মাঝরাতের ঠিকানাবিহীন চিঠি
- বিচিত্র বিশ্বাস নীল

তোমায় চিঠি লিখতে ইচ্ছে করছে। মাঝরাতে হঠাৎ করে ঘুম ভেঙ্গে
গেলেই এই ইচ্ছেটা আমার হয়।আমার
ইচ্ছে হয় যে আমি মনে মনে তোমায়
চিঠি লিখে যাবো।আর তুমি সেই
চিঠি ঠিকই পেয়ে যাবে।আমার
মতনই কোন এক রাত জাগা পৃথিবীতে
তুমি খুব একা, ভীষনই একা।আর তখন
গভীর করেই পেয়ে যাবে আমার
চিঠিখানা।
কি অদ্ভুত তাই না?
আমার যে এই চিঠিখানা লিখতে
কোন কাগজ লাগবে না, কলম লাগবে
না, খাম লাগবে না, ঠিকানা
কিংবা একটা পোষ্ট অফিসও
লাগবে না।আমি কেবলই বলবো আর
তুমি শুনবে। সে তুমি যেখানেই
থাকো না কেনো।
যাহ্, সে কখনো হয় নাকি বলো?
আমি জানি সেরকমটি হয় না।
তবে বুকের মধ্যে যাদের আস্ত একটা
সমুদ্র থাকে।আর সেই সমুদ্রের জল ছুঁয়ে
যাদের বুকে হু হু করে হাওয়া বয়ে
যায়।তারপর টুপ করে মাঝরাত্রিরে
তাদের ঘুম ভেঙ্গে যায়।
এ কেবল তাদেরই মনে হয়, শুধুই
কেবলমাএ তাদেরই।
বাদবাকি পৃথিবী আর সেই সকল
পৃথিবীর মানুষ কেউই এই কথা জানে
না।
আচ্ছা তোমার বুকের মধ্যে এমন
চুপচাপ করে থাকা কি একটা সমুদ্র
আছে, যেটি হুটহাট করেই উন্মাতাল
হয়ে উঠে?
কি বিক্ষুব্ধ ঝঞ্ঝা তাই না?
জলোচ্ছ্বাস, কান্না, কষ্ট,
তারপর চুপ! একদম চুপ!
শান্ত, ক্লান্ত, একা, নিঃশব্দ!
আর বুকের উপর থেকে বয়ে যাওয়া হু হু
করে হাওয়া।সেই হাওয়ায় কি
তোমার মন কেমন করে?
সেই মন কেমন করাতে কি তোমার খুব
কষ্ট হয়?
খুব বেশি কি কষ্ট?
হয় না জানি।
তারপরও তোমায় চিঠি লিখতে
ভালো লাগে। রোজ ঘুম ভাঙ্গা
রাত জেগে থাকতে ভালো লাগে।
আসলে ভালো লাগার চেয়েও বড়
যেটি, তার নাম হলো অভ্যেস।
আমার অভ্যেস হয়ে গেছে
আমি তাই জেগে থাকি। জেগে
জেগে তোমার কাছে চিঠি
লিখি।সেই চিঠিতে কত কথাই না
থাকে।
তোমার কথা, আমার কথা, সর্বোপরি
আমাদের কথা!
আমি জানতাম,
আমাদের কথা বললেই তুমি রেগে
যাবে।
কিন্তু কি করবো বলো?
আমার এরকমটি ভাবতে যে ভীষনই
ভাল লাগে।
ছোট্ট একটি ঘর, ঘরের ভিতরে ছোট্ট
একটি দেলনা, দোলনার ভিতরে
ছোট্ট একটি পুতুল, সেই পুতুলটার
পাশে দোলনা ধরে দাড়িয়ে আছে
তারচেয়ে খানিকটা বড় একটা পুতুল।
আমরাইতো!
আমি, তুমি আর আমরা।
আমি জানি তুমি এখন নিশ্চই মুখে
ভেংচি কাটছো।কিংবা
হাসতেছো।
কিংবা ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছো
আমার দিকে। ভাবছো আমি কত বড়ই
না একটা পাগল!
সে শুধু তুমি কেনো, সবাই তো তাই-ই
ভাবে।
সবাই!
কেউ বিশ্বাস করতে চায় না যে-
কাগজ, কলম কিংবা কালি ছাড়াও
এমন করে চিঠি লেখা যায়। সেই
চিঠিখানা আবার তোমার কাছে
পৌঁছে দেওয়াও যায়।
তারা শুধুই ভাবে যে চিঠি লিখতে
কাগজ লাগে, কলম লাগে।
সেই চিঠি পৌঁছে দিতে
নিদেনপক্ষে একখানা খাম, সেই
খামে ঠিকানা।
আর, একখানা পোষ্ট অফিসও লাগে।
কিন্তু জানো?
তারা কেউ বোঝে না, এই পৃথিবীর
কোন পোষ্ট অফিসই যে অন্য জগতের
ঠিকানা জানে না।
কখনই কেউ জানে না।
কেউই না!
আমার তবুও তোমায় রোজ রোজ
চিঠি লিখতে ইচ্ছে হয়। অনেক
অনেক বড় করে লম্বা একখানি চিঠি।
আর লিখিও।
কিন্তু ঐ যে, সবাই আমায় পাগল
ভাবে। ঠিক তোমারই মতো করে।
এই একজনমে না হয় আমি পাগল হয়েই
এমনিকরে কাটিয়ে দিলাম।
আজকাল আমার হাতখানাও বেঁধে
রাখে জানো? পা-ও বাঁধা।
আমার কেবলই হাসি পায়!
ভাবখানা এমন যেনো,
আমি তোমায় হাত পা দিয়েই
চিঠি লিখি।
কি অদ্ভুত তাই না?
আরে বাঁধবিতো মনটাকে বাঁধ! হাত-
পা কেনো?
এই যে রোজ মাঝরাতে আমি
তোমায় ঠিক ঠিক চিঠে লিখি।
সে কি দিয়ে? হাত? পা? নাকি মন?
কি বোকা মানুষ! সবই সত্যিই পাগল!
অথচ কি অদ্ভত দেখো,
তারা সবাই পাগল বলে আমায়!
আচ্ছা মৃত্যু কেমন? খুব বেশি কষ্ট?
তারপরে কি হয় ঘুমের মতন? ঘোরের
মতন? নাকি অন্য কিছু!
সেই অন্য রকমটা কিসের মতন? কি
জানি?
আমার না, খুব মৃত্যু দেখতে ইচ্ছে হয়।
আসলে মৃত্যু না, আমার খুব তোমায়
দেখতে ইচ্ছে হয়। খুব, খুব বেশি।
কতদিন হয়ে গেছে তোমায় দেখি
না।
আর যে আমি পারছি না এভাবে
থাকতে।
কিন্তু মৃত্যু ছাড়া তোমার কাছে
যাবার আর উপায় কি বলো?
তোমায় চিঠি লিখতে ইচ্ছে করছে।
এমনি মাঝরাতে দুম করে ঘুম ভেঙ্গে
গেলেই এই ইচ্ছেটা আমার হয়।
বিশ্বাস করো,
খুব ইচ্ছে হয় এই ইচ্ছেটা একদিন আমার
মরে যাক। আর মৃত্যু হোক আমার।
আমার মৃত্যু মানেই তো অবশেষে
আমাদেরই মৃত্যু।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।