স্বাধীনতার সূর্যোদয়
- শরিফুল ইসলাম - স্বাধীনতার সূর্যোদয়

স্বাধীনতার এই দীর্ঘ সময় পেরিয়ে আজকের এই মার্চে এসে আমরা কী দেখছি?
এক অস্থির বাংলাদেশ।
বিপদসংকুল বাংলাদেশ।
পেট্রোল বোমার আতঙ্কে কম্পমান বাংলাদেশ।
রাজনীতির নামে সহিংসতা এমনি পর্যায়ে
খোদ রাজধানীর প্রকাশ্য রাজপথে কুপিয়ে হত্যা করা হচ্ছে ভিন্নমতের মানুষকে। অভিজিতের মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা নিথর দেহ
তার রক্তাক্ত স্ত্রীর অসহায় আকুতির ছবিগুলো দেখলে—
বারবার একটি প্রশ্নই জর্জরিত করে:
আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম?
সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনির রক্তাক্ত লাশ
মনে করিয়ে দেয় স্বাধীনতার সূর্য এখনো ওঠেনি।
তনুর ধর্ষিত লাশ অলক্ষে বলে যায়
কৈ বাংলাদেশ তো স্বাধীন হয়নি।
বাঙালি জাতির সহস্র বছরের ইতিহাস
গৌরবগাথা স্বাধীনতা অত্যন্ত চড়া দামে কেনা।
একাত্তরের মার্চের উত্তাল দিনগুলো এখনো আমাদের শিহরিত করে,
আতঙ্কিত করে, আবার সাহসীও করে।
মার্চে সেই ভয়াল কালরাত্রি এসেছিল
আবার তা ভোরও হয়েছিলো নতুন সূর্যোদয়ের মধ্য দিয়ে।
মার্চ স্বাধীনতার মাস। সর্বোত্তম অর্জনের মাস।
বাঙালির জাতীয় জীবনের সকল অর্জনের প্রতীক।
একাত্তরের মার্চের ইতিহাস, রক্তাক্ত বাংলাদেশের ইতিহাস।
পঁচিশ মার্চের কালো রাত্রের ইতিহাস
সহস্রাধিক মানুষকে হত্যা করার ইতিহাস।
তারপরও কেনো আবার রক্তপাত?
কেনো অগ্নিদাহ?
মহান স্বধীনতার অঙ্গীকারে আমরা ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলেছিলাম।
শত্রুর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম।
স্বাধীনতার সংগ্রাম করেছিলাম।
মুক্তির সংগ্রাম করেছিলাম।
স্বাধীনতা ছিনিয়েও এনেছিলাম।
কিন্তু ঈপ্সিত মুক্তি অর্জন কি হয়েছে?
কেনো হয়নি?
তাহলে এখন আমরা কার অধীন?
আমরা কি স্বাধীন শুধু ভূখণ্ড, পতাকায়, আর সঙ্গীতে?
এখনো একাত্তরের পরাজিত শক্তি ছড়ি ঘোরায় আমাদের মাথার ওপর।
আর কোনো রক্ত দেখতে চাই না।
আর কোনো দহন দেখতে চাই না।
স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের মার্চগুলো, মাসগুলো, দিনগুলো, মুহূর্তগুলো—
আর রক্তাক্ত দেখতে চাই না।
অনেক রক্ত দেখেছি।
এখন সেই রক্তঋণ শোধ করার পালা।
অনেক হয়েছে অত্যাচার অনাচার, আর নয় নির্যাতন,
নিদ্রা ছেড়ে উঠেছে জেগে মুক্তিকামী জনগন;
বীর বাঙালী মুক্তির চেতনায়
দৃষ্টি আজ পুর্ব আকাশে স্বাধীনতার সূর্যোদয়।

২৮।০২।২০১৭ গাজীপুর


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।