ইচ্ছের পূর্নতার ওপ্রান্তে!
- বিচিত্র বিশ্বাস নীল - °নীলান্তি°
ফোনের ওপ্রান্তে °নীলান্তি° তুমি
অনর্গল কথা বলে চলছো। আর এই প্রান্তে বসে
আমি কান পেতে শুনছি। চোঁখে
মুখে
আমার
রাজ্যের মুগ্ধতা।
.....
তুমি যে মিষ্টি করে
কথা বলো। মাঝে মাঝে মিষ্টি করে
হেসে ওঠো।
এই শুনে শুনে
আমার হৃদয়ে ঝড়
ওঠে।
কথার মধ্য দিয়ে বিনিময় করছি আমরা
ভালবাসায় পূর্ণ মিষ্টি অনুভূতির। টিক
টিক করে সময় গড়াচ্ছে।
আর কথার গাড়িও আমাদের
ছুটে
চলছে।
--- নীল, ও নীল,
- হ্যাঁগো… বলো শুনছি [ঘুম ঘুম চোঁখে]
--- কি শুনছো বলো তো তুমি?
- 'ওগো’… সত্যিই শুনছি তো।
--- হয়েছে হয়েছে তুুমি কচু শুনছো।
- হুম…।
--- আবার হুম…?
দিন দিন কিন্তু ঘুমবাবু হয়ে যাচ্ছো।
- না এবার ঠিক আছে।আর ঘুমোবো না।এই যে উঠে বসেছি।এবার তুমি যেটা বলতে ছিলে সেটিই বলো।
--- আচ্ছা শুনোনা, আমার না খুব ইচ্ছে করে জানোতো ..
- তা কি ইচ্ছে করে আমার প্রাণেশ্বরীর?
--- উহু, আগে বলতে দিবা তো।
..
জানো নীল, আমার খুব ইচ্ছে
করে কোন এক বিকেলে সত্যিই তোমার
সাথে আমার দেখা হয়ে যাবে। তুমি নীল
শার্ট
পরে আসবে। সাথে থাকবে একটা
সাদা
রঙের বাইসাইকেল। সাইকেলের
পেছনে
বাঁধা থাকবে একঝাক রঙ বে-রঙের
বেলুন।
আর সামনের অংশটা সাজানো
থাকবে আমার পছন্দের সব ফুল দিয়ে।
তারপর তুমি আমাকে
সামনে বসিয়ে
কোন এক মেঠো পথ ধরে ক্রিং ক্রিং
বেল বাজিয়ে চলে যাব আমরা
অনেক দূরে ...।
.....
তারপর
শোননা ... একসময় আমরা একটা নদীর
পাড়ে যেয়ে থামব।
নদীর পাড় জুড়ে
থাকবে কাশফুল আর কাশফুল। আমি
অনেক গুলো
কাশফুল তুলব।
তুমি কাশফুলগুলো আমায় গায়ে
স্পর্শ করিয়ে শিহরীত করে দিবে।
.....
সবুজ ঘাসের বুকে আমরা দুজনে
পাশাপাশি গা ঘেষে বসবো।
তুমি পিছন থেকে হাত ঘুরিয়ে আমায়
জড়িয়ে ধরবে।
আর আমরা আমাদের
ইচ্ছেগুলো ও ভালবাসার কথা বলবো।
....
তুমি আমার কোলে শুয়ে আমায়
প্রানভরে দেখবে।
সেদিন আমি তোমায় জড়িয়ে তোমার
বুকেতে মাথা রাখবো।
আর তুমি আমায় বুকেতে জড়িয়ে আদরে-
সোহাগে আমায় ভরিয়ে দিবে।
.....
সেখানে নদীর পাড়ে
একটা নৌকা বাঁধা থাকবে। তখন
গোধূলী
লগ্ন বিকেল
পেরিয়ে সন্ধ্যা নামবে। আমরা
নৌকায়
উঠব।
.....
প্রিয়টি আমার তুমিই কিন্তু নিজের হাতে
বৈঠা
বাইবে।
তারপর চাঁদের আলো দলবেধে
পৃথিবীতে
নেমে
আসবে। আমরা তখন মাঝ নদীতে থাকবো।
.....
চারিদিকে শুধুই জলে জলে টইটম্বুর।
চাঁদের ছায়া
পড়বে
নদীর বুকে।
বাবু, তুমি তখন চিৎকার করে বলবে,
``নীলান্তি ভালবাসি শুধুই তোমায়``
``আই লাভ ইউ``
.....
- বুঝলাম।আমরা কি তবে বাড়ি ফিরব না নীলান্তি?
--- উহু, তুমি কিন্তু খুব জ্বালাচ্ছো।
- ঠিক আছে আর জ্বালাবোনা।তবে
এইটুকু বলনাগো… ঘুম পেলে কি করবো?
---কেনো আমার কোলে মাথা
রেখে ঘুমিয়ে
যাবে।
আমি আদর করে তোমার ঘুম পাড়িয়ে দিবো।
এভাবেই ছুটে চলছে আমার ভালবাসার কথার গাড়ি। তুমিও
কথা বলে যাচ্ছো আমার হৃদয়ে স্বপ্ন এঁকে।
.....
বেশ কিছুদিন পর এক বিকেলে তুমি ঘুমিয়ে আছো।
বাসার নিচে
কে
যেনো ক্রিং ক্রিং শব্দে অনবরত
সাইকেলের বেল বাজাচ্ছে। বিরক্ত
মুখে
তুমি উঠে গিয়ে বারান্দায়
দাড়িয়েছো।
...
আর নিচে তাকাতেই দেখলে
নীল শার্ট
পরা
একটা ছেলে সাইকেল নিয়ে
দাড়িয়ে আছে।
এ যে তোমারই নীল।
..
সাদা রঙের সাইকেলের পেছনে
অনেকগুলা রং বে-রঙের বেলুন।
আর সামনের অংশটা
তোমার পছন্দের সকল
ফুল দিয়ে
সাঁজানো।
তুমি ভাবলে যে এটা হয়তো তোমার
মনের
ভুল।
সে যা দেখতেছো হয়তো এটা স্বপ্ন।
তোমার ফোন
বাজিতেছে।
কেননা আমি তোমায়
ফোন করেছি যে।
কাঁপা
কাঁপা
হাতে ফোনটা রিসিভ করলে।
.....
আমি বললাম--,
'ওগো’… শুনছো…,
ওয়ারড্রবের তৃতীয়
ড্রয়ারে একটা নীল শাড়ি রাখা
আছে।
ওটা পরে ঝটপট করে নিচে এসোতো..!!
বিকেল
কিন্তু ফুরিয়ে গেল গেল।
আর হ্যা, কপালে ছোট্ট করে
একটা নীল টিপও পড়িও কিন্তু।
চোঁখে একটু কাজলও দিও।
আর শোন- শোন-
ঐ মধুর ঠোঁটে গোলাপি লিপষ্টিক দিতে
আবার যেনো কোন ভুল না হয়।
এটা বলে ফোন রেখে দিলাম।
তুমিও সেঁজে ঝটপট
করে নিচে নামলে।
এসে আমার সামনে দাড়ালে।
হৃদয়ের সমস্ত ভালবাসা নিয়ে
আমি তোমার মায়াবী চোঁখে চোঁখ
রাখি।
.....
˝রূপসীগো˝,
তোমার কাজলটানা চোঁখে টলমল করা
চোঁখের জলে মনে হচ্ছে চোঁখ
দুটো যেন বিশাল কাজলদিঘী।
আমি তোমার হাত ধরে ধরে বলেছি-
-প্রাণেশ্বরী,
তোমার ঐ কাজলদিঘী
চোঁখে
আমি
ডুবে যেতে চাই।
.....
এই চলোনা গো… নীল আকাশের
নিচে দুজন মিলে ভালবাসা খুঁজব।
দুজন দুজনাকে অনেক বেশি করে ভালবাসবো। তবে
আজ কিন্তু তুমি সাইকেল চালাবে
আর
আমি বসে থাকব।
হ্যা…।
.....
এই শুনে অভিমানে তুমি মধুমাখা মিষ্টি
ঠোঁটদুটি ফুলিয়ে আছো।
আর আমি তোমার সেই সৌন্দর্য দেখে
মুচকি
করে হেসে
তোমায় সাইকেলে তুলে নিই।
.....
ক্রিং
ক্রিং বেল বাজিয়ে মেঠো পথ ধরে
এগিয়ে
যাচ্ছি আমরা। হয়ত একটু দূরেই
সাদা সাদা কাশফুলে ঢাকা কোন
নদীর পাড়ে নৌকাটা
অপেক্ষা করছে
আমাদেরই জন্য।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।