলেনি সারাদিন,
আমি স্পষ্ট দেখছি গোবরের পদ্মফুলটি,
অথচ ঠায় নির্বাক দন্ডায়মান।
সহসাই তার অসহায় নির্বাক দৃষ্টির শর,
ছিঁদ্র করে গেল এ ধমনী,
তথাপিও নির্বাক দন্ডায়মান,
যেন ভঙ্গুর এক কাঁচা উঁইঢিবি,ক্ষীণ আঘাতে পতনপেক্ষা।
ফুফু তো অবাক,
"তুমি এসেছো বাবা "!
নির্বাক, অথচ মস্তক সম্মতি।
মেয়েটির চুলগুলোও এলোমেলো,
পরনে সাদাসিধে একটি পোশাক,
তবুও স্পষ্টত ষোড়শিনী যৌবনদীপ্ততা।
অশ্রুর নির্ঝর তখনো প্রবাহতর,
বৃত্তাকার সূর্যটি নুঁয়ে পড়েছে বাঁশঝাড়ে।
পাথর চোখদুটো তখনো অলীক আচ্ছন্নতা,
সত্যিই কি এমনটা ঘটে যাচ্ছে ?
নিরুত্তর প্রশ্ন।
গোধূলীর অন্তিম প্রভাটুকু লুটেপুটে খেল বরযাত্রী,
রপ্ত প্রসাদভোজন।
আজ ভাঙাকুলোয় লুটে খাবে পূর্ণশশী ,
অথচ নিস্ক্রীয় নিথর গগণ।
অসীম ব্যস্ততায় পূর্ণ এ নিলয়,
ক্ষণে ক্ষণে কিশোরীদের অট্টহাসি,
শুধু কালবোশাখের কাদম্ব তার বদনে।
কি যন মোহের প্রবল টানে, সকল বাঁধ দুমড়ে মুচকে,
যেন বাঁধন ছেঁড়া উল্কার ন্যায়, অপ্রতিরোধ্য ক্ষিপ্রতায়,
আচমকা মেয়েটি আমার বুকে !
স্তব্ধ হয়ে গেল সব আয়োজন,
অতঃপর, কম্পণরত অধর নিঃশ্রিত শিঁকল ভাঙা আর্তনাত,
"আমি যাব না, কোথ্থাও যাব না,
এখানেই আমার সমাধি, এখানেই আমার শেষ ঠিকানা"।
অতঃপর বুকের পাঁজড় ভেঙে বেড়িয়ে এলো,
পিছু ফেলা অজস্র বিষাদ মধু স্মৃতি।
--০--


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026